Bangladesh Icon
আইকন সংবাদ:

বেগম রোকেয়া

মুসলিম নারীশিক্ষা আন্দোলনের অগ্রপথিক


এমন একটা যুগ ছিল, যখন মুসলিমসমাজে নারীকে তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হতো। শিক্ষার আলো থেকে সরিয়ে রাখা হতো দূরে। সামাজিকতার নামে তাদের করা হতো গৃহবন্দি। এই অবস্থায় এক সাহসী রমণী আপন শক্তিবলে বলীয়ান হয়ে এগিয়ে এলেন আলোর মশাল হাতে। প্রচণ্ড সাহসে ভর করে দাঁড়ালেন বাংলার অসহায় ও গৃহবন্দি মুসলিম নারীসমাজের পাশে। গড়ে তুললেন নারীজাগরণের আন্দোলন, দূর করলেন কুসংস্কারের অন্ধকার সবার মধ্যে ছড়িয়ে দিলেন জ্ঞানের আলো। এই মহীয়সী নারীরই নাম বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন।

সেদিন তিনি দুঃসাহস নিয়ে একাই এসে দাঁড়িয়েছিলেন অবহেলিত মুসলিম নারীসমাজের পাশে। অশিক্ষার আঁধার এবং সমস্ত বাধাকে তিনি সেদিন একাই সরিয়ে দিয়েছিলেন দূরে। আজ যে মুসলিম নারী শিক্ষাদীক্ষার সুযোগ লাভ করেছে ও সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে, সমাজে সম্মানের আসন পেয়েছে, এর পেছনে রয়েছে বেগম রোকেয়ার অসামান্য অবদান।

বেগম রোকেয়ার জন্ম ১৮৮০ খ্রিস্টাব্দের ৯ ডিসেম্বর রংপুর জেলার বর্তমান মিঠাপুকুর উপজেলার পায়রাবন্দ গ্রামে। পিতা ছিলেন জহিরুদ্দীন মোহাম্মদ আবু আলী সাবের। মায়ের নাম মোসাম্মৎ রাহাতননেসা সাবেরা চৌধুরাণী । পৈতৃক নাম রাখেবা খাতুন। বিয়ের পর স্বামীর নাম যুক্ত হয়ে হয় রোকেয়া শাখাওয়াত হোসেন। বেগম রোকেয়ারা ছিলেন পাঁচ ভাই-বোন। বোনদের মধ্যে তিনিই ছিলেন বড়।।

পায়রাবন্দ গ্রামের সাবের-পরিবার সেকালে ছিল ধনে-মানে এবং শিক্ষা ও বংশগৌরবে এই অঞ্চলের সেরা। এ পরিবারের মেয়েরাও ছিল খুব পর্দানসীন। একেবারে নিকট-আত্মীয়স্বজন ছাড়া কখনও কারো সামনে তারা বের হতেন না। বেগম রোকেয়ার শৈশবকালও এমনই এক পরিবেশে কেটেছিল। তবে বড়ভাই ইব্রাহিম সাবের ছিলেন আধুনিক চিন্তাচেতনার অধিকারী। তিনি চাইতেন মুসলিম সমাজের মেয়েরাও শিক্ষাদীক্ষায় এগিয়ে যাক। কিন্তু তিনি এমন অগ্রসর চিন্তাচেনার অধিকারী হলেও, সমাজের কুসংস্কারের বিরুদ্ধে সরাসরি মাথা তুলে দাঁড়াবার সাহস তাঁর ছিল না। তাই তিনি আপন বোন বেগম রোকেয়াকে গোপনে লেখাপড়া করাতেন। তিনি চাইতেন বোন রোকেয়ারও শিক্ষালাভ করুক, মানুষ হোক। লেখাপড়ার প্রতি বেগম রোকেয়ারও ছিল প্রচণ্ড আগ্রহ।

গভীর রাতে সবাই যখন ঘুমিয়ে পড়তেন, তখন বেগম রোকেয়া চুপি চুপি চলে আসতেন বড়ভাইয়ের কাছে। তারপর চলত মোমের আলোতে পড়ালেখা, যাতে আর কেউ জানতে না পারে। এমনি করেই বেগম রোকেয়া বাল্যকালে বড়ভাইয়ের কাছে উর্দু, আরবি, পারসি, বাংলা এবং ইংরেজি ভাষা শিক্ষা লাভ করেন। আনুষ্ঠানিকভাবে বিদ্যালয়ে গিয়ে লেখাপড়া করার সুযোগ তাঁর কখনও হয়নি। তবু তিনি নিজের চেষ্টাতেই যে জ্ঞান অর্জন করেছিলেন, তার মূল্যও ছিল অনেক। বিশেষ করে বাংলাভাষায় তার দক্ষতা ছিল অপরিসীম। শৈশবকাল থেকেই তার ভেতরে দেখা দেয় সৃজনশীল প্রতিভা। তিনি সাহিত্যচর্চায় মনোনিবেশ করেন কিশোর বয়সেই। তাঁর এই প্রতিভা পরবর্তীকালে আরও বিকশিত হয়েছিল এবং বাংলা সাহিত্যে তার নিজের আসনকে করেছিলেন সুপ্রতিষ্ঠিত।

আঠারো বছর বয়সে ১৮৯৭ খ্রিস্টাব্দে বিয়ে হয় বেগম রোকেয়ার। স্বামী ছিলেন বিহারের অন্তর্গত ভাগলপুর অঞ্চলের ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট খানবাহাদুর সাখাওয়াত হোসেন। তিনিও ছিলেন একজন উচ্চশিক্ষিত মুসলিম যুবক। সবচেয়ে বড় কথা, তিনিও ছিলেন রোকেয়ার বড়ভাই ইব্রাহিম সাবেরের মতো সংস্কারমুক্ত মনের অধিকারী। তাই এ বিয়ে বেগম রোকেয়ার জীবনে এনে দিয়েছিল সুখ এবং শান্তি। পাশাপাশি জ্ঞানার্জন ও সাহিত্যচর্চার সুযোগ। স্বামী সাখাওয়াত হোসেন নিজেও স্ত্রীকে উৎসাহ দিতে থাকেন। সহযোগিতা করতে লাগলেন সর্বক্ষেত্রে । এই সময় থেকেই রোকেয়া সাহিত্যচর্চায় মনোনিবেশ করেন।

তাঁর সাহিত্যচর্চার বিষয়বস্তু ছিল সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী। তিনি যে সমাজ ও পরিবেশে মানুষ হয়েছিলেন; সেই সমাজে কুসংস্কার, নারীসমাজের প্রতি অবহেলা ও বঞ্চনার যে করুণচিত্র নিজের চোখে দেখেছেন, যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছিলেন, তাকেই তিনি ভাষায় রূপ দিতে লাগলেন। সেই করুণ চিত্ৰকে তুলে ধরতে লাগলেন সকলের চোখের 'পদ্মরাগ', মতিচুর’, ‘সুলতানার স্বপ্ন’ প্রভৃতি গ্রন্থে তাঁর এসব অভিজ্ঞতার নির্যাসকেই তুলে ধরা হয়েছে। ‘সুলতানার স্বপ্ন’ গ্রন্থে তিনি নারীসমাজের পরিপূর্ণ প্রতিষ্ঠার স্বপ্নের কথাই তুলে ধরেছেন।

বেগম রোকেয়ার দাম্পত্যজীবন সুখের হলেও এই জীবন তাঁর দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। আঠারো বছর বয়সে তাঁর বিয়ে হয়েছিল। কিন্তু সাতাশ বছর বয়সেই তিনি বিধবা হন। বেগম রোকেয়ার স্বামী সাখাওয়াত হোসেন ইন্তেকাল করেন। ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দে। স্বামীর মৃত্যুর পর বড়ই একা হয়ে যান তিনি।

স্বামীর মৃত্যুজনিত প্রাথমিক শোক কাটিয়ে ওঠার পর তিনি তার ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা বিষয়ে স্থির সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন। তিনি ঠিক করলেন, কর্মসাধনার মাধ্যমেই উৎসর্গ করবেন নিজের জীবন। কর্মের মধ্য দিয়েই চিরঅমর করে রাখবেন তাঁর প্রিয়তম স্বামীর স্মৃতিকে।স্বামী সাখাওয়াত হোসেনও তাঁর স্বল্পকে বাস্তবায়িত করার জন্য চেষ্টা করেছিলেন। এর জন্য নিজের আয় থেকে রোকেয়াকে দশ হাজার টাকাও দিয়েছিলেন । কথা ছিল এই জমানো টাকা থেকে রোকেয়া মুসলিম নারীশিক্ষা আন্দোলন গড়ে তুলবেন। স্বামীর দেয়া সেই সঞ্চিত অর্থ এবং তাঁর স্মৃতিকে সম্বল করেই তিনি নেমে পড়লেন কাঙ্ক্ষিত কর্মসাধনায় ।

স্বামীর মৃত্যুর মাত্র মাস কয়েক পরেই তিনি ভাগলপুরে মাত্র পাঁচজন মুসলিম ছাত্রী নিয়ে একটি বালিকা বিদ্যালয় স্থাপন করেন। অনগ্রসর মুসলিম নারীসমাজকে জাগিয়ে তোলা এবং তাদেরকে শিক্ষার আলোকে আলোকিত করার সাধনায় করলেন আত্মনিয়োগ। কিন্তু প্রথম প্রচেষ্টা তার সফল হলো না। নিঃসস্তান রোকেয়ার স্বামীর প্রথমপক্ষের স্ত্রীর একমাত্র কন্যাসন্তান তার মহৎ কর্মসাধনার পথে বাধা হয়ে দাড়ালেন। এই সৎমেয়ে বিষয়-সম্পত্তি নিয়ে বেগম রোকেয়ার সঙ্গে শুরু করলেন চরম দুর্ব্যবহার। ফলে ভাগলপুরে থাকাই অসম্ভব হয়ে পড়ল বেগম রোকেয়ার পক্ষে। তিনি ১৯১০ সালে স্বামীর ভিটে ভাগলপুর ছেড়ে চলে এলেন কোলকাতায় । সেইসঙ্গে স্থানান্তরিত হলো সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলটিও। তিনি কোলকাতায় এসে আবার শুরু করলেন স্কুল স্থাপনের কাজ।

কোলকাতার ১৩ নম্বর ওয়ালিউল্লাহ লেনের একটি বাড়ি ভাড়া নেয়া হলো স্কুলের জন্য। এখানেই ১৯১১ সালের ১৬ মার্চ থেকে বসল নতুন স্কুল। দু’খানা বেঞ্চ আর মাত্র আটজন ছাত্রী নিয়ে শুরু হলো তার যাত্ৰা । এদিকে এই সময় উপস্থিত হলো আরেক বিপদ। রোকেয়া স্কুলের ফান্ডের যে দশ হাজার টাকা ব্যাংকে জমা রেখেছিলেন, সে ব্যাংক দেউলিয়া ঘোষিত হলো। কিন্তু তবু ভেঙে পড়লেন না। তিনি। এবার তিনি নিজের টাকা থেকেই আরও তিরিশ হাজার টাকা দান করলেন স্কুলের জন্য।

এক বছরেই ছাত্রীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ২৭ জনে। পরের বছর (১৯১৩) বাড়ল আরও ৩ জন। শিক্ষার্থীর সংখ্যা দাঁড়ালো ৩০ জন। ছাত্রীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় এখানে আর স্থান সংকুলান হলো না। এবার স্কুল সরিয়ে আনা হলো ১৩ নম্বর ইউরোপিয়ান অ্যাসোসিয়েশন লেনে। দু’বছরের মধ্যে ছাত্রী সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল একশতের ওপরে। তাই আবার স্থান সংকুলানের সমস্যা দেখা দিল। আবারও স্কুল সরানোর সমস্যা দেখা দিল । এবার স্কুল সরিয়ে আনা হলো ৮৬/৩ নম্বর লোয়ার সাকুলার রোডে। বর্তমানে এটি অবস্থিত কোলকাতার ৯ নম্বর নর্থ সিংহ রোডে।

এই-যে এতদিন স্কুলটি চলছিল, এর সবকিছুই কিন্তু বেগম রোকেয়া একাই করতেন। স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা থেকে সুপারিনটেন্ডেন্ট সবকিছুই ছিলেন তিনি। প্রথমদিকে তাঁর সঙ্গে ছিলেন দুজন মাত্র সহকারী শিক্ষিকা । এমনি করে সম্পূর্ণ একক প্রচেষ্টায় তিনি চালিয়ে যেতে লাগলেন স্কুলটি। ক্রমে এর প্রতি সুনজর পড়ল সরকারের। সরকার এবার নিজেও স্কুলটির প্রতি বাড়ালেন সাহায্যের হাত। ১৯১৭ খ্রিস্টাব্দে তৎকালীন বড়লাটের পত্নী লেডি চেমসফোর্ড এলেন স্কুলটি পরিদর্শন করতে। তিনি একটি সামান্য বাঙালি মুসলিম মহিলার কর্মসাধনা দেখে বিস্ময়ে হতবাক হয়ে গেলেন।

আনুষ্ঠানিকভাবে বিদ্যালয়ে গিয়ে লেখাপড়া করার সুযোগ তাঁর কখনও হয়নি। তবু তিনি নিজের চেষ্টাতেই যে জ্ঞান অর্জন করেছিলেন, তার মূল্যও ছিল অনেক। বিশেষ করে বাংলাভাষায় তার দক্ষতা ছিল অপরিসীম। শৈশবকাল থেকেই তার ভেতরে দেখা দেয় সৃজনশীল প্রতিভা। তিনি সাহিত্যচর্চায় মনোনিবেশ করেন কিশোর বয়সেই। তাঁর এই প্রতিভা পরবর্তীকালে আরও বিকশিত হয়েছিল এবং বাংলা সাহিত্যে তার নিজের আসনকে করেছিলেন সুপ্রতিষ্ঠিত।

আঠারো বছর বয়সে ১৮৯৭ খ্রিস্টাব্দে বিয়ে হয় বেগম রোকেয়ার। স্বামী ছিলেন বিহারের অন্তর্গত ভাগলপুর অঞ্চলের ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট খানবাহাদুর সাখাওয়াত হােসেন। তিনিও ছিলেন একজন উচ্চশিক্ষিত মুসলিম যুবক। সবচেয়ে বড় কথা, তিনিও ছিলেন রোকেয়ার বড়ভাই ইব্রাহিম সাবেরের মতো সংস্কারমুক্ত মনের অধিকারী। তাই এ বিয়ে বেগম রোকেয়ার জীবনে এনে দিয়েছিল সুখ এবং শান্তি। পাশাপাশি জ্ঞানার্জন ও সাহিত্যচর্চার সুযোগ। স্বামী সাখাওয়াত হোসেন নিজেও স্ত্রীকে উৎসাহ দিতে থাকেন। সহযোগিতা করতে লাগলেন সর্বক্ষেত্রে । এই সময় থেকেই রোকেয়া সাহিত্যচর্চায় মনোনিবেশ করেন।

তাঁর সাহিত্যচর্চার বিষয়বস্তু ছিল সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী। তিনি যে সমাজ ও পরিবেশে মানুষ হয়েছিলেন; সেই সমাজে কুসংস্কার, নারীসমাজের প্রতি অবহেলা ও বঞ্চনার যে করুণচিত্র নিজের চোখে দেখেছেন, যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছিলেন, তাকেই তিনি ভাষায় রূপ দিতে লাগলেন। সেই করুণ চিত্ৰকে তুলে ধরতে লাগলেন সকলের চোখের 'পদ্মরাগ', মতিচুর’, ‘সুলতানার স্বপ্ন’ প্রভৃতি গ্রন্থে তাঁর এসব অভিজ্ঞতার নির্যাসকেই তুলে ধরা হয়েছে। ‘সুলতানার স্বপ্ন’ গ্রন্থে তিনি নারীসমাজের পরিপূর্ণ প্রতিষ্ঠার স্বপ্নের কথাই তুলে ধরেছেন।

বেগম রোকেয়ার দাম্পত্যজীবন সুখের হলেও এই জীবন তাঁর দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। আঠারো বছর বয়সে তাঁর বিয়ে হয়েছিল। কিন্তু সাতাশ বছর বয়সেই তিনি বিধবা হন। বেগম রোকেয়ার স্বামী সাখাওয়াত হোসেন ইন্তেকাল করেন। ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দে। স্বামীর মৃত্যুর পর বড়ই একা হয়ে যান তিনি।

স্বামীর মৃত্যুজনিত প্রাথমিক শোক কাটিয়ে ওঠার পর তিনি তার ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা বিষয়ে স্থির সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন। তিনি ঠিক করলেন, কর্মসাধনার মাধ্যমেই উৎসর্গ করবেন নিজের জীবন। কর্মের মধ্য দিয়েই চিরঅমর করে রাখবেন তাঁর প্রিয়তম স্বামীর স্মৃতিকে স্বামী সাখাওয়াত হোসেনও তাঁর স্বল্পকে বাস্তবায়িত করার জন্য চেষ্টা করেছিলেন। এর জন্য নিজের আয় থেকে রোকেয়াকে দশ হাজার টাকাও দিয়েছিলেন । কথা ছিল এই জমানো টাকা থেকে রোকেয়া মুসলিম নারীশিক্ষা আন্দোলন গড়ে তুলবেন। স্বামীর দেয়া সেই সঞ্চিত অর্থ এবং তাঁর স্মৃতিকে সম্বল করেই তিনি নেমে পড়লেন কাঙ্ক্ষিত কর্মসাধনায় ।

স্বামীর মৃত্যুর মাত্র মাস কয়েক পরেই তিনি ভাগলপুরে মাত্র পাঁচজন মুসলিম ছাত্রী নিয়ে একটি বালিকা বিদ্যালয় স্থাপন করেন। অনগ্রসর মুসলিম নারীসমাজকে জাগিয়ে তোলা এবং তাদেরকে শিক্ষার আলোকে আলোকিত করার সাধনায় করলেন আত্মনিয়োগ। কিন্তু প্রথম প্রচেষ্টা তার সফল হলো না। নিঃসস্তান রোকেয়ার স্বামীর প্রথমপক্ষের স্ত্রীর একমাত্র কন্যাসন্তান তার মহৎ কর্মসাধনার পথে বাধা হয়ে দাড়ালেন। এই সৎমেয়ে বিষয়-সম্পত্তি নিয়ে বেগম রোকেয়ার সঙ্গে শুরু করলেন চরম দুর্ব্যবহার। ফলে ভাগলপুরে থাকাই অসম্ভব হয়ে পড়ল বেগম রোকেয়ার পক্ষে। তিনি ১৯১০ সালে স্বামীর ভিটে ভাগলপুর ছেড়ে চলে এলেন কোলকাতায় । সেইসঙ্গে স্থানান্তরিত হলো সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলটিও। তিনি কোলকাতায় এসে আবার শুরু করলেন স্কুল স্থাপনের কাজ।

কোলকাতার ১৩ নম্বর ওয়ালিউল্লাহ লেনের একটি বাড়ি ভাড়া নেয়া হলো স্কুলের জন্য। এখানেই ১৯১১ সালের ১৬ মার্চ থেকে বসল নতুন স্কুল। দু’খানা বেঞ্চ আর মাত্র আটজন ছাত্রী নিয়ে শুরু হলো তার যাত্ৰা । এদিকে এই সময় উপস্থিত হলো আরেক বিপদ। রোকেয়া স্কুলের ফান্ডের যে দশ হাজার টাকা ব্যাংকে জমা রেখেছিলেন, সে ব্যাংক দেউলিয়া ঘোষিত হলো। কিন্তু তবু ভেঙে পড়লেন না। তিনি। এবার তিনি নিজের টাকা থেকেই আরও তিরিশ হাজার টাকা দান করলেন স্কুলের জন্য।

এক বছরেই ছাত্রীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ২৭ জনে। পরের বছর (১৯১৩) বাড়ল আরও ৩ জন। শিক্ষার্থীর সংখ্যা দাঁড়ালো ৩০ জন। ছাত্রীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় এখানে আর স্থান সংকুলান হলো না। এবার স্কুল সরিয়ে আনা হলো ১৩ নম্বর ইউরোপিয়ান অ্যাসোসিয়েশন লেনে ।

দু’বছরের মধ্যে ছাত্রী সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল একশতের ওপরে। তাই আবার স্থান সংকুলানের সমস্যা দেখা দিল। আবারও স্কুল সরানোর সমস্যা দেখা দিল । এবার স্কুল সরিয়ে আনা হলো ৮৬/৩ নম্বর লোয়ার সাকুলার রোডে। বর্তমানে এটি অবস্থিত কোলকাতার ৯ নম্বর নর্থ সিংহ রোডে।

এই-যে এতদিন স্কুলটি চলছিল, এর সবকিছুই কিন্তু বেগম রোকেয়া একাই করতেন। স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা থেকে সুপারিনটেন্ডেন্ট সবকিছুই ছিলেন তিনি। প্রথমদিকে তাঁর সঙ্গে ছিলেন দুজন মাত্র সহকারী শিক্ষিকা । এমনি করে সম্পূর্ণ একক প্রচেষ্টায় তিনি চালিয়ে যেতে লাগলেন স্কুলটি। ক্রমে এর প্রতি সুনজর পড়ল সরকারের। সরকার এবার নিজেও স্কুলটির প্রতি বাড়ালেন সাহায্যের হাত |

১৯১৭ খ্রিস্টাব্দে তৎকালীন বড়লাটের পত্নী লেডি চেমসফোর্ড এলেন স্কুলটি পরিদর্শন করতে। তিনি একটি সামান্য বাঙালি মুসলিম মহিলার কর্মসাধনা দেখে বিস্ময়ে হতবাক হয়ে গেলেন।

এই স্কুল চালাতে গিয়ে তাকে পদে পদে বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে। সহ্য করতে হয়েছে নানারকরমের লাঞ্ছনা। বেগম রোকেয়া নিজেই তার বর্ণনা দিতে গিয়ে লিখেছেন : “আমাদের প্রথম মোটরবাস প্রস্তুত হইল পূর্বদিন। আমাদের স্কুলের জনৈক শিক্ষয়িত্রী মেমসাহেবা মিস্ত্ৰিখানায় গিয়া বাস দেখিয়া আসিয়া সংবাদ দিলেন যে, “মোটর ভয়ানক অন্ধকার। না বাবা, আমি কখনও মোটরে যাব না।” বাস আসিয়া পৌছিলে দেখা গেল, বাসের পশ্চাতের দ্বারের উপরে সামান্য একটু জাল আছে এবং সম্মুখ দিকে ও উপরের দিকে একটু জাল আছে। তিন ইঞ্চি চওড়া ও দেড় ফুট লম্বা জালাই টুকরা না থাকিলে বাসখানাকে সম্পূর্ণ এয়ারটাইট বলা যাইতে পারিত।

“প্রথমদিন ছাত্রীদের নতুন মোটরে বাড়ি পৌছানো হইল। চাকরানি ফিরিয়া আসিয়া সংবাদ দিল গাড়ি বডড গরম হয়। মেয়েরা বাড়ি যাইবার পথে অস্থির হইয়াছিল। কেহ কেহ বাসে বমি করিয়াছিল। ছোট মেয়েরা অন্ধকারে ভয় পাইয়া কাদিয়াছিল।

মোটরের খড়খড়িটা নামাইয়া দিয়া একটা রঙিন কাপড়ের পর্দা ঝুলাইয়া দিলেন। তথাপি স্কুলে আসিতে দেখা গেল দু-তিনজন অজ্ঞান হইয়াছে, দু-চারিজন বমি করিয়াছে, কয়েকজনের মাথা ধরিয়াছে ইত্যাদি। অপরাহে মেমসাহেবা বাসের দুপাশের দুইটি খড়াকড়ি নামাইয়া দুই খণ্ড পর্দা দিলেন। এইরূপে তাহাদের বাড়ি পাঠাইয়া দেওয়া গেল।

“সেদিন সন্ধ্যায় আমার এক পুরাতন বন্ধু মিসেস মুখাজী আমার সহিত দেখা করিতে আসিলেন। স্কুলের বিভিন্ন উন্নতির সংবাদে আনন্দ প্রকাশ করিয়া বলিলেন, আপনাদের মোটরবাস তো বেশ সুন্দর হইয়াছে। প্রথমে রাস্তায় দেখে আমি মনে করেছি যে আলমারি যাচ্ছে নাকি । চারদিকে একেবারে বন্ধ । তাই আলমারি বলে ভ্ৰম হল । আমার ভাইপো এসে বলল—‘ও পিসিমা, দেখ এসে, Moving Black Whole (চলন্ত অন্ধকূয়া) যাচ্ছে। তাই তো এর ভিতর মেয়েরা বসে কী করে?”

 "তৃতীয় দিনে অপরাহে চার-পাঁচজন ছাত্রীর মাতা দেখা করিতে আসিয়া বলিলেন, ‘আপকা মোটরতো খোদাকা পানাহ। আপ লাড়কীয়ো কো জীতে জী কবর মে তব রাহি হ্যায়।” আমি নিতান্ত অসহায়ভাবে বলিলাম : “কি করি, এরূপ না হইলে তো আপনারাই বলিতেন বেপর্দা গাড়ি।” তাহারা অত্যন্ত উত্তেজিত হইয়া বলিলেন : ‘তব কেয়া আপ জান মারকে পর্দা করেঙ্গী? কাল সে হামাড়ী লাড়কীয়ে স্কুল নেহী জায়েগী।” প্রত্যেক বাড়ি হইতে চাকরানির মারফতে ফরিয়াদ আসিয়াছিল যে, তাহারা আর মোটরবাসে আসিবে না।” ১৯৩১ খ্রিস্টাব্দে তাঁর স্কুল উচ্চ ইংরেজি স্কুলে উন্নীত হয়।

জ্ঞানের আলোয় নিয়ে আসা। তিনি বিশ্বাস করতেন নারীশিক্ষা ব্যতীত মুসলমান মেয়েদের আর কোনো পথ নেই। এই লক্ষ্যেই তিনি ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে গড়ে তোলেন আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম (মুসলিম মহিলা সমিতি)। তখনকার মুসলমান মেয়েরা ঘরের আঙিনা ছেড়ে বাইরে আসার কথা কল্পনাও করতে পারত না।

বেগম রোকেয়া দিনের পর দিন চেষ্টা করে ঘরে ঘরে গিয়ে তাদের বুঝিয়েছেন। তাদের মুখ থেকে ঘোমটার বেড়াজাল সরিয়েছেন এবং তাদেরকে ঘর থেকে বের করে এনেছেন। ধীরে ধীরে দেশের শাসন সংস্কার, নারীর রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং নারীর অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য শিল্প প্রতিষ্ঠা ইত্যাদির ব্যাপারে রেখেছে বিশিষ্ট ভূমিকা।

বেগম রোকেয়ার এ হলো একদিকের পরিচয় । বাংলা সাহিত্যের একজন স্বনামধন্য লেখিকা হিসেবেও তার পরিচয় নগণ্য নয় । লেখার হাতেখড়ি হয়েছিল অল্প বয়সে। ক্রমশ তা আরও পরিণত হয়।

বেগম রোকেয়ার সাহিত্যসাধনার একটি বৈশিষ্ট্য ছিল—তিনি নিজে জীবনে যা কিছু দেখেছেন, যে বাস্তব অবস্থার তিনি মুখোমুখি হয়েছেন, তাকেই অবিকল তুলে ধরেছেন তার রচনাকর্মের ভেতর দিয়ে ।

বেগম রোকেয়ার জীবিতকালেই তাঁর পাঁচটি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছিল। এগুলো যথাক্রমে : ১. মতিচুর (প্রথম খণ্ড)-১৯০৫, ২. সুলতানার স্বপ্ন—১৯০৮, ৩. মতিচুর (দ্বিতীয় খণ্ড)-১৯২১, ৪. পদ্মরাগ-১৯২৪ এবং ৫. অবরোধবাসিনী—১৯২৮।

তিনি মূলত প্ৰবন্ধ লিখতেন। তবে কবিতা, গল্প, উপন্যাস ও রম্যরচনাতেও সিদ্ধহস্ত ছিলেন।

বাংলা ছাড়াও তিনি ইংরেজি এবং উর্দুতে লিখতে পারতেন। ‘সুলতানার স্বপ্ন’ বইটি প্রথমে ইংরেজিতেই লেখা হয়েছিল Sultana’s Dream নামে। পরে তিনি তা অনুবাদ করেন বাংলায় ।

তাঁর আরও কিছু অনুবাদগ্রন্থ আছে। যেমন: ১. জেলিমিয়া হত্যা। মূল রচনা : মেরি করেনী; ২. নূর ইসলাম (উর্দু থেকে অনুবাদ)—মিসেস অ্যানি বেশান্তের ইংরেজি প্রবন্ধের উর্দু অনুবাদের বঙ্গানুবাদ।

রোকেয়া বলেছিলেন, চিরকাল আমি নারী স্বাধীনতার জন্য কিছু করবার চেষ্টা করেছি। আর আমি বিশ্বাস করি। আল্লাহ আমাকে এতে সাহায্য করবেন। বেগম রোকেয়ার সারাজীবনের সাধনা ছিল তাঁর স্কুল। এটাই ছিল তাঁর ধ্যান-জ্ঞান আর সাধনা। এই স্কুলের জন্য প্রচণ্ড খাটাখাটুনি আর দুশ্চিন্তাতেই তাঁর শরীর ক্রমে দুর্বল হয়ে পড়তে থাকে। ফলে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। এই অসুখেই তিনি ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দের ৯ ডিসেম্বর পরলোকগমন করেন। এভাবে পরিসমাপ্তি ঘটে মহীয়সী এক নারীর কর্মবহুল জীবনের।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান BANGLADESH ICON আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ আতিউর রহমান বেগম রোকেয়া মোস্তাফা জব্বার ভাষা শহিদ সজীব ওয়াজেদ জয় তাজউদ্দীন আহমদ শেরে বাংলা ফজলুল হক মাওলানা ভাসানী  প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার বেগম সুফিয়া কামাল শেখ হাসিনা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হোসেন শহিদ সোহরাওয়ার্দি কাজী নজরুল ইসলাম মাস্টারদা সূৰ্য সেন ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ মণি সিংহ স্যার ফজলে হাসান আবেদ  সালমান এফ রহমান সুফী মুহাম্মদ মিজানুর রহমান মোরশেদ আলম এমপি সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী আহমেদ আকবর সোবহান জয়নুল হক সিকদার দীন মোহাম্মদ আজম জে. চৌধুরী প্রফেসর মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন সাইফুল আলম মাসুদ আলহাজ্ব এম এম এনামুল হক খলিলুর রহমান এ কে এম রহমত উল্লাহ্ ইফতেখার আহমেদ টিপু শেখ কবির হোসেন এ কে আজাদ ডাঃ মোমেনুল হক আলহাজ্ব মোঃ হারুন-উর-রশীদ কাজী সিরাজুল ইসলাম নাছির ইউ. মাহমুদ ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল আজিজ শেখ ফজলে ফাহিম প্রফেসর ড. কবির হোসেন তালুকদার মোঃ হাবিব উল্লাহ ডন রূপালী চৌধুরী হেলেন আখতার নাসরীন মনোয়ারা হাকিম আলী নাসরিন সরওয়ার মেঘলা প্রীতি চক্রবর্তী মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির ক্যাপ্টেন তাসবীরুল আহমেদ চৌধুরী এহসানুল হাবিব আলহাজ্জ্ব জাহাঙ্গীর আলম সরকার আলহাজ্ব খন্দকার রুহুল আমিন তানভীর আহমেদ ড. বেলাল উদ্দিন আহমদ মোঃ শফিকুর রহমান সেলিম রহমান মাফিজ আহমেদ ভূঁইয়া  মোঃ ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ  শহিদ রেজা আব্দুর রউফ জেপি এডভোকেট ইকবাল আহমদ চৌধুরী এ কে এম সরওয়ারদি চৌধুরী ড. এম. মোশাররফ হোসেন মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন লায়ন মোঃ মোজাম্মেল হক ভূঁইয়া মোঃ মিজানুর রহমান সায়েম সোবহান আনভীর মামুন-উর-রশিদ বি এম ইউসুফ আলী মোঃ জামিরুল ইসলাম ডক্টর হেমায়েত হোসেন মোঃ শাহ আলম সরকার ফারজানা চৌধুরী এম. সামসুজ্জামান মেজর পারভেজ হাসান (অব.) এম এ মতিন সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল মাসুদ পারভেজ খান ইমরান ড. এম এ ইউসুফ খান কাজী সাজেদুর রহমান ড. হাকীম মোঃ ইউছুফ হারুন ভূঁইয়া আলহাজ্ব মীর শাহাবুদ্দীন মোঃ মুনতাকিম আশরাফ (টিটু) মোঃ আবদুর রউফ কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ আব্দুল মাতলুব আহমাদ মোঃ মজিবর রহমান মোহাম্মদ নূর আলী সাখাওয়াত আবু খায়ের মোহাম্মদ আফতাব-উল ইসলাম মোঃ সিরাজুল ইসলাম মোল্লা এমপি প্রফেসর ড. আবু ইউসুফ মোঃ আব্দুল্লাহ মোঃ জসিম উদ্দিন বেনজীর আহমেদ মিসেস তাহেরা আক্তার পারভীন হক সিকদার নাসির এ চৌধুরী হাফিজুর রহমান খান ড. মোহাম্মদ ফারুক কাইউম রেজা চৌধুরী মোঃ সবুর খান মাহবুবুল আলম মোঃ হেলাল মিয়া সেলিমা আহমাদ নজরুল ইসলাম ড. এ এস এম বদরুদ্দোজা ড. হায়দার আলী মিয়া ইঞ্জিনিয়ার গুলজার রহমান এম জামালউদ্দিন মোঃ আব্দুল হামিদ মিয়া মোঃ হাবিবুর রহমান মোঃ মুহিব্বুর রহমান চৌধুরী মোহাম্মদ নুরুল আমিন জিয়াউর রহমান ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী শ্যামল দত্ত জ ই মামুন আনিসুল হক সামিয়া রহমান মুন্নি সাহা আব্বাসউদ্দীন আহমদ নীলুফার ইয়াসমীন ফিরোজা বেগম শাহ আব্দুল করিম ফরিদা পারভীন সরদার ফজলুল করিম আনিসুজ্জামান আখতারুজ্জামান ইলিয়াস হুমায়ূন আহমেদ সেলিম আল দীন জহির রায়হান বুলবুল আহমেদ রওশন জামিল সৈয়দ হাসান ইমাম হেলেনা জাহাঙ্গীর অঞ্জন রায় অধ্যক্ষ আব্দুল আহাদ চৌধুরী অধ্যাপক আবু আহমেদ অধ্যাপক  আবু সাইয়িদ অধ্যাপক আমেনা মহসীন অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ অধ্যাপক জয়নাল আবদিন এমপি অধ্যাপক ড. আরিফুর রহমান অধ্যাপক ড. আব্দুল মতিন পাটোয়ারী অধ্যাপক ড. ইজাজ হোসেন অধ্যাপক ড. এ কে আজাদ চৌধুরী অধ্যাপক ড. এ কে আব্দুল মোমেন অধ্যাপক ড. এম এ মান্নান অধ্যাপক ড. এম এ হাকিম অধ্যাপক ড. এম শমসের আলী অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী অধ্যাপক ড. শাহেদা ওবায়েদ অধ্যাপক ড. সদরুল আমিন অধ্যাপক ড. হাফিজ জি. এ. সিদ্দিকী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন অধ্যাপক তৌহিদুল আলম অধ্যাপক ডা. বরেন চক্রবর্তী অধ্যাপক ডা. মতিউর রহমান অধ্যাপক ডা. মোঃ শারফুদ্দিন আহমেদ অধ্যাপক ডা. মোঃ হাবিবে মিল্লাত এমপি অধ্যাপক মেহতাব খানম অধ্যাপিকা অপু উকিল এমপি অধ্যাপক ড. হোসনে আরা বেগম আইয়ুব বাচ্চু আ খ ম জাহাঙ্গীর হোসাইন আনিস এ. খান আনোয়ার উল আলম চৌধুরী পারভেজ আনোয়ার হোসেন মঞ্জু আবদুল বাসেত মজুমদার আবু সাঈদ খান আবুল কাশেম মোঃ শিরিন আবুল কাসেম হায়দার আবুল মাল আব্দুল মুহিত আব্দুল আউয়াল মিন্টু আব্দুল মতিন খসরু এমপি আবদুল মুকতাদির আব্দুল মুয়ীদ চৌধুরী আব্দুস সালাম মুর্শেদী আমির আমির হোসেন আমু এমপি আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী আয়শা খানম আ স ম আবদুর রব আ স ম ফিরোজ আসাদুজ্জামান খান কামাল আসিফ ইব্রাহীম আলী রেজা ইফতেখার আ হ ম মুস্তফা কামাল এমপি ইউসুফ আব্দুল্লাহ হারুন ইনায়েতুর রহিম ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক এমপি ইঞ্জিনিয়ার নুরুল আকতার ইমদাদুল হক মিলন উপধ্যক্ষ মোঃ আব্দুস শহীদ এমপি এ এইচ এম নোমান এ এইছ আসলাম সানি এ কে ফাইয়াজুল হক রাজু এডভোকেট তানবীর সিদ্দিকী এডভোকেট ফজিলাতুন নেসা বাপ্পি এমপি এডভোকেট মোঃ ফজলে রাব্বী এমপি এনাম আলী এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার এমপি এম এ সবুর এম নাছের রহমান এয়ার কমডোর ইসফাক এলাহী চৌধুরী (অব.) এস এম ফজলুল হক ওয়াহিদা বানু কবরী সারোয়ার কাজী ফিরোজ রশীদ কেকা ফেরদৌসী কে. মাহমুদ সাত্তার খন্দকার রুহুল আমিন খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ খালেদ মুহিউদ্দীন খুশি কবির জুনাইদ আহমেদ পলক জোবেরা লিনু টিপু মুন্সী ড. আবুল বারকাত ড. কাজী কামাল আহমদ ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ ড. তৌফিক এম. সেরাজ ড. বদিউল আলম মজুমদার ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন ড. সাজ্জাদ জহির ড. সা’দত হুসাইন মেজর জেনারেল সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহীম (অব.) বীর প্রতীক মেজর জেনারেল হেলাল মোর্শেদ খান (অব.) বীর বিক্রম মেহের আফরোজ চুমকি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ মিথিলা ফারজানা মীর নাসির হোসেন মীর মাসরুর জামান মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন মীর শওকাত আলী বাদশা মুনিরা খান মুহাম্মদ আজিজ খান মোহাম্মদ নূর আলী মোঃ গোলাম মাওলা রনি এমপি মোঃ জসিম উদ্দিন মসিউর রহমান রাঙ্গা রাশেদ খান মেনন রাশেদা কে চৌধুরী লে. কর্ণেল মোঃ ফারুক খান (অব.) শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি শাইখ সিরাজ শাওন মাহমুদ শাজাহান খান এমপি শামসুজ্জামান খান শাহীন আনাম শারমীন মুরশিদ শুভ্র দেব শিবলী মোহাম্মদ শিরীন আখতার সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন সাঈদ খোকন সাকিব আল হাসান সাগুফতা ইয়াসমিন এমেলী সাব্বির হাসান নাসির সালমা খান সালাউদ্দিন কাশেম খান সিগমা হুদা সিলভীয়া পারভীন লিনি সুকুমার রঞ্জন ঘোষ সুরাইয়া জান্নাত সুলতানা কামাল সৈয়দ আখতার মাহমুদ সৈয়দ আবুল মকসুদ সৈয়দ মার্গুব মোর্শেদ সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান হাসানুল হক ইনু ড. সিনহা এম এ সাঈদ অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন ড. হামিদুল হক ড. হোসেন জিল্লুর রহমান ড. হোসেন মনসুর ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী ডা. অরূপরতন চৌধুরী ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী ডা. জাফরুল্লাহ্ চৌধুরী ডা. জোনাইদ শফিক ডা. মোঃ আব্দুল মতিন ডা. লুৎফর রহমান ডা. সরদার এ নাঈম ডা. সাঈদ আহমেদ সিদ্দিকী ডা. সামন্ত লাল সেন তোফায়েল আহমেদ তালেয়া রেহমান দিলরুবা হায়দার নজরুল ইসলাম খান নজরুল ইসলাম বাবু নবনীতা চৌধুরী নাঈমুর ইসলাম খান নমিতা ঘোষ নাঈমুর রহমান দূর্জয় নাসরীন আওয়াল মিন্টু নুরুল ইসলাম সুজন এমপি নুরুল কবীর নিলোফার চৌধুরী মনি এমপি প্রকোশলী তানভিরুল হক প্রবাল প্রফেসর মেরিনা জাহান ফকির আলমগীর ফরিদ আহমেদ বেগম মতিয়া চৌধুরী বিগ্রেডিয়ার জেনারেল এম সাখাওয়াত হোসেন (অব.) ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ব্যারিস্টার আমীর-উল ইসলাম ব্যারিস্টার তানিয়া আমীর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা ব্যারিস্টার সারা হোসেন ভেলরি এ টেইলর মতিউর রহমান চৌধুরী মনজিল মোরসেদ মমতাজ বেগম এমপি মামুন রশীদ মাহফুজ আনাম মাহফুজ উল্লাহ