Bangladesh Icon
আইকন সংবাদ:

মণি সিংহ

কিংবদন্তির কমিউনিস্ট নেতা


কিংবদন্তিতুল্য কমিউনিস্ট নেতা, টংক আন্দোলনের প্রবক্তা, তেভাগা আন্দোলনের বিশিষ্ট নায়ক ও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন মণি সিংহ। জীবনের শুরু থেকে প্রায় শেষ দিন পর্যন্ত তিনি ছিলেন কমিউনিস্ট আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত এবং এই আন্দোলনের মশালবাহী অগ্রগামী নিবেদিতপ্রাণ কমিউনিস্ট নেতা।

এই আদর্শবান কমিউনিস্ট নেতার জন্ম কোলকাতায় ১৯০০ সালে । তবে তাদের আদি বসত ছিল বাংলাদেশের সাবেক জেলা ময়মনসিংহের (বর্তমান নেত্রকোনা জেলা) সুসং দুর্গাপুরে।

মণি সিংহের যখন শৈশবকাল, তখনই ভারতবর্ষে সাম্রাজ্যবাদ-বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলন জোরদার হয়ে উঠতে থাকে। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের শৃঙ্খল থেকে দেশকে বাঁচাতে হবে, স্বাধীন করতে হবে দেশ—এটাই ছিল সেদিনকার যুবসমাজের একমাত্র প্ৰতিজ্ঞা ।

যৌবনের প্রারম্ভেই মণি সিংহ কমিউনিস্ট মতবাদ গ্রহণ করেন। তিনি যখন কৈশোর ছাড়িয়ে যৌবনে পা দেন, তখনই বিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে যুগান্তকারী ঘটনাটি ঘটে। সেটা হলো ১৯১৭ সালে সংঘটিত রাশিয়ার সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব। অন্যান্য দেশের মতো ভারতবর্ষেও এই বিপ্লবের ঢেউ আছড়ে পড়ে।

কিশোর বয়সেই মণি সিংহ সন্ত্রাসবাদী গোপন সংগঠনে যোগদান করেন। সংগঠনের নাম ছিল “অনুশীলন' । ১৯২১ সালে ভারতব্যাপী যখন অসহযোগ ও খিলাফত আন্দোলনের ফলে ব্যাপক গণজাগরণের সৃষ্টি হয়, তখন “অনুশীলন' থেকে তাদের এই বলে বিরত করা হয় যে, সংগ্রাম ছাড়া অহিংস উপায়ে ব্রিটিশ সরকারকে উচ্ছেদ করা যাবে না। কিন্তু আন্দোলনে সন্ত্রাসবাদীদের ভূমিকা দেখে মণি সিংহের মতো তরুণ কমীরা হতাশ হয়ে পড়েন। এ-সম্পর্কে মণি সিংহ তাঁর স্মৃতিচারণে বলেছেন : “আমাদের মধ্যে একটি চিন্তা আছে যে, ব্রিটিশ সরকারের কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মচারীকে খতম করে দেশের স্বাধীনতা অর্জন করা যাবে না। বিপ্লব দরকার। সেজন্য চাই অনেক মানুষ, জঙ্গীলোক। নচেৎ কিছুই করা যাবে না।”

এরপর থেকেই মণি সিংহ তার সহযোগীদের নিয়ে লোকবল সংগ্ৰহ করার কাজে মন দেন। তারা আগেই শুনেছিলেন যে, হাজং সম্প্রদায়ের লোকজন খুবই জঙ্গি। তারা জমিদারের অত্যাচারের বিরুদ্ধে গত চল্লিশ বছর ধরে সংগ্রাম করছে। তাদের এই সংগ্রাম "হাজং বিদ্রোহ” নামে খ্যাত ।

মণি সিংহ হাজংদের আরো সংগঠিত করার জন্য তাঁর বন্ধু উপেন সান্যালকে সঙ্গে নিয়ে রওনা দিলেন সুসং দুর্গাপুর থেকে পনেরো কিলোমিটার দূরে হাজংদের কালিকাবাড়ি গ্রামের উদ্দেশ্যে। এখানে এসেই তারা হাজংদের অভাব-অভিযোগের কথা শোনেন। এটা ১৯২৫ সালের কথা। হাজংরা ছিল সমাজে অচ্ছ্যুৎ এবং অশিক্ষিত। মণি সিংহ তাঁর সহযোগীদের নিয়ে প্রথমে হাজংদের গায়ে একটি প্রাইমারি স্কুল স্থাপনের ব্যবস্থা করেন। তিনি তাদের হাতে ভাত ও জল খেয়ে তাদের সামাজিক মর্যাদা এবং একজন পুরোহিত ডেকে এনে ব্যবস্থা করে দেন পুজো করারও।

কিন্তু হাজংদের নিয়ে এইভাবে পড়ে থাকার বিষয়টিও তাঁর সহযোগীদের অনেকে পছন্দ করলেন না। তাদের সবাই তখন এই বলে মত দিলেন যে, সমাজের একটিমাত্র গোষ্ঠীকে নিয়ে পড়ে না থেকে বরং শ্রমিক আন্দোলনে আত্মনিয়োগ করা অনেক ভালো। কারণ সর্বহারা শ্রমিকরাই হলো সবচেয়ে বড় বিপ্লবী। দেশের গরিব জনসাধারণকে ঐক্যবদ্ধ করতে হলে অর্থনৈতিক ভিত্তিতে আন্দোলন করে তাদের রাজনৈতিকভাবে সচেতন করে তুলতে হবে। কেন তাদের দুর্দশা, কেন তারা শোষিত ও বঞ্চিত, জনগণকে সেটা বোঝাতে হবে। শ্রেণীসংগ্রামের ওপর জোর দিতে হবে।

এই কথার পর মণি সিংহ এবং তাঁর বন্ধুরা এলাকায় তাদের কাজ গুটিয়ে ১৯২৬ সালে কোলকাতায় এসে বিখ্যাত কমিউনিস্ট নেতা কমরেড মুজফফর আহমদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন ।

এরপরই মণি সিংহ কোলকাতার ক্লাইভ স্ট্রিটের গুপ্ত ম্যানসনে একটি ঘর ভাড়া নিয়ে ওরিয়েন্টাল ট্রেডিং নামে একটি অফিস খুলে বসলেন। এই অফিসের বসেই তিনি শ্রমিক আন্দোলন সংগঠিত করতে লাগলেন। কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্বাধীন তখন কোনো শ্রমিক সংগঠন ছিল না। তাই আন্দোলন গড়ে তুলতে সময় নিতে হচ্ছিল।

১৯২৮ সালে তাদের হাতে সুযোগ এসে গেল। মণি সিংহ শুনতে পারলেন, কে সি মিত্র ওরফে জটাধারী বাবা নামের এক লোক লিলুয়া রেলওয়ে কারখানায় ধর্মঘট করছেন। তিনি চলে এলেন লিলুয়াতে। কিন্তু জটাধারীর সঙ্গে দেখা হলো না। এরপর তিনি সেখান থেকে চলে এলেন মেটিয়াবুরুজে এবং সার্বক্ষণিক শ্রমিক কমী হিসেবে কাজ শুরু করেন। এই মেটিয়াবুরুজেই বাংলাদেশের স্বাধীনতার দুদিন পরে অর্থাৎ ১৯৭১ সালের ১৮ই ডিসেম্বর লালঝাণ্ডা ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে মণি সিংহকে আন্তরিক সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছিল।

এর মধ্যে কেশোরাম টেক্সটাইল মিলে শ্রমিক অসন্তোষ শুরু হলে মণি সিংহ এই আন্দোলনের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন এবং শ্রমিকদের দাবি আদায়ে সক্ষম হন। ফলে শ্রমিক নেতা হিসেবে তার নাম ছড়িয়ে পড়ে। এই সময় তিনি ওয়ার্কার্স অ্যান্ড পেজেন্ট পার্টির সদস্য ছিলেন।

শ্রমিকদের মনজয় করার জন্যূ অনিচ্ছা সত্ত্বেও তাঁকে অনেক কিছুর আশ্রয় নিতে হয়েছিল। শুধু তাই নয়, মণি সিংহের পারিবারিক নাম ছিল মনীন্দ্র কিশোর সিংহ শৰ্মা। শ্রমিকরা তাকে ডাকতো মণি সিংহ' বলে। পরে এ-নামেই তিনি ব্যাপকভাবে পরিচিত হয়ে ওঠেন। অবশ্য পাকিস্তানি আমলে পাটি যখন গোপনে কাজ শুরু করে, তখন সবাই তাকে ‘বড়ভাই' বলে ডাকতেন।

১৯২৯ সালে চটকলে মালিক সংস্থা শ্রমিকদের মহাৰ্যভাতা কেটে নেওয়ার প্রস্তাব করে। মালিকপক্ষ ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী। তাই ধর্মঘট শুরু করার আগেই তারা কমিউনিস্ট ও শ্রমিক নেতাদের গ্রেপ্তার করে। মণি সিংহ তখনো বাইরে। এরপর জুট ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সভানেত্রী ড. প্ৰভাবতী দাশগুপ্তার পরোক্ষ সহায়তায় মণি সিংহ চটকলে ধর্মঘট করাতে সক্ষম হন। এরপর ১৯৩০ সালে আই জি এন এতেও হরতাল হয়। মণি সিংহের সক্রিয় সহযোগিতাতেই ।

১৯৩০ সালের ১৮ এপ্রিল যখন চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুট করা হয়, তখন ব্রিটিশ সরকার পাগলা কুকুরের মতো ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। কে টেরোরিস্ট বা কে কমিউনিস্ট, তার বাছবিচার ছিল না। এই রাজনৈতিক পটভূমিতেই ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনে যুক্ত থাকায় ১৯৩০ সালের ৯ মে মণি সিংহ কোলকাতায় গ্রেপ্তার হন। জেল, ক্যাম্প ও অন্তরীণা ইত্যাদি পর ১৯৩৭ সালের নভেম্বরের মাঝামাঝি তিনি মুক্তি পান। ১৯২৫ সালে তিনি পার্টির সার্বক্ষণিক কমী হন। জেলে থাকা অবস্থায়ই তিনি কমিউনিস্ট সদস্যপদ লাভ করেন। ওই বছরের শেষদিকে সুসং দুর্গাপুরে কৃষকদের সংগঠিত করার কাজ শুরু করেন ।

এইসময়ই তিনি শুনতে পান। টংকের অত্যাচারে কৃষকরা জর্জরিত। তখন তিনি কৃষকদের আশ্বাস দিয়ে বললেন যে, আপনারা যদি সবাই একজোট হয়ে আন্দোলন করেন, তবে নিশ্চয়ই টংক প্রথা উচ্ছেদ হবে । তিনি প্রজাদের সঙ্গে নিয়ে এই টংক প্রথার বিরুদ্ধে ব্যাপক আন্দোলন গড়ে তোলেন। এই আন্দোলনে চাষীদের পক্ষে তিনি যে দাবি তুলেছিলেন, সেগুলো হলো :

১. টংক প্রথার উচ্ছেদ চাই; ২. টংক জমির স্বত্ব চাই; ৩. জোত স্বত্ব নিরিখ মতো টংক জমির খাজনা ধার্য করতে হবে; ৪. বকেয়া টংকর মকুব চাই; ৫, জমিদারি প্রথার উচ্ছেদ চাই এবং ৬. সাম্রাজ্যবাদ ধ্বংস হোক । এইসব দাবি নিয়ে তিনি ১৯৩৭ সালের নভেম্বর মাসে দশাল গ্রাম থেকে আন্দোলন শুরু করেন ।

টংক আন্দোলন অবশ্য পুরোপুরি সফল হয়নি। তবে জমিদারীপক্ষ তাদের অর্ধেক দাবি মেনে নিতে বাধ্য হয়। এর ফলে টংক ধানের হার বেশিরভাগ জায়গায় অর্ধেক হয়ে যায়। কোনো কোনো জায়গায় অর্ধেকেরও কম হয়।

১৯২৮ সালে বাংলার কমিউনিস্ট পাটির সভ্য ছিলেন মাত্র চারজন। কমরেড শামসুল হুদা। ১৯৩৫ সালে সিলেটে, ১৯৩৭ সালে ঢাকায় এবং ১৯৩৮ সালে পূর্ববঙ্গের অন্যান্য জেলায় কমিউনিস্ট পাটি গঠিত হয়। ময়মনসিংহ জেলাতেও ওই সময় কমিউনিস্ট পার্টি গঠিত হয়। মণি সিংহ ছিলেন এর অন্যতম সংগঠক।

১৯৩৯ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। কমিউনিস্ট নেতাদের বিরুদ্ধে জারি করা হয়। হুলিয়া। সবাই আত্মগোপন করে। ১৯৪১ সালের গোড়ার দিকে মণি সিংহসহ ময়মনসিংহ জেলার নেতৃস্থানীয় সব কমরেড গ্রেপ্তার হয়ে যান। তবে পনেরো দিন পর আবার তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। ছাড়া পেয়ে মণি সিংহ হাজংদের অঞ্চলে গিয়ে আত্মগোপন করেন।

 উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে ১৯৪২ সালে পার্টির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা উঠে যায়।

১৯৪৩ সালের গোড়ার দিকে কৃষক সভার জেলা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় সুসং দুর্গাপুরে। এই সভায় টংক প্রথার সংস্কার নয়, সম্পূর্ণ উচ্ছেদের দাবি জানানো হয়। এই সম্মেলনের উদ্যোক্তাদের অন্যতম ছিলেন মণি সিংহ ।

১৯৪৪ সালে কিশোরগঞ্জে (তখন মহকুমা) কলেরা মহামারী দেখা দিলে মণি সিং দুর্গত অঞ্চলে ত্ৰাণকৰ্ম পরিচালনার জন্য পিপলস রিলিফ কমিটি গঠন করেন।

১৯৪৫ সালে কমিউনিস্ট নেতা কমরেড মুজফফর আহমদ প্রাদেশিক কমিটির সভায় প্রস্তাব দেন যে, সারা-ভারত কৃষক সম্মেলন বাংলায় করতে হবে এবং তা হবে ময়মনসিংহ জেলায়। ফলে এই সভা বা সম্মেলন অনুষ্ঠানের পুরো দায়িত্ব এসে পড়ে মণি সিংহের ওপর। সকলের প্রস্তাবে এই সম্মেলন নেত্রকোনায় অনুষ্ঠিত হবে বলে ঠিক করা হয়। ১৯৪৫ সালের এপ্রিল মাসের চার ও পাচ তারিখ এই ঐতিহাসিক কৃষক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। পি.সি. যোশী, ই.এম.এস. নাম্বুদ্রিপাদ, ভবানী সেন, ভূপেন গুপ্ত ও জ্যোতি বসুসহ সারা ভারত থেকেই রাজনৈতিক ও কৃষক নেতৃবৃন্দ এ-উপলক্ষে নেত্রকোণায় এসেছিলেন।

১৯৪৬ সালে দেশব্যাপী সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা ঘোষণা করা হয়। ময়মনসিংহ জেলা থেকে মণি সিংহকে মনোনয়ন দান করা হয়। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন একজন কংগ্রেস প্রার্থ। কংগ্রেসীদের ষড়যন্ত্রে মণি সিংহ এই নির্বাচনে হেরে যান।

নির্বাচনের পরপরই শুরু হয় দ্বিতীয় দফায় টংক আন্দোলন। এই সময় কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃস্থানীয় সকলেই প্রায় আত্মগোপন করে ছিলেন। আত্মগোপন অবস্থাতেও মণি সিংহ তার টংক আন্দোলনে চালিয়ে যেতে থাকেন। এই আন্দোলনের পক্ষে পার্টি সুসং দুর্গাপুর স্কুলমাঠে সভাও করে।

উল্লেখ্য, টংক আন্দোলনে প্রথম শহিদ হন রাসমণি ও সুরেন্দ্র নামে দুজন কৃষক রমণী ও পুরুষ। কিন্তু এর সমস্ত দোষ চাপানো হয় কমিউনিস্টদের ওপর। মণি সিংহের নামেও হুলিয়া জারি করা হয়। ফলে তাঁকে থাকতে হয় আত্মগোপন করে। পুলিশ তাকে খুঁজে বেড়াতে থাকে। ফলে টংক আন্দোলনে এবারও আর বেশিদূর অগ্রসর হতে পারল না। হলো না টংক প্রথার উচ্ছেদ। যতটুকু সংস্কার করা হয়েছিল, তাই থেকে গেল।

দেশভাগের পর ১৯৪৮ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ভারতের কোলকাতায় কমিউনিস্ট পার্টির যে কংগ্রেস হয়, তাতে মণি সিংহসহ নেতৃস্থানীয় নেতৃবৃন্দ যোগদান করেন। কিন্তু তখন যেহেতু পাকিস্তান ও ভারত দুটো পৃথক দেশ হাওয়ায় কমিউনিস্ট পার্টি আর এক থাকে না, আলাদা হয়ে যায়। ১৯৪৮ সালে পূর্ববঙ্গে পৃথক কমিউনিস্ট পার্টি গঠিত হয়। মণি সিংহ তখন পাটিকে নতুন করে গড়ে তোলার কাজে আত্মনিয়োগ করেন। দীর্ঘদিন তিনি পাটির সেক্রেটারি জেনারেল ছিলেন ।

১৯৪৮ সালেই আবার শুরু হয় তৃতীয় পর্যায়ের টংক আন্দোলন। গ্রামে গ্রামে টংকধান, লেভি ও মহাজনের ধান দেওয়া বন্ধ হয়ে যায়। কমিউনিস্টদের চাপের মুখেই ১৯৫০ সালে সরকার জমিদারি প্রথা ও টংক প্রথা উচ্ছেদের ঘোষণা দেয় ।

পঞ্চাশ এবং ষাটের দশকে কমিউনিস্ট পার্টির সীমিত শক্তি সত্ত্বেও, বায়ান্নার ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে একাত্তরের স্বাধীনতা সংগ্রাম পর্যন্ত বেআইনি ও নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও, তাঁর নেতৃত্বাধীন দলের নেতা-কর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।

এরপর শুরু হয় সিলেটের নানকার প্রথা তথা অর্ধদাস প্রথা বা গোলাম প্রথার বিরুদ্ধে সংগ্রাম। ১৯৪৭ সালের প্রথম দিকে কমিউনিস্ট পার্টি ও কৃষক সমিতির উদ্যোগে এই নানকার আন্দোলন এক গৌরবময় আন্দোলনের রূপ পরিগ্রহ করে । এখানেও মণি সিংহ বিশেষ ভূমিকা পালন করেন।

৫২-এর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে পাকিস্তানি স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের স্বাধিকারের আন্দোলন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে কমরেড মণি সিংহ ও তার পার্টি অসামান্য অবদান রাখে। এভাবে স্বাধীনতার আগ পর্যন্ত সব ধরনের আন্দোলনে তাঁর ভূমিকা ছিল অগ্রচারীর। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ঘটনাক্রমে মণি সিংহের রাজনৈতিক বিচক্ষণতা ও দূরদর্শিতা ছিল উল্লেখ করার মতো। কমিউনিস্ট-বিরোধী। ইত্তেফাক সম্পাদক তোফাজল হোসেন মানিক মিয়া এক পর্যায়ে কমরেড মণি সিংহের সাথে কথা বলার আগ্রহ প্ৰকাশ করেন। পার্টির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মণি সিংহ ও খোকা রায় তার সঙ্গে গোপনে দেখা করেন। এর পর মানিক মিয়া ও শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে কমরেড মণি সিংহের একাধিক বৈঠক হয়। স্বৈরাচারী আইউবের শাসন-বিরোধী আন্দোলনের সূচনায় বঙ্গবন্ধু ও মণি সিংহের মধ্যকার এই গোপন বৈঠক অপরিসীম ভূমিকা রাখে। ওই বৈঠকেই বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশকে স্বাধীন করার কথাটি প্ৰকাশ করেছিলেন ।

১৯৬৭ সালে আত্মগোপন অবস্থায় তিনি গ্রেপ্তার হন। উনসত্তরের গণঅভু্যত্থানের সময় ২৪ ফেব্রুয়ারি তিনি মুক্তিলাভ করেন। পরে জুলাই মাসে তিনি আবার গ্রেপ্তার হন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে এপ্রিল মাসের ৭ তারিখে রাজশাহী জেলের বন্দি আর জনতা জেল ভেঙে মণি সিংহসহ অন্যদের সঙ্গে মুক্ত করে নৌকায় উঠিয়ে দেন। পদ্মা নদী পার হয়ে মণি সিংহ চলে যান ভারতে ।

এরপর তিনি মুজিবনগরে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তিনি কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিনিধি হিসেবে প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মনোনীত হন।

কমিউনিস্ট পার্টি, ন্যাপ ও ছাত্র ইউনিয়ন সমন্বয়ে গেরিলা বাহিনী গঠনে তিনি পালন করেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।

স্বাধীনতার পর আওয়ামী লীগ, ন্যাপ ও কমিউনিস্ট পার্টির সমন্বয়ে ত্রিদলীয় ঐক্যজোট গঠিত হলে তিনি জোটের অন্যতম নেতা হিসেবে সদ্যস্বাধীন দেশের পুনর্গঠনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সরকারের প্রতি দৃঢ় সমর্থন জ্ঞাপন করেন। ১৯৭৫ সালে বাকশাল গঠিত হলে তাঁর নেতৃত্বে সিপিবি বাকশালে একীভূত হয়।

স্বাধীনতা লাভের পর ১৯৭৩ সালে কমিউনিস্ট পার্টির প্রথম প্ৰকাশ্য সম্মেলনে তিনি সভাপতি নির্বাচিত হন এবং ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত এ-পদে বহাল থাকেন।

১৯৭৫-এ বঙ্গবন্ধু হত্যার মধ্য দিয়ে দেশে যখন আবার স্বৈরাচার চেপে বসে, তখন কমিউনিস্ট পার্টি প্রথম বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার দাবি করে। ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানায়।

১৯৭৭ সালে বগুড়া ও ঢাকা ক্যান্টেনমেন্টের সেনাবিদ্রোহের সঙ্গে জড়িত থাকার নিষিদ্ধ ঘোষণা করলে কমরেড মণি সিংহ গ্রেপ্তার হন। ১৯৭৮ সালে রাজনৈতিক দলবিধি প্রত্যাহার করা হলে কমিউনিস্ট পার্টি পুনরায় বৈধ রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে এবং মণি সিংহ মুক্তিলাভ করে আবার পার্টির নেতৃত্ব গ্রহণ করেন।

১৯৮০ সালে পার্টির তৃতীয় কংগ্রেসে তিনি দ্বিতীয় বার পার্টির সভাপতি নির্বাচিত হন।

১৯৭৮ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে গণতান্ত্রিক ঐক্যজোটের মনোনীত প্রার্থী জেনারেল (অব.) এম.এ.জি. ওসমানীর এবং ১৯৮১ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ন্যাপ-কমিউনিস্ট পার্টির মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক মুজাফফর আহমদের পক্ষে প্রচারাভিযানে অংশগ্রহণ করেন ।

সামরিক প্রেসিডেন্ট লে. জেনারেল হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদের পদত্যাগ, নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে ১৫ দলীয় জোট গঠনে তিনি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেন।

১৯৮৪ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে মৃত্যুর পূর্বমুহুর্ত পর্যন্ত অসুস্থতার কারণে তিনি শয্যাশায়ী ছিলেন।

 মার্কসবাদ-লেনিনবাদের প্রতি দৃঢ় আস্থাশীল একজন খাঁটি কমিউনিস্ট নেতা হিসেবে তিনি বাংলাদেশের কমিউনিস্ট আন্দোলনের প্রাণপুরুষ ছিলেন। মেহনতি মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি ও রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় তিনি সারাজীবন সংগ্রাম পরিচালনা করেছেন। দেশের স্বাধীনতা অর্জন, গণতন্ত্র কায়েম ও সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে তার অবদান অবিস্মরণীয়।

পাকিস্তানি আমলে মণি সিংহের কার্যকলাপ আর গতিবিধি নিয়ে সারা দেশে রূপকথার মতো বহু গল্প প্রচলিত ছিল।

তাঁর জীবন হচ্ছে লড়াই-সংগ্রামের এক জ্বলন্ত ইতিহাস। আন্দোলনের জোয়ারভাটার ভেতর দিয়েই তার জীবন প্রবাহিত হয়েছে। ব্যক্তি জীবনে তিনি ছিলেন ভীষণ সুশৃঙ্খল। সময় বলতে তিনি ঘড়ির কাটাকেই বুঝতেন। কোনো কাজ করতে গিয়ে কোনোদিনও এক সেকেন্ডও এদিক-সেদিক হয়নি। তিনি সব সময় তার কমীদের আদর্শ ও শ্রেণী দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে চলার পরামর্শ দিতেন। তিনি মনেপ্ৰাণে বিশ্বাস করতেন যে বাংলাদেশে একদিন সমাজতন্ত্র কায়েম হবেই।

তাঁর লেখা আত্মজীবনীমূলক গ্ৰন্থ ‘জীবন সংগ্ৰাম’৷ দুই খণ্ডে তাঁর জীবিতকালেই প্রকাশিত হয়। এতে তার সমসাময়িক কালের অনেক ঘটনা লিপিবদ্ধ হয়েছে।

মানুষ হিসেবে মণি সিংহ ছিলেন তাঁর সময়ের শ্রেষ্ঠতম ব্যক্তিদের একজন। ১৯৯০ সালের ৩১ ডিসেম্বর তিনি ঢাকায় পরলোকগমন করেন।

  • Rocking the night away
  • Rocking the night away
  • Rocking the night away
  • Rocking the night away
  • Rocking the night away
  • Rocking the night away
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান BANGLADESH ICON আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ আতিউর রহমান বেগম রোকেয়া মোস্তাফা জব্বার ভাষা শহিদ সজীব ওয়াজেদ জয় তাজউদ্দীন আহমদ শেরে বাংলা ফজলুল হক মাওলানা ভাসানী  প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার বেগম সুফিয়া কামাল শেখ হাসিনা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হোসেন শহিদ সোহরাওয়ার্দি কাজী নজরুল ইসলাম মাস্টারদা সূৰ্য সেন ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ মণি সিংহ স্যার ফজলে হাসান আবেদ  সালমান এফ রহমান সুফী মুহাম্মদ মিজানুর রহমান মোরশেদ আলম এমপি সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী আহমেদ আকবর সোবহান জয়নুল হক সিকদার দীন মোহাম্মদ আজম জে. চৌধুরী প্রফেসর মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন সাইফুল আলম মাসুদ আলহাজ্ব এম এম এনামুল হক খলিলুর রহমান এ কে এম রহমত উল্লাহ্ ইফতেখার আহমেদ টিপু শেখ কবির হোসেন এ কে আজাদ ডাঃ মোমেনুল হক আলহাজ্ব মোঃ হারুন-উর-রশীদ কাজী সিরাজুল ইসলাম নাছির ইউ. মাহমুদ ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল আজিজ শেখ ফজলে ফাহিম প্রফেসর ড. কবির হোসেন তালুকদার মোঃ হাবিব উল্লাহ ডন রূপালী চৌধুরী হেলেন আখতার নাসরীন মনোয়ারা হাকিম আলী নাসরিন সরওয়ার মেঘলা প্রীতি চক্রবর্তী মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির ক্যাপ্টেন তাসবীরুল আহমেদ চৌধুরী এহসানুল হাবিব আলহাজ্জ্ব জাহাঙ্গীর আলম সরকার আলহাজ্ব খন্দকার রুহুল আমিন তানভীর আহমেদ ড. বেলাল উদ্দিন আহমদ মোঃ শফিকুর রহমান সেলিম রহমান মাফিজ আহমেদ ভূঁইয়া  মোঃ ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ  শহিদ রেজা আব্দুর রউফ জেপি এডভোকেট ইকবাল আহমদ চৌধুরী এ কে এম সরওয়ারদি চৌধুরী ড. এম. মোশাররফ হোসেন মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন লায়ন মোঃ মোজাম্মেল হক ভূঁইয়া মোঃ মিজানুর রহমান সায়েম সোবহান আনভীর মামুন-উর-রশিদ বি এম ইউসুফ আলী মোঃ জামিরুল ইসলাম ডক্টর হেমায়েত হোসেন মোঃ শাহ আলম সরকার ফারজানা চৌধুরী এম. সামসুজ্জামান মেজর পারভেজ হাসান (অব.) এম এ মতিন সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল মাসুদ পারভেজ খান ইমরান ড. এম এ ইউসুফ খান কাজী সাজেদুর রহমান ড. হাকীম মোঃ ইউছুফ হারুন ভূঁইয়া আলহাজ্ব মীর শাহাবুদ্দীন মোঃ মুনতাকিম আশরাফ (টিটু) মোঃ আবদুর রউফ কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ আব্দুল মাতলুব আহমাদ মোঃ মজিবর রহমান মোহাম্মদ নূর আলী সাখাওয়াত আবু খায়ের মোহাম্মদ আফতাব-উল ইসলাম মোঃ সিরাজুল ইসলাম মোল্লা এমপি প্রফেসর ড. আবু ইউসুফ মোঃ আব্দুল্লাহ মোঃ জসিম উদ্দিন বেনজীর আহমেদ মিসেস তাহেরা আক্তার পারভীন হক সিকদার নাসির এ চৌধুরী হাফিজুর রহমান খান ড. মোহাম্মদ ফারুক কাইউম রেজা চৌধুরী মোঃ সবুর খান মাহবুবুল আলম মোঃ হেলাল মিয়া সেলিমা আহমাদ নজরুল ইসলাম ড. এ এস এম বদরুদ্দোজা ড. হায়দার আলী মিয়া ইঞ্জিনিয়ার গুলজার রহমান এম জামালউদ্দিন মোঃ আব্দুল হামিদ মিয়া মোঃ হাবিবুর রহমান মোঃ মুহিব্বুর রহমান চৌধুরী মোহাম্মদ নুরুল আমিন জিয়াউর রহমান ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী শ্যামল দত্ত জ ই মামুন আনিসুল হক সামিয়া রহমান মুন্নি সাহা আব্বাসউদ্দীন আহমদ নীলুফার ইয়াসমীন ফিরোজা বেগম শাহ আব্দুল করিম ফরিদা পারভীন সরদার ফজলুল করিম আনিসুজ্জামান আখতারুজ্জামান ইলিয়াস হুমায়ূন আহমেদ সেলিম আল দীন জহির রায়হান বুলবুল আহমেদ রওশন জামিল সৈয়দ হাসান ইমাম হেলেনা জাহাঙ্গীর অঞ্জন রায় অধ্যক্ষ আব্দুল আহাদ চৌধুরী অধ্যাপক আবু আহমেদ অধ্যাপক  আবু সাইয়িদ অধ্যাপক আমেনা মহসীন অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ অধ্যাপক জয়নাল আবদিন এমপি অধ্যাপক ড. আরিফুর রহমান অধ্যাপক ড. আব্দুল মতিন পাটোয়ারী অধ্যাপক ড. ইজাজ হোসেন অধ্যাপক ড. এ কে আজাদ চৌধুরী অধ্যাপক ড. এ কে আব্দুল মোমেন অধ্যাপক ড. এম এ মান্নান অধ্যাপক ড. এম এ হাকিম অধ্যাপক ড. এম শমসের আলী অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী অধ্যাপক ড. শাহেদা ওবায়েদ অধ্যাপক ড. সদরুল আমিন অধ্যাপক ড. হাফিজ জি. এ. সিদ্দিকী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন অধ্যাপক তৌহিদুল আলম অধ্যাপক ডা. বরেন চক্রবর্তী অধ্যাপক ডা. মতিউর রহমান অধ্যাপক ডা. মোঃ শারফুদ্দিন আহমেদ অধ্যাপক ডা. মোঃ হাবিবে মিল্লাত এমপি অধ্যাপক মেহতাব খানম অধ্যাপিকা অপু উকিল এমপি অধ্যাপক ড. হোসনে আরা বেগম আইয়ুব বাচ্চু আ খ ম জাহাঙ্গীর হোসাইন আনিস এ. খান আনোয়ার উল আলম চৌধুরী পারভেজ আনোয়ার হোসেন মঞ্জু আবদুল বাসেত মজুমদার আবু সাঈদ খান আবুল কাশেম মোঃ শিরিন আবুল কাসেম হায়দার আবুল মাল আব্দুল মুহিত আব্দুল আউয়াল মিন্টু আব্দুল মতিন খসরু এমপি আবদুল মুকতাদির আব্দুল মুয়ীদ চৌধুরী আব্দুস সালাম মুর্শেদী আমির আমির হোসেন আমু এমপি আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী আয়শা খানম আ স ম আবদুর রব আ স ম ফিরোজ আসাদুজ্জামান খান কামাল আসিফ ইব্রাহীম আলী রেজা ইফতেখার আ হ ম মুস্তফা কামাল এমপি ইউসুফ আব্দুল্লাহ হারুন ইনায়েতুর রহিম ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক এমপি ইঞ্জিনিয়ার নুরুল আকতার ইমদাদুল হক মিলন উপধ্যক্ষ মোঃ আব্দুস শহীদ এমপি এ এইচ এম নোমান এ এইছ আসলাম সানি এ কে ফাইয়াজুল হক রাজু এডভোকেট তানবীর সিদ্দিকী এডভোকেট ফজিলাতুন নেসা বাপ্পি এমপি এডভোকেট মোঃ ফজলে রাব্বী এমপি এনাম আলী এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার এমপি এম এ সবুর এম নাছের রহমান এয়ার কমডোর ইসফাক এলাহী চৌধুরী (অব.) এস এম ফজলুল হক ওয়াহিদা বানু কবরী সারোয়ার কাজী ফিরোজ রশীদ কেকা ফেরদৌসী কে. মাহমুদ সাত্তার খন্দকার রুহুল আমিন খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ খালেদ মুহিউদ্দীন খুশি কবির জুনাইদ আহমেদ পলক জোবেরা লিনু টিপু মুন্সী ড. আবুল বারকাত ড. কাজী কামাল আহমদ ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ ড. তৌফিক এম. সেরাজ ড. বদিউল আলম মজুমদার ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন ড. সাজ্জাদ জহির ড. সা’দত হুসাইন মেজর জেনারেল সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহীম (অব.) বীর প্রতীক মেজর জেনারেল হেলাল মোর্শেদ খান (অব.) বীর বিক্রম মেহের আফরোজ চুমকি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ মিথিলা ফারজানা মীর নাসির হোসেন মীর মাসরুর জামান মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন মীর শওকাত আলী বাদশা মুনিরা খান মুহাম্মদ আজিজ খান মোহাম্মদ নূর আলী মোঃ গোলাম মাওলা রনি এমপি মোঃ জসিম উদ্দিন মসিউর রহমান রাঙ্গা রাশেদ খান মেনন রাশেদা কে চৌধুরী লে. কর্ণেল মোঃ ফারুক খান (অব.) শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি শাইখ সিরাজ শাওন মাহমুদ শাজাহান খান এমপি শামসুজ্জামান খান শাহীন আনাম শারমীন মুরশিদ শুভ্র দেব শিবলী মোহাম্মদ শিরীন আখতার সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন সাঈদ খোকন সাকিব আল হাসান সাগুফতা ইয়াসমিন এমেলী সাব্বির হাসান নাসির সালমা খান সালাউদ্দিন কাশেম খান সিগমা হুদা সিলভীয়া পারভীন লিনি সুকুমার রঞ্জন ঘোষ সুরাইয়া জান্নাত সুলতানা কামাল সৈয়দ আখতার মাহমুদ সৈয়দ আবুল মকসুদ সৈয়দ মার্গুব মোর্শেদ সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান হাসানুল হক ইনু ড. সিনহা এম এ সাঈদ অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন ড. হামিদুল হক ড. হোসেন জিল্লুর রহমান ড. হোসেন মনসুর ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী ডা. অরূপরতন চৌধুরী ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী ডা. জাফরুল্লাহ্ চৌধুরী ডা. জোনাইদ শফিক ডা. মোঃ আব্দুল মতিন ডা. লুৎফর রহমান ডা. সরদার এ নাঈম ডা. সাঈদ আহমেদ সিদ্দিকী ডা. সামন্ত লাল সেন তোফায়েল আহমেদ তালেয়া রেহমান দিলরুবা হায়দার নজরুল ইসলাম খান নজরুল ইসলাম বাবু নবনীতা চৌধুরী নাঈমুর ইসলাম খান নমিতা ঘোষ নাঈমুর রহমান দূর্জয় নাসরীন আওয়াল মিন্টু নুরুল ইসলাম সুজন এমপি নুরুল কবীর নিলোফার চৌধুরী মনি এমপি প্রকোশলী তানভিরুল হক প্রবাল প্রফেসর মেরিনা জাহান ফকির আলমগীর ফরিদ আহমেদ বেগম মতিয়া চৌধুরী বিগ্রেডিয়ার জেনারেল এম সাখাওয়াত হোসেন (অব.) ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ব্যারিস্টার আমীর-উল ইসলাম ব্যারিস্টার তানিয়া আমীর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা ব্যারিস্টার সারা হোসেন ভেলরি এ টেইলর মতিউর রহমান চৌধুরী মনজিল মোরসেদ মমতাজ বেগম এমপি মামুন রশীদ মাহফুজ আনাম মাহফুজ উল্লাহ