Bangladesh Icon
আইকন সংবাদ:

ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ

বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ ভাষাবিদ ও জ্ঞানতাপস


বাংলাদেশের সর্বশ্রেষ্ঠ ভাষাবিদ, ভাষাবিজ্ঞানী, গবেষক, শিক্ষাবিদ, পণ্ডিত ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ। বাংলা ভাষা নিয়ে গবেষণায় তিনি ছিলেন অদ্বিতীয়। মাতৃভাষার প্রতি ছিল তার গভীর ভালোবাসা এবং শ্রদ্ধা ।

মাতা, মাতৃভাষা আর মাতৃভূমি—এই তিনটি প্রত্যেক মানুষের পরম শ্রদ্ধার বস্তু— এই ছিল তার অমর বাণী ।

ভাষা ও ভাষাতত্ত্বে ছিল তাঁর অগাধ পণ্ডিত্য। ভাষা সম্পর্কে তাঁর জ্ঞান নিয়ে প্রচলিত আছে অনেক প্রবাদবাক্য। যে শব্দের উৎপত্তি কোথাও মেলে না, ডক্টর শহীদুল্লাহর কাছে তা মিলত, তাই তাঁকে বলা হতো ‘চলিষ্ণুবিদ্যাকল্পদ্রুম’। সত্যিকার অর্থেই তিনি ছিলেন একজন জ্ঞানতাপস ।

তিনি ছিলেন বহুভাষাবিদ। নতুন এবং পুরনো ভাষা মিলিয়ে মোট একুশটি ভাষা জানতেন। এসবের মধ্যে রয়েছে ইংরেজি, ফরাসি, সংস্কৃত, জার্মান, আরবি, ফারসি, উর্দু, হিব্রু, গ্রিক, ল্যাটিন, পাঞ্জাবি, গুজরাটি, মারাঠি, তামিল, সিংহলি ইত্যাদি। বাং ছাড়াও তিনি ইংরেজি, ফরাসি ও উর্দু ভাষায় অত্যন্ত দক্ষ ছিলেন এবং ভালোভাবে লিখতে পারতেন ।

তার মতো পণ্ডিত ব্যক্তি একালে আমাদের দেশে আর কখনও জন্মগ্রহণ করেননি । শুধু আমাদের দেশ নয়, তিনি গোটা উপমহাদেশেরও একজন অন্যতম শ্রেষ্ঠ ভাষাবিদ ছিলেন।

জ্ঞানতাপস ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর জন্ম ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ২৪ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে ।

পিতার নাম ছিল মফিজউদ্দিন আহমদ এবং মায়ের নাম ছিল নুরুন্নেছা।

গ্রামের পাঠশালাতেই শুরু হয় তাঁর শিক্ষাজীবন। পাঠশালার পড়া শেষ করে ভর্তি হন হাওড়া জেলা স্কুলে। যখন তিনি স্কুলের ছাত্র, তখন থেকেই বই পড়ার প্রতি ছিল তাঁর দারুণ নেশা। নানা বিষয়ে জানার আগ্রহও ছিল তার প্রচণ্ড । সেই সময় থেকেই তার ভাষা শেখার প্রতি আগ্রহ জন্মে। স্কুলজীবনেই তিনি আরবি, ফারসি, উর্দু, হিন্দি এবং উড়িয়া ভাষা পড়তে শিখেছিলেন।

হাওড়া জেলা স্কুলে পড়ার সময় তাঁর শিক্ষক ছিলেন আচার্য হরিনাথ দে। তিনি ছিলেন একজন স্বনামখ্যাত ভাষাবিদ। তাঁর সংস্পর্শে এসেই শহীদুল্লাহও ভাষা শেখার প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠেন।

হাওড়া জেলা স্কুল থেকে তিনি কৃতিত্বের সঙ্গে সংস্কৃতসহ প্রবেশিকা পরীক্ষা পাস করেন। এরপর কোলকাতায় এসে ভর্তি হন প্রেসিডেন্সি কলেজে এবং ১৯০৬ সালে এখান থেকে পাস করেন এফ. এ. । কলকাতা সিটি কলেজ থেকে সংস্কৃতে অনার্সসহ বি. এ. পাস করেন। বাঙালি মুসলমান ছেলেদের মধ্যে তিনিই সর্বপ্রথম অনার্স নিয়ে পাস করেন ।

সংস্কৃতিতে অনার্স পাস করার পর সংস্কৃত নিয়ে পড়তে চাইলে সংস্কৃত পণ্ডিতরা করেন। ১৯১২ সালে তিনি কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তুলনামূলক ভাষাতত্ত্বে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন ।

কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়েই সর্বপ্রথম ভাষাতত্ত্ব বিভাগ খোলা হয় এবং মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ছিলেন এই বিভাগের প্রথম ছাত্র।

পরে তিনি ভাষাতত্ত্বে উচ্চতর ডিগ্রি লাভের জন্য ফ্রান্সে যান। সেখানে সরবন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি ‘ডক্টরেট' ডিগ্রি লাভ করেন। এ-ছাড়া তিনি জার্মানিতেও পড়াশোনা করেছিলেন।

১৯১৫ সালের মার্চ পর্যন্ত তিনি চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। তারপর ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বশিরহাটে আইন-ব্যবসাতেও ছিলেন নিয়োজিত । একবার তিনি বশিরহাট পৌরসভার ভাইস চেয়ারম্যানও নির্বাচিত হয়েছিলেন।

১৯১৭ সালে তিনি বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সম্মেলনের সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯১৮-১৯২১ সাল পর্যন্ত বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতি ও সমিতির মুখপত্র “বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য’ পত্রিকার যুগ সম্পাদক ছিলেন।

১৯১৯-১৯২১ সাল পর্যন্ত তিনি ড. দীনেশচন্দ্র সেনের সহকমী হিসেবে কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে শরৎকুমার লাহিড়ী গবেষণা সহায়ক পদে দায়িত্ব পালন করেন ।

এই সময় তিনি বাংলা ব্যাকরণের ইতিহাসের ওপর বেশ কয়েকটি ব্যাখ্যামূলক প্রবন্ধ লেখেন, যা সেই সময়ে গুণীদের মধ্যে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করে। প্রবন্ধগুলো প্রকাশিত হয় কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি জার্নালে ।

এই সময়ই কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায় তাকে ওকালতি ছেড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগদানের আমন্ত্রণ জানান। স্যার আশুতোষ শহিদুল্লাহকে তার সংক্ষিপ্ত পত্রে লিখেছিলেন “ Bar Is Not For You. Come to Our University”  এই একটিমাত্র পত্র দিয়েই সেদিন শহীদুল্লাহর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিলেন স্যার আশুতোষ ।

তাঁর এই অবদানের কথা শহীদুল্লাহ জীবনে কখনও ভোলেননি। তিনি তাঁর ‘বাংলা ভাষার ইতিবৃত্ত” গ্রন্থটি স্যার আশুতোষের নামে উৎসর্গ করতে গিয়ে এই পত্রেরই উদ্ধৃতি দিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছিলেন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলে তিনি ১৯২১ সালে ঢাকা চলে আসেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেন। তার কর্মময় জীবনের অধিকাংশ সময় কেটেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করে।

তিনি প্রথম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত ও বাংলা বিভাগে প্রভাষক পদে যোগ দেন ১৯২১ সালে। একই সঙ্গে তিনি সলিমুল্লাহ হলের আবাসিক শিক্ষক (১৯২৫ পর্যন্ত) ছিলেন। ১৯২২-১৯২৪ সাল পর্যন্ত ছিলেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগেরও খণ্ডকালীন অধ্যাপক ।

১৯২৩ সালের ২২ ও ২৩ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত শান্তিনিকেতনের সমাবর্তন উৎসবে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি হিসেবে যোগদান করেন। ১৯২৬ সালের ১৯ ১৯২৬-১৯২৮ সাল পর্যন্ত তিনি প্যারিসের সরবন বিশ্ববিদ্যালয়ে বৈদিক ভাষা, প্রাচীন পার্সি, তিব্বতিসহ বিভিন্ন আধুনিক ভারতীয় ভাষা অধ্যয়ন করেন এবং পিএইচ.ডি ডিগ্রি অর্জন করেন। উপরন্তু লাভ করেন ডিপ্লোমা-ফোন-সনদপত্র। ১৯২৭-১৯২৮ সালে সরবনে পাঠরত অবস্থাতেই এক অবকাশে-জার্মানির ফ্রাইবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে বৈদিক, সংস্কৃত ও প্রাকৃত ভাষা অধ্যয়ন করেন। ১৯২৮ সালের আগস্ট মাসে তিনি স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করে তার সাবেক কর্মস্থলে যোগদান করেন। একই বছরের অক্টোবর মাসে কোলকাতায় অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় নিখিল বঙ্গ মুসলিম যুব সম্মেলনে তিনি সভাপতিত্ব করেন। ১৯৩৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত ও বাংলা বিভাগ পৃথক হলে বাংলা বিভাগের অধ্যক্ষ ও রিডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৪০ থেকে ১৯৪৪ সাল পর্যন্ত তিনি ফজলুল হক মুসলিম হলের প্রভোস্ট ছিলেন।

১৯৪১ সালে হায়দারাবাদে অনুষ্ঠিত নিখিল ভারত প্রাচ্যবিদ্যা সম্মেলনে ভাষাতত্ত্ব শাখার সভাপতি এবং Philology and Indian Linguistics  নামক প্রবন্ধ পাঠ করেন।

১৯৪২ সালে ঢাকায় সোভিয়েত সুহৃদ সমিতি আয়োজিত ‘সোভিয়েত মেলা’ নামক চিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন। তিনি। ১৯৫৩ থেকে ১৯৫৫ সাল পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ফরাসি ভাষার খণ্ডকালীন অধ্যাপক নিযুক্ত হন তিনি।

এ-ছাড়া মাঝে কয়েক বছর তিনি বগুড়া আযিজুল হক কলেজের অধ্যাক্ষের দায়িত্ব পালন করেন। কিছুদিন তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়েও অধ্যাপনা করেন।

শেষ জীবনে তিনি বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালকের পদে যোগ দেন। বৃদ্ধ বয়সেও এখানে থাকতেই তিনি পালন করেন গুরুদায়িত্ব। আঞ্চলিক ভাষার অভিধান প্রণয়নে প্রধান সম্পাদক হিসেবে যে নিষ্ঠার পরিচয় তিনি দেন, এক কথায় তা তুলনারহিত ব্যাপার।

বাংলা একাডেমী ছাড়ার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাকে এমেরিটাস অধ্যাপক হিসেবে সম্মানিত করে ।

তিনি নবম শতকের চর্যাগীতির ওপর গবেষণা করেন। তার লিখিত ‘বাংলা ভাষার ইতিবৃত্ত' বাংলা ভাষার ইতিহাসের ওপর লিখিত প্রথম গ্রন্থ। তাঁর বাংলা ভাষার ব্যাকরণ বইটি প্রথম বাংলা ব্যাকরণ গ্রন্থ।

ডক্টর শহীদুল্লাহ মাতৃভাষাকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসতেন। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিষয়ে তাঁর রয়েছে অনেকগুলো মূল্যবান গবেষণাগ্রন্থ। এই বইগুলো বাংলা ভাষা ও সাহিত্য ভালোভাবে বুঝতে আমাদের সাহায্য করে।

তাঁর গবেষণামূলক গ্রন্থ ও প্রবন্ধের সংখ্যা প্রায় ৪০টি । এ-ছাড়া তিনি ৪১ টি পাঠ্যবইও লিখেছেন, ২০টি বই সম্পাদনা করেছেন। বাংলা সাহিত্যের ওপর তার লিখিত প্রবন্ধের সংখ্যা ৬০টিরও বেশি। ভাষাতত্ত্বের ওপর রয়েছে তার ৩৭টি রচনা।

অন্যান্য বিষয়ে বাংলা-ইংরেজি মিলিয়ে তার প্রবন্ধের সংখ্যা ২৮০টি । এ ছাড়া তিনি তিনটি ছোটগল্প এবং ২৯টি কবিতাও লিখেছেন।

তিনি ১৯২০ কোলকাতা থেকে আঙুর’ নামে একটি সাহিত্য পত্রিকাও সম্পাদনা করেছিলেন। ১৯২২ থেকে ১৯৫১ সাল পর্যন্ত তিনি বেশ কয়েকটি বাংলা ইংরেজি ভাষায় প্রকাশিত পাক্ষিক ও মাসিক জার্নাল সম্পাদনা করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনাকর্ম হল—গবেষণা : সিদ্ধা কানুপার গীত ও দোহা (১৯২৬), বাংলা সাহিত্যের কথা (১ম খণ্ড ১৯৫৩, ২য় খণ্ড ১৯৬৫), বৌদ্ধ মর্মবাদীর গান (১৯৬০)। ভাষাতত্ত্ব : ভাষা ও সাহিত্য (১৯৩১), বাংলা ব্যাকরণ (১৩৬৫ বঙ্গাব্দ), বাংলা ভাষার ইতিবৃত্ত (১৯৬৫)। প্রবন্ধ পুস্তক : ইকবাল (১৯৪৫), আমাদের সমস্যা (১৯৪৯), বাংলা আদব কি তারিখ (১৯৫৭), Essays on Islam (১৯৪৫), Traditional culture in East Pakistan (১৯৬৩, মুহম্মদ আবদুল হাই সহযোগে)। গল্পগ্রন্থ : রকমারি (১৯৩১)। শিশুতোষ গ্রন্থ : শেষ নবীর সন্ধানে,  ছোটদের রাসূলুল্লাহ (১৯৬২), সেকালের রূপকথা (১৯৬৫)। অনুবাদ গ্রন্থ : দীওয়ানে হাফিজ (১৯৩৮), অমিয়শতক (১৯৪০), রুরাইয়াত-ই-ওমর খয়্যাম (১৯৪২), শিকওয়াহ ও জওয়াব-ই-শিকওয়াহ (১৯৪২), মহানবী (১৯৪৬), বাইঅতনামা (১৯৪৮), বিদ্যাপতিশতক (১৯৪৫), কুরআন প্রসঙ্গ (১৯৬২), মহররম শরীফ (১৯৬২), অমর কাব্য (১৯৬৩), ইসলাম প্রসঙ্গ (১৯৬৩), Hundred sayings of the Holy Prophet (SS8 (), Buddhist Mystic songs (১৯৬০)। সংকলন ও সম্পাদনা : পদ্মাবতী (১৯৫০), প্রাচীন ধর্মগ্রন্থে শেষ নবী (১৯৫২), গল্প সংকলন (১৯৫৩), দুই খণ্ডে প্রকাশিত আঞ্চলিক ভাষার অভিধান। এছাড়া তিনি আঙুর” (শিশু পত্রিকা, ১৯২০), ইংরেজি মাসিক 'দি পীস’ (১৯২৩), মাসিক সাহিত্য পত্রিকা “বঙ্গভূমি' (১৯৩৭) ও পাক্ষিক পত্রিকা ‘তকবীর” (১৯৪৭) সম্পাদনা করেন ।

বই ছিল তাঁর জীবনের একান্ত সঙ্গী। ভালো বই পেলে তিনি আহার-নিদ্ৰা ভুলে যেতেন। পড়ার সময় তিনি এত আত্মনিমগ্ন থাকতেন যে, বাইরের কোনো কিছুতেই ইশ থাকত না। এ নিয়ে তাকে মাঝেমধ্যে বিব্রতকর অবস্থায়ও পড়তে হতো। এমনি একটি ঘটনা একবার ঘটেছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারে।

তিনি একটি নির্জন কক্ষে বসে নিমগ্ন ছিলেন গ্রন্থপাঠে। এদিকে লাইব্রেরি বন্ধ হয়ে গেছে, সবাই যে সেখান থেকে চলে গেছে, সেদিকে তার মোটেও খেয়াল ছিল না। যখন খেয়াল হলো, তখন চারদিকের দরজা-জানলা সব বন্ধ হয়ে গেছে। বাইরে থেকেও তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে।

অবশেষে অনেক কষ্টে একটি জানলা খুলে তিনি একজনকে ডেকে নিজের অবস্থার কথা জানান যে, তিনি ভেতরে আটকে পড়েছেন। খবর পেয়ে ছুটে এলো দারোয়ান। দরজা খুলে তাকে মুক্ত করা হলো ।

গোটা জীবনটাই তাঁর কেটেছে ভাষার গবেষণার কাজে ব্যাপৃত থেকে।

ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ তাঁর গবেষণাকর্মের স্বীকৃতিস্বরূপ বেশকিছু পদক, পুরস্কার ও সম্মান লাভ করেন। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো : পাকিস্তান সরকার কর্তৃক রাষ্ট্ৰীয় সম্মান প্রাইড অব পারফরম্যান্স। ১৯৬৭ সালে ফরাসি সরকার কর্তৃক তাঁকে ‘নাইট অব দি অর্ডারস অব আর্টস অ্যান্ড লেটার্স পদক প্রদান করা হয়। আদমজী, দাউদ প্রভৃতি সাহিত্য পুরস্কার কমিটির স্থায়ী সভাপতি হিসেবেও তিনি দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেন।

একজন খাঁটি ধর্মপ্রাণ মুসলমান হলেও তিনি তাঁর ধর্মীয় অনুভূতি অপেক্ষা জাতীয় অনুভূতিকে গুরুত্ব দিতেন বেশি। জাতীয় ও ধর্মীয় চেতনা সম্পর্কে তাঁর বক্তব্য :

“আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।

এটি কোন আদর্শের কথা নয়, এটি বাস্তব কথা। মা প্রকৃতি নিজের হাতে আমাদের চেহারায় ও ভাষায় বাঙালিত্রে এমন ছাপ রেখে দিয়েছেন যে মালাতিলক-টিকিতে কিংবা টুপি-লুঙ্গি-দাড়িতে ঢাকবার জোঁ-টি নেই।”

মুহম্মদ শহীদুল্লাহর এই দুঃসাহসিক উক্তি বাঙালির জাতীয় চেতনা শাণিতকরণে মাইলফলকের ভূমিকা পালন করেছে। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার (১৯৪৭) পরপরই দেশের রাষ্ট্রভাষা উর্দু হবে, না বাংলা হবে, এই বিতর্ক শুরু হলে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার পক্ষে জোরালো বক্তব্য উপস্থাপন করেন তিনি। তাঁর এই ভূমিকার ফলে পূর্ব বাংলায় রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের পথ প্রশস্ত হয় ।

তিনি পরিণত বয়সে ১৯৬৯ খ্রিস্টাব্দের ১৩ জুলাই পরলোকগমন করেন।

 

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান BANGLADESH ICON আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ আতিউর রহমান বেগম রোকেয়া মোস্তাফা জব্বার ভাষা শহিদ সজীব ওয়াজেদ জয় তাজউদ্দীন আহমদ শেরে বাংলা ফজলুল হক মাওলানা ভাসানী  প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার বেগম সুফিয়া কামাল শেখ হাসিনা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হোসেন শহিদ সোহরাওয়ার্দি কাজী নজরুল ইসলাম মাস্টারদা সূৰ্য সেন ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ মণি সিংহ স্যার ফজলে হাসান আবেদ  সালমান এফ রহমান সুফী মুহাম্মদ মিজানুর রহমান মোরশেদ আলম এমপি সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী আহমেদ আকবর সোবহান জয়নুল হক সিকদার দীন মোহাম্মদ আজম জে. চৌধুরী প্রফেসর মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন সাইফুল আলম মাসুদ আলহাজ্ব এম এম এনামুল হক খলিলুর রহমান এ কে এম রহমত উল্লাহ্ ইফতেখার আহমেদ টিপু শেখ কবির হোসেন এ কে আজাদ ডাঃ মোমেনুল হক আলহাজ্ব মোঃ হারুন-উর-রশীদ কাজী সিরাজুল ইসলাম নাছির ইউ. মাহমুদ ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল আজিজ শেখ ফজলে ফাহিম প্রফেসর ড. কবির হোসেন তালুকদার মোঃ হাবিব উল্লাহ ডন রূপালী চৌধুরী হেলেন আখতার নাসরীন মনোয়ারা হাকিম আলী নাসরিন সরওয়ার মেঘলা প্রীতি চক্রবর্তী মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির ক্যাপ্টেন তাসবীরুল আহমেদ চৌধুরী এহসানুল হাবিব আলহাজ্জ্ব জাহাঙ্গীর আলম সরকার আলহাজ্ব খন্দকার রুহুল আমিন তানভীর আহমেদ ড. বেলাল উদ্দিন আহমদ মোঃ শফিকুর রহমান সেলিম রহমান মাফিজ আহমেদ ভূঁইয়া  মোঃ ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ  শহিদ রেজা আব্দুর রউফ জেপি এডভোকেট ইকবাল আহমদ চৌধুরী এ কে এম সরওয়ারদি চৌধুরী ড. এম. মোশাররফ হোসেন মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন লায়ন মোঃ মোজাম্মেল হক ভূঁইয়া মোঃ মিজানুর রহমান সায়েম সোবহান আনভীর মামুন-উর-রশিদ বি এম ইউসুফ আলী মোঃ জামিরুল ইসলাম ডক্টর হেমায়েত হোসেন মোঃ শাহ আলম সরকার ফারজানা চৌধুরী এম. সামসুজ্জামান মেজর পারভেজ হাসান (অব.) এম এ মতিন সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল মাসুদ পারভেজ খান ইমরান ড. এম এ ইউসুফ খান কাজী সাজেদুর রহমান ড. হাকীম মোঃ ইউছুফ হারুন ভূঁইয়া আলহাজ্ব মীর শাহাবুদ্দীন মোঃ মুনতাকিম আশরাফ (টিটু) মোঃ আবদুর রউফ কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ আব্দুল মাতলুব আহমাদ মোঃ মজিবর রহমান মোহাম্মদ নূর আলী সাখাওয়াত আবু খায়ের মোহাম্মদ আফতাব-উল ইসলাম মোঃ সিরাজুল ইসলাম মোল্লা এমপি প্রফেসর ড. আবু ইউসুফ মোঃ আব্দুল্লাহ মোঃ জসিম উদ্দিন বেনজীর আহমেদ মিসেস তাহেরা আক্তার পারভীন হক সিকদার নাসির এ চৌধুরী হাফিজুর রহমান খান ড. মোহাম্মদ ফারুক কাইউম রেজা চৌধুরী মোঃ সবুর খান মাহবুবুল আলম মোঃ হেলাল মিয়া সেলিমা আহমাদ নজরুল ইসলাম ড. এ এস এম বদরুদ্দোজা ড. হায়দার আলী মিয়া ইঞ্জিনিয়ার গুলজার রহমান এম জামালউদ্দিন মোঃ আব্দুল হামিদ মিয়া মোঃ হাবিবুর রহমান মোঃ মুহিব্বুর রহমান চৌধুরী মোহাম্মদ নুরুল আমিন জিয়াউর রহমান ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী শ্যামল দত্ত জ ই মামুন আনিসুল হক সামিয়া রহমান মুন্নি সাহা আব্বাসউদ্দীন আহমদ নীলুফার ইয়াসমীন ফিরোজা বেগম শাহ আব্দুল করিম ফরিদা পারভীন সরদার ফজলুল করিম আনিসুজ্জামান আখতারুজ্জামান ইলিয়াস হুমায়ূন আহমেদ সেলিম আল দীন জহির রায়হান বুলবুল আহমেদ রওশন জামিল সৈয়দ হাসান ইমাম হেলেনা জাহাঙ্গীর অঞ্জন রায় অধ্যক্ষ আব্দুল আহাদ চৌধুরী অধ্যাপক আবু আহমেদ অধ্যাপক  আবু সাইয়িদ অধ্যাপক আমেনা মহসীন অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ অধ্যাপক জয়নাল আবদিন এমপি অধ্যাপক ড. আরিফুর রহমান অধ্যাপক ড. আব্দুল মতিন পাটোয়ারী অধ্যাপক ড. ইজাজ হোসেন অধ্যাপক ড. এ কে আজাদ চৌধুরী অধ্যাপক ড. এ কে আব্দুল মোমেন অধ্যাপক ড. এম এ মান্নান অধ্যাপক ড. এম এ হাকিম অধ্যাপক ড. এম শমসের আলী অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী অধ্যাপক ড. শাহেদা ওবায়েদ অধ্যাপক ড. সদরুল আমিন অধ্যাপক ড. হাফিজ জি. এ. সিদ্দিকী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন অধ্যাপক তৌহিদুল আলম অধ্যাপক ডা. বরেন চক্রবর্তী অধ্যাপক ডা. মতিউর রহমান অধ্যাপক ডা. মোঃ শারফুদ্দিন আহমেদ অধ্যাপক ডা. মোঃ হাবিবে মিল্লাত এমপি অধ্যাপক মেহতাব খানম অধ্যাপিকা অপু উকিল এমপি অধ্যাপক ড. হোসনে আরা বেগম আইয়ুব বাচ্চু আ খ ম জাহাঙ্গীর হোসাইন আনিস এ. খান আনোয়ার উল আলম চৌধুরী পারভেজ আনোয়ার হোসেন মঞ্জু আবদুল বাসেত মজুমদার আবু সাঈদ খান আবুল কাশেম মোঃ শিরিন আবুল কাসেম হায়দার আবুল মাল আব্দুল মুহিত আব্দুল আউয়াল মিন্টু আব্দুল মতিন খসরু এমপি আবদুল মুকতাদির আব্দুল মুয়ীদ চৌধুরী আব্দুস সালাম মুর্শেদী আমির আমির হোসেন আমু এমপি আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী আয়শা খানম আ স ম আবদুর রব আ স ম ফিরোজ আসাদুজ্জামান খান কামাল আসিফ ইব্রাহীম আলী রেজা ইফতেখার আ হ ম মুস্তফা কামাল এমপি ইউসুফ আব্দুল্লাহ হারুন ইনায়েতুর রহিম ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক এমপি ইঞ্জিনিয়ার নুরুল আকতার ইমদাদুল হক মিলন উপধ্যক্ষ মোঃ আব্দুস শহীদ এমপি এ এইচ এম নোমান এ এইছ আসলাম সানি এ কে ফাইয়াজুল হক রাজু এডভোকেট তানবীর সিদ্দিকী এডভোকেট ফজিলাতুন নেসা বাপ্পি এমপি এডভোকেট মোঃ ফজলে রাব্বী এমপি এনাম আলী এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার এমপি এম এ সবুর এম নাছের রহমান এয়ার কমডোর ইসফাক এলাহী চৌধুরী (অব.) এস এম ফজলুল হক ওয়াহিদা বানু কবরী সারোয়ার কাজী ফিরোজ রশীদ কেকা ফেরদৌসী কে. মাহমুদ সাত্তার খন্দকার রুহুল আমিন খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ খালেদ মুহিউদ্দীন খুশি কবির জুনাইদ আহমেদ পলক জোবেরা লিনু টিপু মুন্সী ড. আবুল বারকাত ড. কাজী কামাল আহমদ ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ ড. তৌফিক এম. সেরাজ ড. বদিউল আলম মজুমদার ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন ড. সাজ্জাদ জহির ড. সা’দত হুসাইন মেজর জেনারেল সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহীম (অব.) বীর প্রতীক মেজর জেনারেল হেলাল মোর্শেদ খান (অব.) বীর বিক্রম মেহের আফরোজ চুমকি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ মিথিলা ফারজানা মীর নাসির হোসেন মীর মাসরুর জামান মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন মীর শওকাত আলী বাদশা মুনিরা খান মুহাম্মদ আজিজ খান মোহাম্মদ নূর আলী মোঃ গোলাম মাওলা রনি এমপি মোঃ জসিম উদ্দিন মসিউর রহমান রাঙ্গা রাশেদ খান মেনন রাশেদা কে চৌধুরী লে. কর্ণেল মোঃ ফারুক খান (অব.) শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি শাইখ সিরাজ শাওন মাহমুদ শাজাহান খান এমপি শামসুজ্জামান খান শাহীন আনাম শারমীন মুরশিদ শুভ্র দেব শিবলী মোহাম্মদ শিরীন আখতার সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন সাঈদ খোকন সাকিব আল হাসান সাগুফতা ইয়াসমিন এমেলী সাব্বির হাসান নাসির সালমা খান সালাউদ্দিন কাশেম খান সিগমা হুদা সিলভীয়া পারভীন লিনি সুকুমার রঞ্জন ঘোষ সুরাইয়া জান্নাত সুলতানা কামাল সৈয়দ আখতার মাহমুদ সৈয়দ আবুল মকসুদ সৈয়দ মার্গুব মোর্শেদ সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান হাসানুল হক ইনু ড. সিনহা এম এ সাঈদ অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন ড. হামিদুল হক ড. হোসেন জিল্লুর রহমান ড. হোসেন মনসুর ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী ডা. অরূপরতন চৌধুরী ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী ডা. জাফরুল্লাহ্ চৌধুরী ডা. জোনাইদ শফিক ডা. মোঃ আব্দুল মতিন ডা. লুৎফর রহমান ডা. সরদার এ নাঈম ডা. সাঈদ আহমেদ সিদ্দিকী ডা. সামন্ত লাল সেন তোফায়েল আহমেদ তালেয়া রেহমান দিলরুবা হায়দার নজরুল ইসলাম খান নজরুল ইসলাম বাবু নবনীতা চৌধুরী নাঈমুর ইসলাম খান নমিতা ঘোষ নাঈমুর রহমান দূর্জয় নাসরীন আওয়াল মিন্টু নুরুল ইসলাম সুজন এমপি নুরুল কবীর নিলোফার চৌধুরী মনি এমপি প্রকোশলী তানভিরুল হক প্রবাল প্রফেসর মেরিনা জাহান ফকির আলমগীর ফরিদ আহমেদ বেগম মতিয়া চৌধুরী বিগ্রেডিয়ার জেনারেল এম সাখাওয়াত হোসেন (অব.) ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ব্যারিস্টার আমীর-উল ইসলাম ব্যারিস্টার তানিয়া আমীর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা ব্যারিস্টার সারা হোসেন ভেলরি এ টেইলর মতিউর রহমান চৌধুরী মনজিল মোরসেদ মমতাজ বেগম এমপি মামুন রশীদ মাহফুজ আনাম মাহফুজ উল্লাহ