Bangladesh Icon
আইকন সংবাদ:

মাস্টারদা সূৰ্য সেন

ব্রিটিশ-বিরোধী আন্দোলনের বিপ্লবী বীর


মাস্টারদা সূর্যসেন ভারতবর্ষের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম নেতা হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিত্ব। সূর্যকুমার সেন, ডাকনাম কালু, যিনি মাস্টারদা নামে সমধিক পরিচিত। পূর্ববঙ্গে জন্ম নেয়া এই বাঙালি বিপ্লবী তৎকালীন ব্রিটিশ বিরোধী সশস্ত্র আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন এবং নিজ জীবন বলিদান করেন। সূর্যসেনের বাহিনী কয়েকদিনের জন্যে ব্রিটিশ শাসনকে চট্টগ্রাম এলাকা থেকে নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছিল। সূর্য সেনের অন্যতম সাথী বিপ্লবী অনন্ত সিংহের ভাষায় "কে জানতো যে আত্মজিজ্ঞাসায় মগ্ন সেই নিরীহ শিক্ষকের স্থির প্রশান্ত চোখ দুটি একদিন জ্বলে উঠে মাতৃভূমির দ্বিশতাব্দীব্যাপি অত্যাচারের প্রতিশোধ নিতে উদ্যত হবে? ১৮৫৭ সালে সিপাহী বিদ্রোহ দমনের জন্য বর্বর অমানুষিক অত্যাচারের প্রতিশোধ, জালিয়ানওয়ালাবাগের নৃশংস হত্যাকান্ডের প্রতিশোধ! কে জানতো সেই শীর্ন বাহু ও ততোধিক শীর্ন পদযুগলের অধিকারী একদিন সাম্রাজ্যবাদী ইংরেজ রাজশক্তির বৃহত্তম আয়োজনকে ব্যর্থ করে - তার সমস্ত ক্ষমতাকে উপহাস করে বৎসরের পর বৎসর চট্টগ্রামের গ্রামে গ্রামে বিদ্রোহের আগুন জ্বালিয়ে তুলবে?"

ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে সশস্ত্ৰ বিপ্লবের ইতিহাসে যে তিনটি ঘটনা ব্রিটিশ শাসকগোষ্ঠীর ভিতকে সবচেয়ে বেশি কাঁপিয়ে তুলেছিল, সেই তিনটি ঘটনা ছিল যথাক্রমে ১৯০৮ সালে বোমা মেরে কুখ্যাত ব্রিটিশ বিচারপতি কিংসফোর্ডকে হত্যা করতে ব্যর্থ হয়ে ক্ষুদিরামের ফাঁসিতে আত্মদান, ১৯১৫ সালে বাঘা যতীনের নেতৃত্বে ইংরেজ কমিশনার টেগার্টের সঙ্গে মুখোমুখি যুদ্ধ ও বাঘা যতীনের আত্মত্যাগ এবং ১৯৩০ সালে চট্টগ্রামের ব্রিটিশ অস্ত্রাগারে আক্রমণ ও দখল করে কয়েক দিনের জন্য হলেও চট্টগ্রামকে ব্রিটিশ অধিকারমুক্ত এলাকা বলে ঘোষণা করা। এই সর্বশেষ ঘটনার যিনি প্রধান নায়ক, তিনি অবিভক্ত ভারত তথা বাংলার অসম সাহসী বিপ্লবী বীর মাস্টার দা সূৰ্য্য সেন।

উপমহাদেশে ব্রিটিশ-বিরোধী আন্দোলনের ইতিহাসে এতবড় চাঞ্চল্যকর ঘটনা। আর নেই। তবে ওটাই ছিল সূচনাবিন্দু। ছিল উপমহাদেশকে সম্পূর্ণ ব্রিটিশ শাসনমুক্ত করার বৃহত্তর পরিকল্পনারই একটি অংশ। পরবর্তীকালে যা পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতার রূপ পরিগ্রহ করে ।

সেদিন সশস্ত্র সংগ্রামের যে বীজ রোপিত হয়েছিল যার নেতৃত্ত্বে, তিনি ছিলেন ভারতের স্বাধীনতার ইতিহাসের এক গৌরবদীপ্ত অধ্যায়ের রচয়িতা ।

সূর্য সেন ছিলেন চট্টগ্রামেরই এক কৃতী সন্তান। চট্টগ্রাম জেলার রাউজান থানার নোয়াপাড়া গ্রামের এক নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারে ১৮৯৪ সালের ১৮ অক্টোবর তিনি জন্মগ্রহণ করেন ।

পিতার নাম ছিল রাজমণি সেন আর মায়ের নাম শশীবালা । তারা ছিলেন চার বোন ও দু-ভাই।

তাঁর যখন মাত্র পাঁচ বছর বয়স, তখন তার বাবা রাজমণির মৃত্যু হয়। বাবার অবর্তমানে বড়কাকা গৌরমণি সেনের স্নেহ-আদরে ললিতাপালিত হতে থাকেন সূর্য সেন।

গৃহের প্রাথমিক পাঠ শেষ হওয়ার পর তাঁকে প্রথমে ভর্তি করিয়ে দেয়া হয় গ্রামের দয়াময়ী স্কুলে। এখানেই তিনি ৮ম শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। তারপর চট্টগ্রাম শহরে এসে ভর্তি হন নন্দনকাননের ন্যাশনাল হাই স্কুলে। এই স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করে চট্টগ্রাম কলেজে ভর্তি হন ইন্টারমিডিয়েট পড়ার জন্য। ১৯১৫ সালে (এই বছরই বিপ্লবী বাঘা যতীন সম্মুখযুদ্ধে নিহত হন) তিনি ইন্টারমিডিয়েট পাস করে বি.এ. পড়ার জন্য আসেন মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের কৃষ্ণনাথ কলেজে। সরাসরি রাজনীতিতে না জড়ালেও কিশোর বয়স থেকেই সূর্য সেন একটা কথা বুঝতে পেরেছিলেন, তাদের দেশটা পরাধীন; বিদেশী স্বাৰ্থবাদী একটা গোষ্ঠী ছিলেবলে কৌশলে তাদেরকে দমন করে রেখে শোষণ ও শাসন করছে। এদের দেশছাড়া করতে না পারলে এই শোষণ বন্ধ হবে না। তিনি আরও বুঝতে পেরেছিলেন, এদেশেরই একশ্রেণীর সচেতন মানুষ দেশকে, দেশের মাটিকে প্রাণ দিয়ে ভালোবাসে। তারা ইংরেজদের তাড়ানোর চেষ্টাও করছে, আন্দালোন করছে। তিনি ক্ষুদিরামের এবং বাঘা যতীনের আত্মত্যাগের কথাও শুনেছেন। শুনে তার মনেও ক্রমশ বিপ্লবী চেতনা জন্ম নিতে থাকে।

তিনি যখন বহরমপুরের কৃষ্ণনাথ কলেজে পড়তেন, তখন সেই কলেজে সতীশচন্দ্র চক্রবতী নামে একজন অধ্যাপক ছিলেন। তিনি ছিলেন যুগান্তর বিপ্লবী দলের সঙ্গে জড়িত। তিনি খুব গোপুনে কলেজের তরুণ ছাত্রদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতেন বিপ্লবের বাণী। বাছাই করা ছাত্রদের তিনি বিপ্লবী আদর্শে অনুপ্রাণিত করতেন।

আসলে অধ্যাপক সতীশ ছিলেন যুগান্তর দলের একজন সক্রিয় সদস্য। কলেজে অধ্যাপকের ছদ্মবেশে তরুণদের মনে বিপ্লবী চেতনা ছড়িয়ে দেয়াই ছিল তার কাজ । অধ্যাপকের চাকরিটা ছিল তার কলেজে থাকার ও তরুণদের সঙ্গে মিশবার একটা বৈধ উপায় মাত্র। তরুণ ছাত্র সূর্য সেনও একদিন তাঁর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হন। তাঁর এই শিক্ষক সতীশ চক্রবতীর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়েই তিনি ভারতের মুক্তির লক্ষ্যে বিপ্লবী সংগ্রামে যোগদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। ১৯১৭ সালে সূর্যসেন বি.এ. পাস করেন। পাস করার পর তিনি ইচ্ছে করলে একটি ভালো সরকারি চাকরি নিতে পারতেন। কিন্তু তা করলেন না। শিক্ষক সতীশ চক্রবতীর বৈপ্লবিক আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনিও ছদ্মবেশ ধারণ করলেন। তরুণদের সংস্পর্শে থাকার জন্য চাকরী নিলেন চট্টগ্রাম শহরে দেওয়ান বাজারে উমাতারা হাইস্কুলে অঙ্কের শিক্ষক হিসেবে। তাঁর মূল লক্ষ্য ছিল কিশোর ও তরুণদেরকে স্বাধীনতার মন্ত্রে দীক্ষিত করে তোলা, তাদেরকে বিপ্লবী দলে টেনে আনা।

এর আগে থেকে চট্টগ্রামেও ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কয়েকটি গোপন বিপ্লবী দল ছিল। সূর্য সেন তাদের সঙ্গে যোগ দিলেন এবং ভেঙে-পড়া দলগুলোকে একত্র করে ১৯২০ সালে ‘সত্যাশ্রম’ নামে একটি নতুন বিপ্লবী সংগঠন গড়ে তুললেন।

সূর্য সেন কথা বলতেন কম, কিন্তু বুঝতেন অনেক বেশি। জ্ঞান ও বুদ্ধির প্রখরতার কারণেই তিনি অচিরকালের মধ্যে বিপ্লবী দলের নেতার আসনে আসীন হন। হয়ে ওঠেন সকলের প্রিয় নেতা। তিনি মাস্টারি করতেন বলে ক্রমে তার ডাকনাম হয়ে গেল “মাস্টারদা’ । ছাত্রদের কাছেও তিনি “মাস্টারদা’ । প্রথমদিকে তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের মধ্যে ছিলেন অম্বিকা চক্রবর্তী, অনুরূপ সেন এবং চারুবিকাশ দত্ত। সূর্য সেনের যোগ্য নেতৃত্বে দলের সদস্যসংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে। তবে সাংগঠনিক সব ধরনের তৎপরতাই চলছিল অত্যন্ত গোপনে ।

সূর্য সেনের নেতৃত্বে চট্টগ্রামে বিপ্লবীরা শুধু আলাপ-আলোচনার মধ্যেই তাদের তৎপরতা সীমাবদ্ধ না রেখে সক্রিয়ভাবেও কিছু করার সিদ্ধান্ত নিলেন। তবে বড়কিছু করতে গেলে চাই অর্থ, চাই অস্ত্রশস্ত্ৰ। অস্ত্ৰ সংগ্রহের জন্য চাই টাকা। তাই তারা প্রথমে নিজ নিজ বাড়ি থেকে টাকা এনে প্রাথমিক তহবিল গঠনের সিদ্ধান্ত নিলেন। এভাবে সূর্য সেনের হাতে এসে গেল এক হাজার টাকা । কিন্তু শুধু টাকা পেলেইতো চলবে না, সশস্ত্ৰ সংগ্রাম চালাতে গেলে একটি নিরাপদ আশ্রয় অর্থাৎ লুকানোর মতো একটি আশ্রয়ও চাই।

সেইমতো তারা ১৯২৩ সালে চট্টগ্রাম শহর থেকে ৮/৯ কিলোমিটার উত্তরে শহরতলির বহাদ্দারহাট নামক স্থানের একটি পুরনো একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে গিয়ে আস্তনা গেড়ে বসেন। পাচিলঘেরা ভাঙা ভুতুড়ে বাড়ি বলে এখানে কারো পা পড়ে না। তাই এটাই হয়ে উঠল বিপ্লবীদের জন্য নিরাপদ ডেরা। বাড়িটার নাম ছিল ‘ষোলক বহর’।

এখানে বসেই আরও অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা নিলেন সূর্য সেন। ইংরেজদের সঙ্গে বড় ধরনের যুদ্ধে যেতে হলে আরও শক্তি সঞ্চয় করা প্রয়োজন।

চট্টগ্রাম শহরের একটি পাহাড়ের ওপর ছিল ইংরেজদের আসাম-বেঙ্গল রেলওয়ের হেড অফিস । এখানে কয়েক হাজার কর্মচারী কাজ করে। প্রতিমাসে প্রধান কাৰ্যালয় থেকে কর্মচারীদের বেতনের টাকা এখানে পাঠানো হয়।

সূর্য সেনের নির্দেশে এবং সংগঠনের অন্যতম সাহসী বিপ্লবী অনন্ত সিংহের নেতৃত্বে একটি বিপ্লবী দল পিস্তল দেখিয়ে রেল কর্মচারীদের বেতনের টাকা বহনকারী গাড়ি আটকে ১৭ হাজার টাকা ছিনতাই করে। এই কাজটি করা হয়েছিল ১৯২৩ সালের ১৪ ডিসেম্বর। তাঁরা কাজটি সমাধা করে নিরাপদেই ঘাঁটিতে ফিরতে পেরেছিলেন। কিন্তু এর দিনকয়েক পরেই সূর্য সেন খবর পেলেন একজন অফিসার সকালের দিকে “ষোলক বহর বাড়ির পাশ দিয়ে ঘোরাফেরা শুরু করেছে। এই খবর পাওয়ার পর তিনি বুঝলেন পুলিশের অভিযান অত্যাসন্ন। তিনি তখনি সাথিদের নিয়ে বাড়ি ছেড়ে দিয়ে পাহাড়ের জঙ্গলের দিকে ছুটলেন।

এইভাবে ছুটতে ছুটতে তিনি পূর্বদিকে পটিয়ার পাহাড় আর জঙ্গলের প্রায় ২০/২২ কিলোমিটার ভেতরে চলে এলেন। কিন্তু এতদূর এসেও রেহাই পেলেন না। দেখলেন সামনেই পুলিশবাহিনী দাঁড়িয়ে । পুলিশ তাদেরকে ঘিরে ফেলল। পুলিশের সঙ্গে যুদ্ধে তাঁরা হেরে গেলেন। অবশেষে সূর্য সেন এবং অম্বিকা চক্রবর্তী ধরা পড়ার চেয়ে মৃত্যুবরণ করাকে শ্রেয় মনে করে বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করলেন। কিন্তু পুলিশ তাদেরকে অচৈতন্য অবস্থায় গ্রেফতার করল। অনন্ত সিংহও কিছুদিন পর কোলকাতা থেকে ধরা পড়লেন। কিন্তু মাস্টারদার বিরুদ্ধে কোনো অপরাধ প্রমাণিত না । হওয়ায় তিনি কিছুদিন পর মুক্তি পেলেন।

জেল থেকে মুক্ত হলে কী হবে, তার কার্যক্রম বন্ধ হলো না। তবে এবার বেশ সাবধান হয়ে গেলেন। খুবই গোপনে চলতে লাগল তাঁর কর্মতৎপরতা। এভাবে ১৯২৪ থেকে ১৯২৬ সাল পর্যন্ত বাংলা, আসাম ও যুক্ত প্রদেশের বিপ্লবীদের সংগঠিত করে চললেন তিনি ।

এই সময়ই অর্থাৎ ১৯২৪ সালে চট্টগ্রামের দেওয়ান বাজারের এক বাড়িতে বিপ্লবীদের নিয়ে তিনি যখন বৈঠক করছিলেন, তখন পুলিশ এসে হামলা চালায়। তিনি পালাতে সক্ষম হলেও তাঁর সহযোগী অম্বিকা চক্রবর্ত, নির্মল সেন, অনন্ত সিংহ ও গণেশ ঘোষ ধরা পড়ে গেলেন।

তিনি সঙ্গীদের হারিয়ে কিছুদিন আত্মগোপন করে থাকলেন। কিন্তু ১৯২৬ সালের ১০ নভেম্বর কোলকাতার শোভাবাজারের এক গোপন আড্ডাখানায় তাকে ধরার জন্য পুলিশ আবার হামলা চালায়। এবারও তিনি ছদ্মবেশ ধারণ করে পুলিশকে ফাঁকি দিতে সক্ষম হন। তবে কয়েক মাস পরে কোলকাতায় তিনি আবার ধরা পড়েন। তাকে গ্রেফতার করে পাঠিয়ে দেয়া হয় বোম্বের রত্নগিরি জেলে ।

জেল থেকে তিনি ছাড়া পান। ১৯২৮ সালের শেষের দিকে। এবার জেল থেকে বের হয়ে আসার পর তিনি রাজনৈতিক দল, তথা কংগ্রেসে যোগদান করেন। তবে এবারের এই জেলে যাওয়ার সময় তাঁর জীবনে একটি দুঃখজনক ঘটনা ঘটে । ১৯২৮ সালের মাঝামাঝি তিনি খবর পান যে, তাঁর স্ত্রী পুষ্পকুন্তলা খুবই অসুস্থ। তাই কর্তৃপক্ষ দয়াপরবশ হয়ে স্ত্রীকে দেখার জন্য তাঁকে চট্টগ্রাম জেলে স্থানান্তর করেন। এ সময় তাঁকে বিশেষ পুলিশ প্রহরায় শ্বশুরবাড়িতে স্ত্রীর কাছেও থাকতে দেয়া হয় এবং তাঁর উপস্থিতিতেই পুষ্পকুন্তলার মৃত্যু হয়।

১৯২৯ সালে তিনি চট্টগ্রাম জেলা কংগ্রেসের সম্পাদক পদে নির্বাচিত হন। কংগ্রেসের এই অফিস ছিল বিপ্লবীদের গোপন আস্তানা।

১৯২৯ সাল থেকেই সূর্য সেন বড় রকমের একটা কিছু করার জন্য প্রস্তুতি নিতে থাকেন। তিনি ঠিক করলেন, ইংরেজদের কবল থেকে দেশকে মুক্ত করার সংগ্রাম আরও জোরদার করতে হবে এবং জনসাধারণের সামনে বিপ্লবী আদর্শের কিছু নজির স্থাপন করতে হবে। এরই নজির হিসেবে চট্টগ্রামকে স্বাধীন করে দেখাতে হবে। এখানে ইংরেজদের ঘাঁটিগুলো দখল করে চট্টগ্রামকে করতে হবে আগে ব্রিটিশ শাসনমুক্ত। এটাই হবে সারা ভারতের জন্য একটি দৃষ্টান্তমূলক ঘটনা।

চট্টগ্রামে তখন পুলিশবাহিনীর একটি অস্ত্রাগার ছিল। মাস্টারদা সিদ্ধান্ত নিলেন। অতর্কিতে হামলা চালিয়ে এই অস্ত্রাগারটি তিনি লুট করবেন। এখানে সামরিক বাহিনীরও প্রচুর অস্ত্র থাকত। যদি এই বিপুল পরিমাণ অস্ত্র তাঁরা হাতে পান, তা-হলে ইংরেজদের বড় ধরনের প্রতিআক্রমণও তারা ঠেকাতে পারবেন। অবশ্য চট্টগ্রামের এই স্বাধীনতা যে বেশিক্ষণ টিকিয়ে রাখা যাবে না, সেটা মাস্টারদাও জানতেন। তারপরও এই অভিযানে, তা যতো স্বল্প স্থায়ীই হোক না কেন, সফল হতে পারলে ইংরেজ দখলদারদের একটা বড় রকমের ধাক্কা দেয়া যাবে। ফলে গোটা ভারতের স্বাধীনতার পথ অনেকখানি কণ্টকমুক্ত হবে। তারই-বা মূল্য কম কীসে ?

এই লক্ষ্যেই তিনি তার বাছাই-করা কর্মীদের নিয়ে অত্যন্ত গোপনে শুরু করে দেন কর্মতৎপরতা। এই প্ৰস্তুতি নিতে নিতেই পার হয়ে যায় ১৯৩০ সালের মার্চ মাস। এদিকে ভারতবর্ষের অন্যান্য অঞ্চলেও তখন স্বাধীনতা আন্দোলন তীব্ৰ আকার ধারণ করেছে। মহাত্মা গান্ধির নেতৃত্বে ভারত জুড়ে শুরু হয়েছে আইন অমান্য আন্দালোন। গান্ধি সূচিত এই আন্দালোনের সমর্থনে চট্টগ্রামের বিপ্লবী দলের নেতৃবৃন্দের নামে একটি ইশতেহার প্রকাশ করা হলো। এই ইশতেহার প্রকাশের ফলে গান্ধি-সমর্থকরা অসম্ভব খুশি হয়ে উঠলেন। তবে পুলিশবাহিনীর নজর হয়ে উঠল আরো প্রখর ।

এই সতর্ক দৃষ্টির সামনেই মাস্টারদা ১৯৩০ সালের এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে ঘটিয়ে ফেললেন দুনিয়া-কাপানো একটা ঘটনা।

পূর্বপরিকল্পনা মোতাবেক ১৮ এপ্রিল (১৯৩০ সাল) রাত সাড়ে দশটার দিকে অনন্ত সিংহের অধিনায়কত্বে এবং মাস্টারদার পরিচালনায় সামরিক পোশাকে সজ্জিত একটি বিপ্লবী দল চট্টগ্রামের সার্কিট হাউসে অবস্থিত অস্ত্রাগারে হামলা করে বসে।

বিপ্লবীরা সামরিক পোশাকে সজ্জিত ছিলেন বলে নাইটগার্ডের সদস্যরা বুঝতেই পারেনি যে এরা কারা। তাদের ধারণা হয়েছিল হয়তো সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের দল রাতে অস্ত্রাগার পরিদর্শনে এসেছেন।

তাই বিপ্লবীরা খুব অনায়াসেই দখল করে ফেললেন অস্ত্রাগারটি। ওই একই সময়ে আরেকটি দল চট্টগ্রামের পাহাড়তলির সামরিক বাহিনীর একটি অস্ত্রাগারও দখল করে নেয়। আর একটি দল দখল করে টেলিফোন ভবন ও টেলিগ্রাফ অফিস। ওই রাতেই মাস্টারদা নিজের হাতে চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার মাঠে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। সেই সঙ্গে জাতীয় পতাকার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনবার তোপধ্বনিও (বন্দুকের আওয়াজ) করেন। অভিযানের সর্বাধিনায়ক মাস্টারদা সূর্য সেন এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন চট্টগ্রামের স্বাধীনতা । গঠিত হয় স্বাধীন চট্টগ্রামের বিপ্লবী সরকার। বিপ্লবী সরকারের প্রধান হলেন মাস্টারদা। সকলের মনেই তখন মহাবিজয়ের আনন্দ। কিন্তু আনন্দঘন এই মুহুর্তের পরেই যে বিপদ ঘনিয়ে আসছে, তাও তাঁরা জানতেন। হলোও তাই ।

এদিকে চট্টগ্রামের এই বিদ্রোহের কথা জানিয়ে দেয়া হলো কোলকাতার লাল কেল্লার পুলিশ দফতরকে। এদিকে চট্টগ্রামের আতঙ্কিত ইংরেজ নাগরিকরা জাহাজে করে ছুটিল কোলকাতার দিকে।

ঘটনার চারদিন পর অর্থাৎ ২২ এপ্রিল (১৯৩০) বিশাল এক ফৌজ এসে নামে চট্টগ্রামে। তারা জালালাবাদ পাহাড়ের ওপরে অবস্থান গ্রহণ করা বিদ্রোহী বাহিনীকে ঘিরে ফেলে। কিন্তু মাস্টারদা এবং তাঁর সহযোগী লোকনাথ বলের আক্রমণের মুখে তারা পিছু হাঁটতে বাধ্য হয়।

এই যুদ্ধে ইংরেজদের ৮০ জন সৈন্য এবং বিপ্লবীদের ১২ জন শহিদ হন। ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে এটা ছিল সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য লড়াই, ইতিহাসের পাতায় যা চিরদিন স্বর্নাক্ষরে লেখা থাকবে।

প্রথম ধাক্কায় হেরে গিয়ে ইংরেজ বাহিনী সাময়িকভাবে পিছু হটতে বাধ্য হলেও আবার শক্তি সঞ্চয় করে আরও ভারি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে নতুন করে আক্রমণ চালায়।

সূর্য সেন দেখলেন, ইংরেজ বাহিনী আবার নতুন উদ্যমে পাহাড় বেয়ে ওপরে উঠে আসার চেষ্টা করছে। এই অবস্থায় মুহুর্তমাত্র বিলম্ব না করে শত্রুসৈন্যের ওপর আঘাত হানার নির্দেশ দিলেন।

কিন্তু ব্রিটিশ সেনা সদস্যদের কামান আর মেশিনগানের মুখে সামান্য রাইফেল আর পিস্তল নিয়ে কতক্ষণ টিকে থাকা যায়! লোকনাথ বলের ছোটভাই টেগরা কিন্তু এরই মধ্যে প্রাণ দিয়েছেন। এর পরেই একে একে শহিদ হলেন ত্রিপুরা সেন, বিধু ভট্টাচার্য, নরেশ রায়, নির্মল লালা, প্রভাস বল, পুলিন ঘোষ, অর্ধেন্দু দস্তিদার এবং মধু দত্ত । জালালাবাদ পাহাড়ের যুদ্ধের পর আরও কয়েকটি স্থানে ইংরেজ বাহিনীর সঙ্গে বিপ্লবীদের খণ্ডযুদ্ধ হয়। কিন্তু ততক্ষণে বিপ্লবীরা পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। সূর্য সেন ইতিমধ্যে পালিয়ে এসে আশ্রয় নিয়েছেন। ধলঘাট গ্রামের সাবিত্রী দেবীর বাড়িতে। কিন্তু এই লুকিয়ে থাকা অবস্থাতেও থেমে থাকেনি। সূর্য সেনের বিপ্লবী তৎপরতা। তিনি তার দলের অন্যতম সদস্যা ও নন্দনকানন বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা প্রীতিলতা ওয়াদেদারকে দিয়ে আরেকটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটান।

তখন চট্টগ্রাম শহরে ইউরোপিয়ানদের একটি নাইট ক্লাব ছিল। সেখানে এসে তারা প্রতিদিন পানাহার আর হুইহুল্লোড় করে আমোদফুর্তি করত।

সূর্য সেনের নির্দেশে ও গ্ৰীতিলতার নেতৃত্বে এই নাইট ক্লাবে অতর্কিত আক্রমণ চালানো হয় ১৯৩২ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর । এই নাইট ক্লাবের ওপর আক্রমণ চালিয়ে ইংরেজ নরনারীকে হত্যা করলেও প্রীতিলতা নিজেও মারা পড়েন। পুলিশবাহিনী তাঁকে চারদিক থেকে ঘেরাও করে ফেলে এবং যখন দেখেন যে, পালাবার আর কোনো পথ নেই, তখন তিনি বিষপানে আত্মহত্যা করেন। বিপ্লবের ইতিহাসে এটাও ছিল আরেকটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা ।

১৯৩৩ সাল। আত্মগোপনকারী মাস্টারদা তখন চট্টগ্রামের পটিয়ার গৈড়লা গ্রামের বিধবা সাবিত্রী দেবীর বাড়িতে। ইংরেজ সরকার তাঁকে জীবিত বা মৃত ধরে দেয়ার জন্য দশ হাজার টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছে। তাই ভীষণ সাবধানী তিনি। কিন্তু টাকার লোভে নেত্র সেন নামে এক ব্যক্তি সূর্য সেনের এই গোপন আশ্রয়কেন্দ্রের কথা গোয়েন্দা হেডকোয়াটারে পৌঁছে দেয়। এখান থেকেই ১৯৩৩ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি গোখরাবাহিনীর হাতে ধরা পড়েন সূর্য সেন।

সূর্য সেনকে গ্রেফতার করতে পেরে ইংরেজরাতো মহাখুশি! অন্যদিকে এই খবর শুনে চট্টগ্রামের হাজার হাজার নরনারী তাদের প্রিয় নেতা ও কিংবদন্তির পুরুষ বিপ্লবী সূর্য সেনকে এক নজর দেখার জন্য ছুটে আসে মিলিটারি ক্যাম্পে। সবাই তাঁকে দূর থেকে সালাম জানিয়ে চলে যায়।

তাঁকে আটক করে নিয়ে যাওয়া হলো কারাগারে। তারপর বিচারের নামে অনুষ্ঠিত হলো প্রহসন। ১৯৩৩ সালের ১৪ আগস্ট ঘোষিত হলো তার বিচারের রায় । ফাঁসির আদেশ হলো তার। ভারতবর্ষ জুড়ে এই অন্যায় রায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের তীব্র ঝড় উঠল। কিন্তু দখলদার ইংরেজ সরকার এই প্রতিবাদের প্রতি কৰ্ণপাত করল না।

রায় ঘোষণার পাঁচ মাস পর অর্থাৎ ১৯৩৪ সালের ৮ জানুয়ারি সূর্য সেনের ফাঁসি কার্যকর করা হয়। মাস্টারদার সঙ্গে সেদিন তার সহযোগী বিপ্লবী তারকেশ্বর দস্তিদারকেও ফাঁসি দেয়া হয়েছিল।

সহকমীদের উদ্দেশে মাস্টারদার শেষ চিঠিতে লেখা ছিল এই কথা: “আমি দেখেছিলাম সোনালী স্বপ্ন। মুক্ত ভারতবর্ষের স্বপ্ন। নিরবচ্ছিন্নভাবে আমি সারাজীবন তারই জন্যে নিজেকে নিবেদিত করেছিলাম-কতটা এগিয়েছি জানি না। কমরেডস, যদি মৃত্যুর শীতল স্পর্শ তোমাকে নিম্পন্দ করে, তবে তুমি তোমার সাথীকে দিয়ে যেও লক্ষ্যে পৌছবার তাগিদ।—সূর্য সেন।”

তিনি নেই কিন্তু ভারতের স্বাধীনতার ইতিহাসে সূর্য সেন সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের যে উজ্জ্বল অধ্যায়ের সৃষ্টি করে গেছেন, তা আগামী প্রজন্মকে যুগ-যুগ ধরে ন্যায়ের সংগ্রামে উজজীবিত করবে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান BANGLADESH ICON আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ আতিউর রহমান বেগম রোকেয়া মোস্তাফা জব্বার ভাষা শহিদ সজীব ওয়াজেদ জয় তাজউদ্দীন আহমদ শেরে বাংলা ফজলুল হক মাওলানা ভাসানী  প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার বেগম সুফিয়া কামাল শেখ হাসিনা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হোসেন শহিদ সোহরাওয়ার্দি কাজী নজরুল ইসলাম মাস্টারদা সূৰ্য সেন ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ মণি সিংহ স্যার ফজলে হাসান আবেদ  সালমান এফ রহমান সুফী মুহাম্মদ মিজানুর রহমান মোরশেদ আলম এমপি সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী আহমেদ আকবর সোবহান জয়নুল হক সিকদার দীন মোহাম্মদ আজম জে. চৌধুরী প্রফেসর মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন সাইফুল আলম মাসুদ আলহাজ্ব এম এম এনামুল হক খলিলুর রহমান এ কে এম রহমত উল্লাহ্ ইফতেখার আহমেদ টিপু শেখ কবির হোসেন এ কে আজাদ ডাঃ মোমেনুল হক আলহাজ্ব মোঃ হারুন-উর-রশীদ কাজী সিরাজুল ইসলাম নাছির ইউ. মাহমুদ ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল আজিজ শেখ ফজলে ফাহিম প্রফেসর ড. কবির হোসেন তালুকদার মোঃ হাবিব উল্লাহ ডন রূপালী চৌধুরী হেলেন আখতার নাসরীন মনোয়ারা হাকিম আলী নাসরিন সরওয়ার মেঘলা প্রীতি চক্রবর্তী মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির ক্যাপ্টেন তাসবীরুল আহমেদ চৌধুরী এহসানুল হাবিব আলহাজ্জ্ব জাহাঙ্গীর আলম সরকার আলহাজ্ব খন্দকার রুহুল আমিন তানভীর আহমেদ ড. বেলাল উদ্দিন আহমদ মোঃ শফিকুর রহমান সেলিম রহমান মাফিজ আহমেদ ভূঁইয়া  মোঃ ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ  শহিদ রেজা আব্দুর রউফ জেপি এডভোকেট ইকবাল আহমদ চৌধুরী এ কে এম সরওয়ারদি চৌধুরী ড. এম. মোশাররফ হোসেন মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন লায়ন মোঃ মোজাম্মেল হক ভূঁইয়া মোঃ মিজানুর রহমান সায়েম সোবহান আনভীর মামুন-উর-রশিদ বি এম ইউসুফ আলী মোঃ জামিরুল ইসলাম ডক্টর হেমায়েত হোসেন মোঃ শাহ আলম সরকার ফারজানা চৌধুরী এম. সামসুজ্জামান মেজর পারভেজ হাসান (অব.) এম এ মতিন সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল মাসুদ পারভেজ খান ইমরান ড. এম এ ইউসুফ খান কাজী সাজেদুর রহমান ড. হাকীম মোঃ ইউছুফ হারুন ভূঁইয়া আলহাজ্ব মীর শাহাবুদ্দীন মোঃ মুনতাকিম আশরাফ (টিটু) মোঃ আবদুর রউফ কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ আব্দুল মাতলুব আহমাদ মোঃ মজিবর রহমান মোহাম্মদ নূর আলী সাখাওয়াত আবু খায়ের মোহাম্মদ আফতাব-উল ইসলাম মোঃ সিরাজুল ইসলাম মোল্লা এমপি প্রফেসর ড. আবু ইউসুফ মোঃ আব্দুল্লাহ মোঃ জসিম উদ্দিন বেনজীর আহমেদ মিসেস তাহেরা আক্তার পারভীন হক সিকদার নাসির এ চৌধুরী হাফিজুর রহমান খান ড. মোহাম্মদ ফারুক কাইউম রেজা চৌধুরী মোঃ সবুর খান মাহবুবুল আলম মোঃ হেলাল মিয়া সেলিমা আহমাদ নজরুল ইসলাম ড. এ এস এম বদরুদ্দোজা ড. হায়দার আলী মিয়া ইঞ্জিনিয়ার গুলজার রহমান এম জামালউদ্দিন মোঃ আব্দুল হামিদ মিয়া মোঃ হাবিবুর রহমান মোঃ মুহিব্বুর রহমান চৌধুরী মোহাম্মদ নুরুল আমিন জিয়াউর রহমান ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী শ্যামল দত্ত জ ই মামুন আনিসুল হক সামিয়া রহমান মুন্নি সাহা আব্বাসউদ্দীন আহমদ নীলুফার ইয়াসমীন ফিরোজা বেগম শাহ আব্দুল করিম ফরিদা পারভীন সরদার ফজলুল করিম আনিসুজ্জামান আখতারুজ্জামান ইলিয়াস হুমায়ূন আহমেদ সেলিম আল দীন জহির রায়হান বুলবুল আহমেদ রওশন জামিল সৈয়দ হাসান ইমাম হেলেনা জাহাঙ্গীর অঞ্জন রায় অধ্যক্ষ আব্দুল আহাদ চৌধুরী অধ্যাপক আবু আহমেদ অধ্যাপক  আবু সাইয়িদ অধ্যাপক আমেনা মহসীন অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ অধ্যাপক জয়নাল আবদিন এমপি অধ্যাপক ড. আরিফুর রহমান অধ্যাপক ড. আব্দুল মতিন পাটোয়ারী অধ্যাপক ড. ইজাজ হোসেন অধ্যাপক ড. এ কে আজাদ চৌধুরী অধ্যাপক ড. এ কে আব্দুল মোমেন অধ্যাপক ড. এম এ মান্নান অধ্যাপক ড. এম এ হাকিম অধ্যাপক ড. এম শমসের আলী অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী অধ্যাপক ড. শাহেদা ওবায়েদ অধ্যাপক ড. সদরুল আমিন অধ্যাপক ড. হাফিজ জি. এ. সিদ্দিকী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন অধ্যাপক তৌহিদুল আলম অধ্যাপক ডা. বরেন চক্রবর্তী অধ্যাপক ডা. মতিউর রহমান অধ্যাপক ডা. মোঃ শারফুদ্দিন আহমেদ অধ্যাপক ডা. মোঃ হাবিবে মিল্লাত এমপি অধ্যাপক মেহতাব খানম অধ্যাপিকা অপু উকিল এমপি অধ্যাপক ড. হোসনে আরা বেগম আইয়ুব বাচ্চু আ খ ম জাহাঙ্গীর হোসাইন আনিস এ. খান আনোয়ার উল আলম চৌধুরী পারভেজ আনোয়ার হোসেন মঞ্জু আবদুল বাসেত মজুমদার আবু সাঈদ খান আবুল কাশেম মোঃ শিরিন আবুল কাসেম হায়দার আবুল মাল আব্দুল মুহিত আব্দুল আউয়াল মিন্টু আব্দুল মতিন খসরু এমপি আবদুল মুকতাদির আব্দুল মুয়ীদ চৌধুরী আব্দুস সালাম মুর্শেদী আমির আমির হোসেন আমু এমপি আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী আয়শা খানম আ স ম আবদুর রব আ স ম ফিরোজ আসাদুজ্জামান খান কামাল আসিফ ইব্রাহীম আলী রেজা ইফতেখার আ হ ম মুস্তফা কামাল এমপি ইউসুফ আব্দুল্লাহ হারুন ইনায়েতুর রহিম ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক এমপি ইঞ্জিনিয়ার নুরুল আকতার ইমদাদুল হক মিলন উপধ্যক্ষ মোঃ আব্দুস শহীদ এমপি এ এইচ এম নোমান এ এইছ আসলাম সানি এ কে ফাইয়াজুল হক রাজু এডভোকেট তানবীর সিদ্দিকী এডভোকেট ফজিলাতুন নেসা বাপ্পি এমপি এডভোকেট মোঃ ফজলে রাব্বী এমপি এনাম আলী এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার এমপি এম এ সবুর এম নাছের রহমান এয়ার কমডোর ইসফাক এলাহী চৌধুরী (অব.) এস এম ফজলুল হক ওয়াহিদা বানু কবরী সারোয়ার কাজী ফিরোজ রশীদ কেকা ফেরদৌসী কে. মাহমুদ সাত্তার খন্দকার রুহুল আমিন খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ খালেদ মুহিউদ্দীন খুশি কবির জুনাইদ আহমেদ পলক জোবেরা লিনু টিপু মুন্সী ড. আবুল বারকাত ড. কাজী কামাল আহমদ ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ ড. তৌফিক এম. সেরাজ ড. বদিউল আলম মজুমদার ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন ড. সাজ্জাদ জহির ড. সা’দত হুসাইন মেজর জেনারেল সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহীম (অব.) বীর প্রতীক মেজর জেনারেল হেলাল মোর্শেদ খান (অব.) বীর বিক্রম মেহের আফরোজ চুমকি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ মিথিলা ফারজানা মীর নাসির হোসেন মীর মাসরুর জামান মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন মীর শওকাত আলী বাদশা মুনিরা খান মুহাম্মদ আজিজ খান মোহাম্মদ নূর আলী মোঃ গোলাম মাওলা রনি এমপি মোঃ জসিম উদ্দিন মসিউর রহমান রাঙ্গা রাশেদ খান মেনন রাশেদা কে চৌধুরী লে. কর্ণেল মোঃ ফারুক খান (অব.) শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি শাইখ সিরাজ শাওন মাহমুদ শাজাহান খান এমপি শামসুজ্জামান খান শাহীন আনাম শারমীন মুরশিদ শুভ্র দেব শিবলী মোহাম্মদ শিরীন আখতার সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন সাঈদ খোকন সাকিব আল হাসান সাগুফতা ইয়াসমিন এমেলী সাব্বির হাসান নাসির সালমা খান সালাউদ্দিন কাশেম খান সিগমা হুদা সিলভীয়া পারভীন লিনি সুকুমার রঞ্জন ঘোষ সুরাইয়া জান্নাত সুলতানা কামাল সৈয়দ আখতার মাহমুদ সৈয়দ আবুল মকসুদ সৈয়দ মার্গুব মোর্শেদ সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান হাসানুল হক ইনু ড. সিনহা এম এ সাঈদ অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন ড. হামিদুল হক ড. হোসেন জিল্লুর রহমান ড. হোসেন মনসুর ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী ডা. অরূপরতন চৌধুরী ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী ডা. জাফরুল্লাহ্ চৌধুরী ডা. জোনাইদ শফিক ডা. মোঃ আব্দুল মতিন ডা. লুৎফর রহমান ডা. সরদার এ নাঈম ডা. সাঈদ আহমেদ সিদ্দিকী ডা. সামন্ত লাল সেন তোফায়েল আহমেদ তালেয়া রেহমান দিলরুবা হায়দার নজরুল ইসলাম খান নজরুল ইসলাম বাবু নবনীতা চৌধুরী নাঈমুর ইসলাম খান নমিতা ঘোষ নাঈমুর রহমান দূর্জয় নাসরীন আওয়াল মিন্টু নুরুল ইসলাম সুজন এমপি নুরুল কবীর নিলোফার চৌধুরী মনি এমপি প্রকোশলী তানভিরুল হক প্রবাল প্রফেসর মেরিনা জাহান ফকির আলমগীর ফরিদ আহমেদ বেগম মতিয়া চৌধুরী বিগ্রেডিয়ার জেনারেল এম সাখাওয়াত হোসেন (অব.) ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ব্যারিস্টার আমীর-উল ইসলাম ব্যারিস্টার তানিয়া আমীর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা ব্যারিস্টার সারা হোসেন ভেলরি এ টেইলর মতিউর রহমান চৌধুরী মনজিল মোরসেদ মমতাজ বেগম এমপি মামুন রশীদ মাহফুজ আনাম মাহফুজ উল্লাহ