Bangladesh Icon
আইকন সংবাদ:

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান

জাতির জনক, স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতি


শেখ মুজিবুর রহমান শুধু একটা নাম নয়; এটি বাঙালি জাতির দেশপ্রেম, সংগ্রাম ও বীরত্বের বিজয়গাথার মূর্ত প্রতীক। বঞ্চিত, নিষ্পেষিত, দিশাহীন এক জাতিকে জাতীয়তাবোধে জাগ্রত করেছিলেন যিনি; যাঁর নেতৃত্বে জীবন বাজি রেখে ন’মাস সমরাস্ত্ৰে সুসজ্জিত পাকবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে বীর বাঙালি; নৃশংস হানাদারদের মাথানত যাঁর বজ্রধ্বনিতে-তিনিই শেখ মুজিব । হাজার বছরের শ্ৰেষ্ঠ বাঙালি, বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

একেক জাতির ইতিহাসে একেক নেতার নাম, রাষ্টনায়কের নাম, রাষ্ট্রস্রষ্টার নাম অবিচ্ছেদ্যভাবে গ্রথিত হয়ে যায়। সোভিয়েত রাশিয়ার সঙ্গে লেনিনের, তুরস্কের সঙ্গে কামাল আতাতুর্কের ভারতের সঙ্গে মহাত্মা গান্ধীর, নতুন চীনের সঙ্গে মাও সেতুঙের নাম যেমনভাবে জড়িয়ে আছে, বাংলাদেশের সঙ্গে তেমনি অবিচ্ছেদ্যভাবে যে নামটি জড়িয়ে আছে- তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

সম্প্রতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণকে ‘মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড'-এর স্বীকৃতি দিয়েছে ইউনেস্কো৷ এই তালিকার মাধ্যমে ইউনেস্কো বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ করে৷ ৪৬ বছর আগে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে (তৎকালীন রেসকোর্স ময়দান) স্বাধীনতাকামী ৭ কোটি মানুষকে যুদ্ধের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম,এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম৷''

যাঁর নিরলস সংগ্রাম, অনমনীয় নেতৃত্ব ও আত্মত্যাগের কল্যাণে বাঙালি জাতি বিশ্বমানচিত্রে প্রথম একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র গঠন করেছে, জাতি হিসেবে বিশ্বের দরবারে মাথা তুলে দাঁড়াতে সক্ষম হয়েছে, তিনি আর কেউ নন, বাংলাদেশ রাষ্ট্রের মহান স্থপতি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

আধুনিক জাতীয়তা ও জাতীয় রাষ্ট্র- যার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় ১৬৪৮ সালের “Treaty of Westphalia" এর মাধ্যমে। এ ‘আধুনিক নেশন' ও 'নেশন স্টেট’ প্রতিষ্ঠায় যারা নেতৃত্ব দিয়েছেন, জাতি তাদের শ্রদ্ধার সঙ্গে পিতা ও রাষ্ট্র নির্মাতার সুউচ্চ মর্যাদার আসনে বসিয়েছে। এ জন্য জর্জ ওয়াশিংটন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জনক, কামাল আতাতুর্ক নব্য তুরস্কের জনক, মহাত্মা গান্ধী নতুন ভারতের পিতা এবং শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালির মডার্ন নেশন স্টেটের নির্মাতা বা বাঙালি জাতির জনক। '"জাতির জনক' বলতে এখানে নেশন স্টেটের প্রতিষ্ঠাতাকে বোঝানো হয়েছে। আধুনিক ইউরোপের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র চেতনার ফসল আধুনিক জাতীয়তা ও জাতীয় রাষ্ট্র।এ প্রসঙ্গে স্বনামধন্য কলামিস্ট আবদুল গাফফার চৌধুরী বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে বলেন, “তিনি শুধুমাত্র একজন ব্যক্তি নন। একটি প্রতিষ্ঠান। একটি আন্দোলন। একটি বিপ্লব। মহাকাব্যের অমর গাথা এবং একটি ইতিহাস। এ ইতিহাসের ব্যপ্তি হাজার বছর। তাই সমকাল তাকে স্বীকৃতি দিয়েছে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি হিসেবে।

কিউবার বিপ্লবী নেতা প্রেসিডেন্ট ফিদেল কাস্ত্রো বলেছিলেন- "আমি হিমালয় দেখিনি, কিন্তু শেখ মুজিবকে দেখেছি । ব্যক্তিত্ব এবং সাহসিকায় তিনিই হিমালয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের রাজনীতির কেন্দ্রে ছিল জনগণ। জনগণের জন্য ভালোবাসা ছিল তার সকল কর্মকাণ্ডের প্রেরণা; জনগণের ওপর বিশ্বাস ছিল তার আস্থার ভিত্তি এবং জনগণের কল্যাণই ছিল তার সকল পরিকল্পনার লক্ষ্য। ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড ফ্রস্ট (১৯৭২ সালের এক সাক্ষাৎকারে) বঙ্গবন্ধুকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, আপনার শক্তি কোথায়? বঙ্গবন্ধু সে প্রশ্নের উত্তরে বলেছিলেন, আমি আমার জনগণকে ভালোবাসি। আবারও প্রশ্ন, আর আপনার দুর্বল দিকটা কী? বঙ্গবন্ধুর নিরেট উত্তর আমি আমার জনগণকে খুব বেশি ভালোবাসি ॥ জনগণের অন্তর্নিহিত শক্তির ওপর অপার আস্থা ও বিশ্বাস মানুষের প্রতি নিঃশর্ত ভালোবাসা, অসাম্প্রদায়িক চেতনা, মমত্ববোধ, ত্যাগের মহিমা এবং সহমর্মিতার বিরল দৃষ্টান্তস্থাপনকারী বহুমাত্রিক গুণসমৃদ্ধ ব্যক্তিত্বের নাম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব।

এই বিশ্ববরেণ্য নেতার জন্ম ফরিদপুর জেলার টুঙ্গীপাড়া গ্রামে ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ। তাঁর পিতার নাম শেখ লুৎফর রহমান, মাতার নাম সাহেরা খাতুন।

বাল্যে গৃহশিক্ষক পণ্ডিত সাখাওয়াৎ উল্লাহর কাছেই পড়াশোনার হাতেখড়ি হয় শেখ মুজিবের । এরপর ভর্তি হন মাদারীপুর ইসলামিয়া হাই স্কুলে চতুর্থ শ্রেণীতে। পড়াশোনায় মেধাবি পরিচয় দিলেও স্বভাবে ছিলেন দুরন্ত। কিন্তু দুরন্ত হলে কী হবে, ছিলেন বলিষ্ঠ চরিত্রের অধিকারী। জীবনের শুরু থেকেই অন্যায়, অবিচার আর অসত্যের বিরুদ্ধে মাথা তুলে দাঁড়াতে শিখেছিলেন। দশ-এগারো বছর বয়স থেকেই শুরু হয় তাঁর রাজনৈতিক জীবন। তিনি কোনো ভূইফোঁড় রাজনীতিবিদ ছিলেন না। জীবনের শুরু থেকে ধাপে ধাপে একাগ্র আন্দোলন-সংগ্রামের পর সংগ্রামের ভেতর দিয়ে গড়ে তুলেছিলেন তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সুদৃঢ় ভিত্তি।

শেখ মুজিব স্কুলজীবনে মাত্র ১৯ বছর বয়সেই অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে প্রথম কারাবরণ করেন। ১৯৩৯ সালে। গোপালগঞ্জের মিশন স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করেন ১৯৪২ সালে। এই স্কুলে থাকতেই শেখ মুজিবের সাক্ষাৎ হয় তৎকালীন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী এবং বাংলার সর্বাধিক জনপ্রিয় নেতা শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হকের সঙ্গে । এই সক্ষাৎকারও ছিল এক চমকপ্রদ ঘটনা ।

শেখ মুজিব তখন গোপালগঞ্জ মিশন স্কুলের ছাত্র। শোনা গেল স্কুল পরিদর্শন করতে আসছেন তৎকালীন অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক এবং খ্যাদ্যমন্ত্রী হোসেন শহিদ সোহরাওয়ার্দি। স্কুলের সভা শেষ করে দুই মন্ত্রী কর্মক্লান্ত হয়ে ডাকবাংলোয় ফিরছিলেন। তাদের সঙ্গে স্কুলের প্রধান শিক্ষক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

এমন সময় কয়েকজন সহপাঠীকে সঙ্গে নিয়ে মন্ত্রী মহোদয়ের পথ আগলে দাঁড়ালো একটি হ্যাংলা-পাতলা গড়নের ছেলে। এই কিশোরই স্বয়ং শেখ মুজিব। তাঁর দাবি, তারা যে হোস্টেলে থাকেন, তার ছাদ ফেটে গেছে। ফলে বর্ষার পানি পড়ে বিছানাপত্র নষ্ট হয়। তার দাবি, ফাটা ছাদ মেরামত করে দিতে হবে।

শেখ মুজিবের সাহস দেখে তো প্রধান শিক্ষক ভড়কে গেলেন। তাঁর স্কুলের ছেলেরা স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বেয়াদবি করছে, না জানি এ অপরাধের কী শাস্তি হবে!

কিন্তু ছেলেটির সাহস দেখে মুগ্ধ হয়ে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী শেরে বাংলা। তিনি তখন নিজেই এগিয়ে এসে বললেন, এই ছেলে, তুমি কী বলতে চাও ? শেখ মুজিব তাদের ছাত্রদের দাবির কথা বললেন। শেরে বাংলা হেসে বললেন, তার আমি কী করব ? হোস্টেলের ছাদ মেরামত করে না দিলে পথ ছাড়ব না। বেশ, এই ছাদ মেরামত করতে কত লাগবে ? বারোশো টাকা। শেরে বাংলা ছেলেটির সাহস দেখে সত্যি মুগ্ধ হয়ে গিয়েছিলেন। হয়তো বাংলার এক ব্যাঘাপুরুষ সবিস্ময়ে তাকিয়ে দেখছিলেন ভবিষ্যতের আরেক সিংহশাবককে। ভবিষ্যতের বিপুল সম্ভাবনা তিনি লক্ষ্য করেছিলেন সেদিন সেই কিশোরের চোখেমুখে। শেরে বাংলা ঘটনাস্থলে ঠাঁয়ে দাঁড়িয়ে থেকেই তাঁর স্বেচ্ছাধীন তহবিল থেকে কিশোর শেখ মুজিবের দাবি মতো বারোশো টাকা মঞ্জর করে দিয়েছিলেন স্কুল হোস্টেলের নামে।

কিন্তু ঘটনার এখানেই শেষ হলো না। শেরে বাংলা ডাকবাংলোতে গিয়েই আবার ডেকে পাঠালেন শেখ মুজিব নামের সেই সাহসী ছেলেটিকে। সেই থেকেই শেখ মুজিব হলেন শেরে বাংলা ও সোহরাওয়ার্দির রাজনৈতিক শিষ্য। এই সম্পর্ক তাদের আজীবন অটুট ছিল। এরপর কোলকাতায় এসে শেখ মুজিব ভর্তি হন ইসলামিয়া কলেজে। পরে তিনি এই কলেজের ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯৪৭ সালে ওই কলেজ থেকেই তিনি বিএ পাশ করেন। কোলকাতার শিক্ষাজীবনে তিনি শহিদ সোহরাওয়ার্দির প্রিয় পাত্রদের একজন ছিলেন তিনি।

১৯৪৬ সালে পাকিস্তান ইসুর ওপর ভিত্তি করে অনুষ্ঠিত গণভোটে শেখ মুজিবেরও ছিল সবিশেষ ভূমিকা। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির পর তিনি ঢাকায় এসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হন। এসময়ই তিনি নিজের উদ্যোগে ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠা করেন। কিন্তু স্বপ্নভঙ্গ হতে বেশি দেরি হলো না তাঁর। যে লক্ষ্যে নিয়ে তিনি পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে আত্মনিয়োগ করেছিলেন, অচিরেই টের পেলেন, তার সেই স্বপ্ন ভুল। দেখলেন, পূর্ব বাংলার মানুষেরা আর একটি নব্য-ঔপনিবেশিক শাসনের অধীনে এসে পড়েছে। শুরু হলো পশ্চিমাদের শাসন আর শোষণ।

এর বিরুদ্ধে অচিরেই রুখে দাঁড়ালেন শেখ মুজিব । তিনি তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ছাত্র। ১৯৪৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের ন্যায় সঙ্গত দাবী আদায়ের আন্দোলন করত গিয়ে শেখ মুজিব কারাবরন করেন এবং সেখানেই তার ছাত্রজীবনেরও পরিসমাপ্তি ঘটে। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়। ফলে প্রথম থেকেই ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগের বিষনজর পড়ে যান তিনি। এরপর দেশে খাদ্যসংকটের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে গিয়ে তিনি মওলানা ভাসানীর সঙ্গে কারাবরণ করেন।

১৯৫২ সালে বাংলাভাষাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদায় প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে জীবন দান করেন রফিক ও বরকতের মতো তরুণেরা। ওই সময় শেখ মুজিবছিলেন কারান্তরালে | জেল থেকেই তিনি এই আন্দোলনের প্রতি তার সর্বাত্মক সমর্থন ঘোষণা করেন।

১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট পূর্ব পাকিস্তানে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে প্রাদেশিক সরকার গঠন করে। শেখ মুজিব এই মন্ত্রিসভায় পল্লি উন্নয়ন মন্ত্রী নিযুক্ত হন। কিন্তু যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। তারপর আতাউর রহমান খানের নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভা গঠিত হলে সেখানে শেখ মুজিব শিল্প ও বাণিজ্য দফতরের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী হন। এ মন্ত্রিপরিষদও বেশিদিন টেকেনি।

১৯৫৮ সালে জেনারেল আইউব খান দেশে সামরিক শাসন জারি করে ক্ষমতা দখল করে বসেন এবং ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখার জন্য শুরু করেন নির্যাতন। দেশের শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের গ্রেফতার করা হয় নানা অজুহাতে। শেখ মুজিবকেও গ্রেফতার করা হয়।

বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘটনা বাংলাদেশের স্বাধিকারের বীজমন্ত্ৰ-ঐতিহাসিক ছয় দফা| তথাকথিত দ্বি-জাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠিত হলেও ১৯৪৭-এর পর থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর স্বরূপ প্রকাশিত হতে থাকে। বাঙালিদের কৃষ্টি, সংস্কৃতি, অর্থনীতি ও আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকারের ওপর নেমে আসে। পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকদের নির্যাতন আর শোষণ। বঙ্গবন্ধু পশ্চিম পাকিস্তানি শোষকগোষ্ঠীর হাত থেকে বাঙালি জাতির স্বাৰ্থ রক্ষা করার উদ্দেশ্যেই ১৯৬৬ সালের ৭ জুন পেশ করেন তাঁর ঐতিহাসিক ছয় দফা ।

ছয় দফা বাঙালি জাতির অকুণ্ঠ সমর্থন লাভ করে। গোটা জাতি ঐক্যবদ্ধ হয় এই আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকারের প্রশ্নে। তৎকালীন একনায়ক আইউব খানের শাসন ও শোষণের বিরুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তানে অসন্তোষ ক্রমেই ঘনীভূত হতে থাকে। ঐতিহাসিক ছয় দফার প্রবক্তা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ও তাঁর সহযোগী নেতৃবৃন্দের ওপর নেমে আসে জেল, জুলুম ও নির্যাতন। শুধু তা-ই নয়, এই আন্দোলনকে দমন করার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয় তথাকথিত আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা । মামলায় জড়িয়ে শেখ মুজিবকে আসামি করে ঢোকানো হয় জেলে। কিন্তু এত করেও আন্দোলন দমন করা গোল না। বরং আরও প্রচণ্ড বিক্ষোভে ফেটে পড়ল গোটা বাঙালি জাতি। দায়ের করা মিথ্যে মামলার বিরুদ্ধে শুরু হয় আরও দুর্বর গণআন্দোলন। এবার আপামর জনতার সঙ্গে যোগ দিলেন দেশের তরুণসমাজ, তথা ছাত্রসমাজ। ছয় দফার পাশাপাশি ছাত্রসমাজের পক্ষ থেকেও পেশ করা হলো তৎকালীন ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের ১১ দফা দাবি । শেষে ছয় দফা এবং ১১ দফার যৌথ দাবিতে শুরু হলো তীব্র আন্দোলন। এই আন্দোলন এবং প্রচণ্ড বিক্ষোভের মুখে স্বৈরাচারী আইয়ুব সরকার শেষ পর্যন্ত ১৯৬৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বাধ্য হয়ে মিথ্যে মামলা প্রত্যাহার করে এবং শেখ মুজিবকে নিঃশর্ত মুক্তি দেয়। ২৩ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন ছাত্ৰ সংগ্রাম পরিষদের তরফ থেকে রেসকোর্সে আয়োজিত বিশাল জনসমাবেশে তাকে “বঙ্গবন্ধু’ উপাধি দেয়া হয়।

বঙ্গবন্ধু জেলের বাইরে এসে আবার নেতৃত্ব দিতে লাগলেন গণআন্দোলনে। ১৯৬৯ সালের ২৪ মার্চ আইয়ুব খান পদত্যাগ করতে বাধ্য হলেন। তারপর ক্ষমতায় এলেন

আরেক সামরিক শাসক ইয়াহিয়া খান। তিনি ক্ষমতায় এসে আন্দোলন রহিত করার কৌশল হিসেবে ঘোষণা করেন সাধারণ নির্বাচন।

নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো ১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর। নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ লাভ করল নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা। বঙ্গবন্ধুর এই বিপুল বিজয়ে পশ্চিমা শাসকগোষ্ঠীর টনক নড়ে উঠল। তিনি যাতে ক্ষমতায় আসতে না পারেন, তার জন্য পশ্চিম পাকিস্তানের পিপলস্ পার্টির প্রধান জুলফিকার আলি ভুট্টো প্রকাশ্যেই শেখ মুজিবের নায্য অধিকারের বিরোধিতা করতে লাগলেন। ইয়াহিয়াও চাইছিলেন না বাঙালি জাতির হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে। তিনি মুখে শেখ মুজিবকে পাকিস্তানের ভাবী প্রধানমন্ত্রী বলে ঘোষণা করলেও গোপনে চলতে লাগল। ষড়যন্ত্র। এই ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে ১ মার্চ জাতীয় পরিষদের অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করা হলো। তখন বাঙালিমাত্রই হতবুদ্ধি হয়ে গেল। বঙ্গবন্ধু বুঝলেন, পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকরা সহজে বাঙালিকে ক্ষমতায় যেতে দেবে না। মেনে নেবে না তাদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার। কিন্তু বাঙালিরাই-বা সহজে নতি স্বীকার করবে। কেন ?

বঙ্গবন্ধুর আহবানে আন্দোলন এবার রূপ নিল গণসংগ্রামের। সারা দেশে তাঁর নির্দেশে শুরু হলো তীব্র অসহযোগ আন্দোলন। পথে, ঘাটে, কলে-কারখানায়, স্কুলকলেজে, অফিস-আদালতে ছড়িয়ে পড়ল। এই অসহযোগ আন্দোলন।

১৯৭১-এর ৭ মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে আওয়ামী লীগের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হলো এক বিশাল জনসভা। এই ঐতিহাসিক জনসভায় বঙ্গবন্ধু পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সংগ্রামের ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা গ্রহণের নির্দেশ দিলেন। তিনি বজকণ্ঠে ঘোষণা করলেন, “রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরও দেব। এদেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়ব ইনশাআল্লাহ। এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।”

ইয়াহিয়া এবার যেন আরও হিংস্র হয়ে উঠলেন। অস্ত্র প্রয়োগ করে বাঙালি জাতির আন্দোলনকে দমন করার জন্য জোর ষড়যন্ত্র শুরু করলেন। চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরে গোপনে নামাতে লাগলেন অস্ত্রশস্ত্র । পশ্চিম পাকিস্তান থেকে ছদ্মবেশে আমদানি করতে লাগলেন সৈন্য। সবই বাঙালিকে দমন করার জন্য। আর এই ষড়যন্ত্র যাতে বাঙালিরা টের না আপস আলোচনার ছলচাতুরি করতে। দিন কয়েক চলল আলোচনা। কিন্তু শেখ মুজিব তাঁর দাবি থেকে এক পাও সরে এলেন না। ফলে আলোচনা ভেঙে গেল। কুখ্যাত ইয়াহিয়া খান সেদিনই, অর্থাৎ ২৫ মার্চ থেকে বাঙালি হত্যার নির্দেশ দিয়ে গোপনে ঢাকা ত্যাগ করলেন। সেদিন মধ্যরাত থেকেই হিংস্ৰ পাকবাহিনী ঢাকায় শুরু করল তাদের নারকীয় হত্যালীলা ।

ওই রাতে নিজের বাসবভন থেকে বঙ্গবন্ধু বন্দি হলেন পাকবাহিনীর হাতে। তবে বন্দি হবার আগে তিনি দিয়ে গেলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা, যা পরে চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত হয়েছিল এবং ২৬ মার্চ ঘোষিত হয়েছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা। এইভাবে শুরু হয়ে যায় মুক্তিযুদ্ধ। বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতি সত্ত্বেও তাঁর নামে আর আদর্শে অনুপ্রাণিত গোটা বাঙালি জাতি ঐক্যবদ্ধভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে।

দেশ স্বাধীন হবার পর ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি তিনি পাকিস্তানি কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করেন। স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করে তিনি গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রীর পদ। শুরু করেন যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে গড়ে তোলার নতুন সংগ্রাম। তিনি বাংলাদেশের জন্য একটি শাসনতন্ত্র প্রণয়ন করেন এবং চারটি রাষ্ট্ৰীয় মূলনীতি ঘোষণা করেন। এই চার মূলনীতি হলো : বাঙালি জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র এবং ধর্মনিরপেক্ষতা ।

১৯৭০ সালের নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সমন্বয়ে তিনি গঠন করেন। গণপরিষদ। এই গণপরিষদই দেশের জন্য প্রস্তুত করে এই সংবিধান। ১৯৭২ সালের ৪ নবেম্বর গণপরিষদে সংবিধান অনুমোদিত হয়।

বাঙালি জাতির প্রাণপুরুষ, স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধুকে তার সংগ্রামের স্বীকৃতি দিয়ে এবং বিশ্বমানবতার ক্ষেত্রে তাঁর অবদানের জন্য বিশ্বশান্তি পরিষদ ১৯৭৩ সালের ৭ই মার্চ “জুলিও কুরি’ পদকে ভূষিত করে।

বঙ্গবন্ধু তাঁর মাত্র সাড়ে ৩ বছরের শাসনামলে যেসব যুগান্ত সৃষ্টিকারী পদক্ষেপ গ্ৰহণ করেন, সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে : প্রাথমিক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করা, ৫ম শ্রেণী পর্যন্ত বিনামূল্যে বই এবং গরিব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে পোশাক প্রদান, ইসলাম-বিরোধী কাজ বিবেচনা করে রমনা রেসকোর্স ময়দানে (আজকের সোহরাওয়ার্দি উদ্যান) ঘোড়দৌড় নিষিদ্ধ করা, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা, টঙ্গিতে কল্যাণ ট্রাস্ট গঠন করা, নারী পুনর্বাসন ও কল্যাণ ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করা, ২৫ বিঘা পর্যন্ত জমির খাজনা মওকুফ এবং ১শ বিঘা জমির সিলিং ধার্য করা, সামরিক একাডেমী প্রতিষ্ঠা করা, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি প্রতিষ্ঠা করা ইত্যাদি। এছাড়া বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামকে ভারত থেকে বাংলাদেশে নিয়ে আসা এবং তাকে তাকে নাগরিকত্ব প্রদান করা, সরকারি-বেসরকারি অফিস-আদালতসহ সবধরনের রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডে বাংলাভাষার প্রচলন বাধ্যতামূলক করা।

শুধু তাই নয়, ১৯৭৩ সালের অক্টোবর মাসে তিনি যমুনা নদীর ওপর সেতু নির্মাণের গুরুত্ব উপলব্ধি করে জাপান সরকারের কাছে ওই সেতু নির্মাণের প্রস্তাব করেন এবং তার ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন। বর্তমানে তা বাস্তবরূপ লাভ করেছে। এছাড়া ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে বঙ্গবন্ধু দ্বিতীয় পর্যায়ে মন্ত্রী হলে তার একান্ত প্রচেষ্টায় জন্ম হয় বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন সংস্থা তথা এফ ডি সি-র । ১৯৭৪ সালে তিনি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রথম বাংলা ভাষায় বক্তৃতা করে বাংলাভাষাকে বিশ্বের দরবারে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করেন। যুদ্ধের পর বাংলাদেশ এক ধ্বংসস্তুপের ওপর দাঁড়িয়ে ছিল। রাস্তাঘাট, রেলপথ, মিল-কারখানা, সবকিছুই পাক হানাদার বাহিনী ধ্বংস করে দিয়ে গিয়েছিল। দেশে অন্ন, বস্ত্র ও খাদ্যের প্রচণ্ড অভাব দেখা দিয়েছিল। এছাড়া দেশি-বিদেশি শক্তির সক্রিয় সমর্থনে ছিল অন্তর্ঘাতমূলক তৎপরতা ও ষড়যন্ত্র। তিনি এসব সমস্যা দূর করার জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন। কিন্তু পরিস্থিতি ছিল তাঁর প্রতিকূলে। বিশ্বব্যাপী তখন শুরু হয় মুদ্রাস্ফীতি। সেই মুদ্রাস্ফীতির ঢেউ এসে লাগে বাংলাদেশেও। অন্যদিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগেরও শিকার হয়। বাংলাদেশ। উপযুপরি বন্যায় দেশের বিপুল ফসল নষ্ট হয়ে যায়। চারদিকে দেখা দেয় খাদ্যের অভাব। এই পরিস্থিতির মোকাবেলায় বিদেশ থেকে খাদ্য আমদানির ব্যবস্থা করেন বঙ্গবন্ধু। কিন্তু বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র খাদ্য পাঠানোর অঙ্গীকার করেও শেষমূহুর্তে কথা না রাখার ফলে, ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ দুর্ভিক্ষের কবলে পড়ে।

এই অবস্থার প্রেক্ষাপটে দেশের অর্থনৈতিক এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থায় একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনার উদ্দেশ্যে ১৯৭৫ সালের ২৪ মার্চ জানুয়ারি তিনি সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনী আনেন। দেশের সকল রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে গঠিত হয় “বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ’ বা সংক্ষেপে ‘বাকশাল’। একই সঙ্গে বঙ্গবন্ধু তার ‘দ্বিতীয় বিপ্লবের’ প্রাতিষ্ঠানিক রূপরেখা ঘোষণা করেন । দ্বিতীয় বিপ্লবের প্রাতিষ্ঠানিক রূপরেখা ঘোষণা করার দুমাস পর সোহরাওয়ার্দি উদ্যানের জনসভায় বঙ্গবন্ধু ভাষণ দেন। এটাই ছিল তাঁর জীবনের শেষ জনসভা। সেদিন ছিল ১৯৭৫ সালের ২৬ মার্চ।

তিনি তাঁর ভাষণে সেদিন বলেছিলেন, “প্রেসিডেন্সিয়াল ফরম অব গভর্নমেন্ট করেছি। জনগণ প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করবে। পার্লামেন্ট থাকবে। পার্লামেন্টের নির্বাচনে একজন, দুইজন, তিনজনকে নমিনেশন দেওয়া হবে। জনগণ বাছবে, কে ভালো, কে মন্দ। আমরা চাই শোষিতের গণতন্ত্র, আমরা চাই না শোষকের গণতন্ত্র।” কিন্তু তা আর হয়নি। তার আগেই নেমে আসে এক চরম আঘাত।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট মধ্যরাতে একদল বিপথগামী সেনা কর্মকর্তা জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমান এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের নৃশংসভাবে হত্যা করে। ঘাতকদের নির্মমতার হাত থেকে তার চার বছরের শিশুপুত্ৰ রাসেলও রক্ষা পায়নি। এ ধরনের নিষ্ঠুর রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড ইতিহাসে নজিরবিহীন।

সদ্য স্বাধীন জাতির জীবনে এটি একটি অপূরণীয় ক্ষতি। এ জঘন্য হত্যাকাণ্ড বাংলার রাজনৈতিক ভাগ্যাকাশে তৈরি করে রাজনৈতিক নেতৃত্বর শূন্যতার কালো মেঘ, ফলে এরপর অনেকগুলো বছর গণতান্ত্রিক রাজনীতির উন্নয়নের ধারা ব্যাহত হতে থাকে।

বাংলাদেশ, বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ-এ শব্দ তিনটি মূলত এক সূত্রে গাথা। তিনটির যে কোনো একটিকে আলাদা করে বিশ্লেষণ করার কোনো সুযোগ নেই। দেশ ও দেশের মানুষকে তিনি তাঁর হৃদয়ের আধেয় করে একজন আত্মত্যাগী দেশপ্রেমিক নেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে সমর্থ হয়েছেন। ছাত্রজীবন থেকে যে শিক্ষা ও দীক্ষা তাঁর জীবনকে আলোকিত করে তুলেছিল, তার শিখা চিরন্তন প্রতিটি বাঙালির হৃদয়ে গ্রথিত করে রেখে গেছেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাই শুধু একটি নামেই নয়- একটি চেতনারও মূর্ত প্রতীক; যাঁর নেতৃত্বে, অসীম ত্যাগ ও সংগ্রামে আমরা পেয়েছি স্বাধীনতা। নির্যাতিত-নিপীড়িত মানুষের প্রকৃত বন্ধু হয়ে সময়ান্তরে তিনি হতে পেরেছেন বঙ্গবন্ধু। তার অপরিসীম দরদ ও গভীর ভালোবাসা ছিল বাংলার সাধারণ মানুষের জন্য। পরিবার-পরিজনসহ নিজের জীবন দিয়ে তাই তিনি প্রমাণ করে গেছেনবাংলার মাটি ও মানুষের কত আপন ছিলেন। তিনি। তাঁর সুবিশাল নেতৃত্বের জন্য বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশ একটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। আমরা পেয়েছি নিজস্ব একটি পতাকা, গৌরবদীপ্ত একটি মানচিত্র এবং একটি স্বাধীন দেশ। তাঁর অপরিমেয় অবদান এবং আত্মত্যাগের জন্যই তিনি আজ আমাদের কাছে জাতির পিতা, বঙ্গবন্ধু এবং সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, স্বাধীনতার মহান স্থপতি।

  • Rocking the night away
  • Rocking the night away
  • Rocking the night away
  • Rocking the night away
  • Rocking the night away
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান BANGLADESH ICON আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ আতিউর রহমান বেগম রোকেয়া মোস্তাফা জব্বার ভাষা শহিদ সজীব ওয়াজেদ জয় তাজউদ্দীন আহমদ শেরে বাংলা ফজলুল হক মাওলানা ভাসানী  প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার বেগম সুফিয়া কামাল শেখ হাসিনা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হোসেন শহিদ সোহরাওয়ার্দি কাজী নজরুল ইসলাম মাস্টারদা সূৰ্য সেন ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ মণি সিংহ স্যার ফজলে হাসান আবেদ  সালমান এফ রহমান সুফী মুহাম্মদ মিজানুর রহমান মোরশেদ আলম এমপি সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী আহমেদ আকবর সোবহান জয়নুল হক সিকদার দীন মোহাম্মদ আজম জে. চৌধুরী প্রফেসর মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন সাইফুল আলম মাসুদ আলহাজ্ব এম এম এনামুল হক খলিলুর রহমান এ কে এম রহমত উল্লাহ্ ইফতেখার আহমেদ টিপু শেখ কবির হোসেন এ কে আজাদ ডাঃ মোমেনুল হক আলহাজ্ব মোঃ হারুন-উর-রশীদ কাজী সিরাজুল ইসলাম নাছির ইউ. মাহমুদ ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল আজিজ শেখ ফজলে ফাহিম প্রফেসর ড. কবির হোসেন তালুকদার মোঃ হাবিব উল্লাহ ডন রূপালী চৌধুরী হেলেন আখতার নাসরীন মনোয়ারা হাকিম আলী নাসরিন সরওয়ার মেঘলা প্রীতি চক্রবর্তী মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির ক্যাপ্টেন তাসবীরুল আহমেদ চৌধুরী এহসানুল হাবিব আলহাজ্জ্ব জাহাঙ্গীর আলম সরকার আলহাজ্ব খন্দকার রুহুল আমিন তানভীর আহমেদ ড. বেলাল উদ্দিন আহমদ মোঃ শফিকুর রহমান সেলিম রহমান মাফিজ আহমেদ ভূঁইয়া  মোঃ ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ  শহিদ রেজা আব্দুর রউফ জেপি এডভোকেট ইকবাল আহমদ চৌধুরী এ কে এম সরওয়ারদি চৌধুরী ড. এম. মোশাররফ হোসেন মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন লায়ন মোঃ মোজাম্মেল হক ভূঁইয়া মোঃ মিজানুর রহমান সায়েম সোবহান আনভীর মামুন-উর-রশিদ বি এম ইউসুফ আলী মোঃ জামিরুল ইসলাম ডক্টর হেমায়েত হোসেন মোঃ শাহ আলম সরকার ফারজানা চৌধুরী এম. সামসুজ্জামান মেজর পারভেজ হাসান (অব.) এম এ মতিন সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল মাসুদ পারভেজ খান ইমরান ড. এম এ ইউসুফ খান কাজী সাজেদুর রহমান ড. হাকীম মোঃ ইউছুফ হারুন ভূঁইয়া আলহাজ্ব মীর শাহাবুদ্দীন মোঃ মুনতাকিম আশরাফ (টিটু) মোঃ আবদুর রউফ কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ আব্দুল মাতলুব আহমাদ মোঃ মজিবর রহমান মোহাম্মদ নূর আলী সাখাওয়াত আবু খায়ের মোহাম্মদ আফতাব-উল ইসলাম মোঃ সিরাজুল ইসলাম মোল্লা এমপি প্রফেসর ড. আবু ইউসুফ মোঃ আব্দুল্লাহ মোঃ জসিম উদ্দিন বেনজীর আহমেদ মিসেস তাহেরা আক্তার পারভীন হক সিকদার নাসির এ চৌধুরী হাফিজুর রহমান খান ড. মোহাম্মদ ফারুক কাইউম রেজা চৌধুরী মোঃ সবুর খান মাহবুবুল আলম মোঃ হেলাল মিয়া সেলিমা আহমাদ নজরুল ইসলাম ড. এ এস এম বদরুদ্দোজা ড. হায়দার আলী মিয়া ইঞ্জিনিয়ার গুলজার রহমান এম জামালউদ্দিন মোঃ আব্দুল হামিদ মিয়া মোঃ হাবিবুর রহমান মোঃ মুহিব্বুর রহমান চৌধুরী মোহাম্মদ নুরুল আমিন জিয়াউর রহমান ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী শ্যামল দত্ত জ ই মামুন আনিসুল হক সামিয়া রহমান মুন্নি সাহা আব্বাসউদ্দীন আহমদ নীলুফার ইয়াসমীন ফিরোজা বেগম শাহ আব্দুল করিম ফরিদা পারভীন সরদার ফজলুল করিম আনিসুজ্জামান আখতারুজ্জামান ইলিয়াস হুমায়ূন আহমেদ সেলিম আল দীন জহির রায়হান বুলবুল আহমেদ রওশন জামিল সৈয়দ হাসান ইমাম হেলেনা জাহাঙ্গীর অঞ্জন রায় অধ্যক্ষ আব্দুল আহাদ চৌধুরী অধ্যাপক আবু আহমেদ অধ্যাপক  আবু সাইয়িদ অধ্যাপক আমেনা মহসীন অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ অধ্যাপক জয়নাল আবদিন এমপি অধ্যাপক ড. আরিফুর রহমান অধ্যাপক ড. আব্দুল মতিন পাটোয়ারী অধ্যাপক ড. ইজাজ হোসেন অধ্যাপক ড. এ কে আজাদ চৌধুরী অধ্যাপক ড. এ কে আব্দুল মোমেন অধ্যাপক ড. এম এ মান্নান অধ্যাপক ড. এম এ হাকিম অধ্যাপক ড. এম শমসের আলী অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী অধ্যাপক ড. শাহেদা ওবায়েদ অধ্যাপক ড. সদরুল আমিন অধ্যাপক ড. হাফিজ জি. এ. সিদ্দিকী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন অধ্যাপক তৌহিদুল আলম অধ্যাপক ডা. বরেন চক্রবর্তী অধ্যাপক ডা. মতিউর রহমান অধ্যাপক ডা. মোঃ শারফুদ্দিন আহমেদ অধ্যাপক ডা. মোঃ হাবিবে মিল্লাত এমপি অধ্যাপক মেহতাব খানম অধ্যাপিকা অপু উকিল এমপি অধ্যাপক ড. হোসনে আরা বেগম আইয়ুব বাচ্চু আ খ ম জাহাঙ্গীর হোসাইন আনিস এ. খান আনোয়ার উল আলম চৌধুরী পারভেজ আনোয়ার হোসেন মঞ্জু আবদুল বাসেত মজুমদার আবু সাঈদ খান আবুল কাশেম মোঃ শিরিন আবুল কাসেম হায়দার আবুল মাল আব্দুল মুহিত আব্দুল আউয়াল মিন্টু আব্দুল মতিন খসরু এমপি আবদুল মুকতাদির আব্দুল মুয়ীদ চৌধুরী আব্দুস সালাম মুর্শেদী আমির আমির হোসেন আমু এমপি আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী আয়শা খানম আ স ম আবদুর রব আ স ম ফিরোজ আসাদুজ্জামান খান কামাল আসিফ ইব্রাহীম আলী রেজা ইফতেখার আ হ ম মুস্তফা কামাল এমপি ইউসুফ আব্দুল্লাহ হারুন ইনায়েতুর রহিম ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক এমপি ইঞ্জিনিয়ার নুরুল আকতার ইমদাদুল হক মিলন উপধ্যক্ষ মোঃ আব্দুস শহীদ এমপি এ এইচ এম নোমান এ এইছ আসলাম সানি এ কে ফাইয়াজুল হক রাজু এডভোকেট তানবীর সিদ্দিকী এডভোকেট ফজিলাতুন নেসা বাপ্পি এমপি এডভোকেট মোঃ ফজলে রাব্বী এমপি এনাম আলী এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার এমপি এম এ সবুর এম নাছের রহমান এয়ার কমডোর ইসফাক এলাহী চৌধুরী (অব.) এস এম ফজলুল হক ওয়াহিদা বানু কবরী সারোয়ার কাজী ফিরোজ রশীদ কেকা ফেরদৌসী কে. মাহমুদ সাত্তার খন্দকার রুহুল আমিন খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ খালেদ মুহিউদ্দীন খুশি কবির জুনাইদ আহমেদ পলক জোবেরা লিনু টিপু মুন্সী ড. আবুল বারকাত ড. কাজী কামাল আহমদ ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ ড. তৌফিক এম. সেরাজ ড. বদিউল আলম মজুমদার ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন ড. সাজ্জাদ জহির ড. সা’দত হুসাইন মেজর জেনারেল সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহীম (অব.) বীর প্রতীক মেজর জেনারেল হেলাল মোর্শেদ খান (অব.) বীর বিক্রম মেহের আফরোজ চুমকি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ মিথিলা ফারজানা মীর নাসির হোসেন মীর মাসরুর জামান মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন মীর শওকাত আলী বাদশা মুনিরা খান মুহাম্মদ আজিজ খান মোহাম্মদ নূর আলী মোঃ গোলাম মাওলা রনি এমপি মোঃ জসিম উদ্দিন মসিউর রহমান রাঙ্গা রাশেদ খান মেনন রাশেদা কে চৌধুরী লে. কর্ণেল মোঃ ফারুক খান (অব.) শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি শাইখ সিরাজ শাওন মাহমুদ শাজাহান খান এমপি শামসুজ্জামান খান শাহীন আনাম শারমীন মুরশিদ শুভ্র দেব শিবলী মোহাম্মদ শিরীন আখতার সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন সাঈদ খোকন সাকিব আল হাসান সাগুফতা ইয়াসমিন এমেলী সাব্বির হাসান নাসির সালমা খান সালাউদ্দিন কাশেম খান সিগমা হুদা সিলভীয়া পারভীন লিনি সুকুমার রঞ্জন ঘোষ সুরাইয়া জান্নাত সুলতানা কামাল সৈয়দ আখতার মাহমুদ সৈয়দ আবুল মকসুদ সৈয়দ মার্গুব মোর্শেদ সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান হাসানুল হক ইনু ড. সিনহা এম এ সাঈদ অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন ড. হামিদুল হক ড. হোসেন জিল্লুর রহমান ড. হোসেন মনসুর ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী ডা. অরূপরতন চৌধুরী ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী ডা. জাফরুল্লাহ্ চৌধুরী ডা. জোনাইদ শফিক ডা. মোঃ আব্দুল মতিন ডা. লুৎফর রহমান ডা. সরদার এ নাঈম ডা. সাঈদ আহমেদ সিদ্দিকী ডা. সামন্ত লাল সেন তোফায়েল আহমেদ তালেয়া রেহমান দিলরুবা হায়দার নজরুল ইসলাম খান নজরুল ইসলাম বাবু নবনীতা চৌধুরী নাঈমুর ইসলাম খান নমিতা ঘোষ নাঈমুর রহমান দূর্জয় নাসরীন আওয়াল মিন্টু নুরুল ইসলাম সুজন এমপি নুরুল কবীর নিলোফার চৌধুরী মনি এমপি প্রকোশলী তানভিরুল হক প্রবাল প্রফেসর মেরিনা জাহান ফকির আলমগীর ফরিদ আহমেদ বেগম মতিয়া চৌধুরী বিগ্রেডিয়ার জেনারেল এম সাখাওয়াত হোসেন (অব.) ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ব্যারিস্টার আমীর-উল ইসলাম ব্যারিস্টার তানিয়া আমীর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা ব্যারিস্টার সারা হোসেন ভেলরি এ টেইলর মতিউর রহমান চৌধুরী মনজিল মোরসেদ মমতাজ বেগম এমপি মামুন রশীদ মাহফুজ আনাম মাহফুজ উল্লাহ