Bangladesh Icon
আইকন সংবাদ:

কাজী নজরুল ইসলাম

জাতীয় কবি


ধূমকেতুর মহাবিস্ময় নিয়ে বাংলার কাব্যসাহিত্যের আকাশে যার আবির্ভাব, যিনি   রবীন্দ্রোত্তর কাব্যসাহিত্যে ঘটিয়েছিলেন রীতিমতো বিপ্লব, তিনি আর কেউ নন, আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ।

জন্ম ১৮৯৯ সালের ২৪ মে (১১ জ্যৈষ্ঠ, ১৩০৬ বাংলা) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে। পিতা কাজী ফকির আহমেদ, মা জাহেদা খাতুন। পরপর চার পুত্রের অকালমৃত্যুর পর কবির জন্ম। তাই মা অনেক দুঃখে পাওয়া ধন ছেলের নাম রেখেছিলেন দুখু মিয়া। কবির পারিবারিক অবস্থা খুব সচ্ছল ছিল না । পিতা ছিলেন স্থানীয় মাজার এবং মসজিদের খেদমতগার। মাত্র আট বছর বয়সে নজরুল পিতৃহীন হন। ফলে তাদের আর্থিক অবস্থা আরও খারাপ হয়ে পড়ে। গ্রামের মক্তব থেকেই নিম্ন প্রাইমারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন (১৩১৬) তিনি। পিতার মৃত্যুর পর তাকে ছাড়তে হয় লেখাপড়া।

এই সময় তিনি মাত্ৰ বারো বছর বয়সে যোগ দেন লেটো গানের দলে । তখন গ্রামের মুরুব্বিারা কবিকে রানীগঞ্জের শিয়ারশোল স্কুলে ভর্তি করিয়ে দেন। কিন্তু স্কুলের চারদেয়ালের গণ্ডি এবং তার বাঁধাধরা নিয়মনীতি তাঁর সহ্য হলো না । কবি একদিন স্কুল ছেড়ে উধাও হলেন ।

স্কুল ছেড়ে আসানসোলে এসে এক রুটির দোকানে মাসিক পাঁচ টাকা বেতনে চাকরি নেন। তিনি। এখানে তাকে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজ করতে হতো। কবি-প্রতিভা ছিল নজরুলের আজন্ম। লেটাের দলে থাকতেই তিনি মুখে-মুখে গান তৈরি করে দিতেন। রুটির আটা মাখতে মাখতেই তিনি সঙ্গীদের মনে আনন্দ দেওয়ার জন্য গাইতেন :

ঘামেতে ভিজলো আমার গা-টা

মাখতে মাখতে গমের আটা

এই রুটির দোকানের পাশের বাড়িতেই থাকতেন আসানসোল থানার দারোগা কাজী রফিজউদ্দিন। দারোগা কবির কণ্ঠে গান শুনে মুগ্ধ হয়ে তাঁকে নিজের বাড়ি ময়মনসিংহের দরিরামপুর হাই স্কুলে এনে ভর্তি করিয়ে দেন। কিন্তু এখানেও কবি বেশিদিন টিকতে পারলেন না। দশম শ্রেণীতে ওঠার পর পরই স্কুল থেকে পালিয়ে যান। ঠিক এই সময়ই বেধে যায় প্রথম বিশ্বযুদ্ধ। ব্রিটিশ সরকার তখন যুদ্ধপ্রস্তুতির জন্য সৈন্যদলে নতুন লোক ভর্তি করছিল।

একদিন কবি কাউকে কিছু না বলে সোজা গিয়ে নাম লেখানা ৪৯ নম্বর বাঙালি পল্টনে। সালটা ১৯১৭। পরে তিনি বাঙালি রেজিমেন্টের হাবিলদার পদে উন্নীত হন।

কিন্তু যুদ্ধের ডামাডোলের মধ্যেও তিনি কাব্যচর্চা ছাড়েননি। এই সময়ই রচিত হয়। তাঁর প্রথম গল্প ‘বাউণ্ডেলের আত্মকথা”, এবং ‘মুক্তি’, ‘স্বামীহারা’, ‘ব্যথার দান’ ও ‘হেনা' নামের অন্যান্য গল্প। এ-ছাড়া তার “রিক্তের বেদন’ গ্রন্থের গল্পগুলোও এই সময়েরই রচনা |

সওগাতের জ্যৈষ্ঠ সংখ্যায় (১৩২৬) তাঁর প্রথম গল্প ‘বাউণ্ডেলের আত্মকথা” প্রকাশিত হয়। এ-বছরই বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকার শ্রাবণ সংখ্যায় প্রকাশিত হয় ‘মুক্তি' এবং সওগাতের কার্তিক সংখ্যায় প্রকাশিত হয় প্রথম প্রবন্ধ তুর্ক মহিলার ঘোমটা খোলো” ।

যুদ্ধ থেমে গেলে কবি দেশে ফিরে আসেন। শুরু হয় তাঁর একনিষ্ঠ কাব্যচর্চার জীবন । বাংলা ১৩২৭ সালে কবি মোজাম্মেল হকের সম্পাদনায় কোলকাতা থেকে প্রকাশিত হয় ‘মোসলেম ভারত' পত্রিকা। কবি এই পত্রিকার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। একের পর এক তার গল্প এবং কবিতা প্ৰকাশিত হতে থাকে। এই পত্রিকায় ।

১৯২০ সালের শুরুতে বাঙালি রেজিমেন্ট ভেঙে দেয়া হলে তিনি করাচি ছেড়ে কোলকাতায় চলে আসেন এবং ৩২ নম্বর কলেজ স্ট্রিটের বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতির অফিসে আশ্রয় নেন।

সেসময় দেশে ব্রিটিশ-বিরোধী অসহযোগ আন্দলন (১৯২০-১৯২২) চলছিল। সেই অগ্নিঝরা আন্দলনের পটভূমিকায় পূর্ণোদ্যমে চলতে থাকে নজরুলের একাগ্র সাহিত্য সাধনা ৷

১৯২১ সালে কবি কুমিল্লার আলী আকবরের সঙ্গে তাদের বাড়িতে আসেন। এখানেই তিনি আলী আকবরের ভাগিনী নার্গিস আরা খানমকে বিয়ে করেন। কিন্তু এ বিয়ে সুখের হয়নি। তিনি বিয়ের রাতেই সেখান থেকে পালিয়ে আসেন।

১৯২১ সালে রচিত হয় কবির চিরস্মরণীয় কবিতা ‘বিদ্রোহী’, যাতে যিনি ঘোষণা করেন-

বল বীর

বল উন্নত মম শির!

শির নেহারি’ আমারি নতশির ওই শিখর হিমাদ্রির!

বল বীর-

বল- মহাবিশ্বের মহাকাশ ফাড়ি'

চন্দ্র সূর্য গ্রহ তারা ছাড়ি’

ভূলোক-দুৰ্য্যলোক গোলক ভেদিয়া

খোদার আসন আরশ” ছেদিয়া

উঠিয়াছি চির-বিস্ময় আমি বিশ্ববিধাতৃর!

মম ললাটে রুদ্র ভগবান জ্বলে রাজ-রাজটীকা দীপ্ত জয়শ্রীর!

বল বীর

আমি চির-উন্নত মম শির!

কবিতাটি প্রথম মুদ্রিত হয়। বাংলা ১৩২৮ সালের কাৰ্তিক সংখ্যায় ‘মোসলেম ভারত’ পত্রিকায়। প্রকাশ হওয়া মাত্ৰই কবিতাটি বাংলা সাহিত্যে বিদ্রোহের সূচনা করেছিল। কোনো একটিমাত্র কবিতাকে কেন্দ্র করে এমন অকুণ্ঠ প্রশংসা ও নিন্দা প্রাপ্তির ঘটনা বাংলা সাহিত্যে অন্য আর কোনো কবির ভাগ্যে জোটেনি।

কবি ১৯২২ সালের ১২ আগস্ট প্রকাশ করেন অর্ধসাপ্তাহিক পত্রিকা ‘ধূমকেতু’। এই পত্রিকাতেই ১৯২২ সালের ২২ সেপ্টেম্বর পুজো সংখ্যায় প্রকাশিত হয় তাঁর ‘আনন্দময়ীর আগমন’ কবিতাটি । এই কবিতার জন্যই তিনি ব্রিটিশ শাসকগোষ্ঠীর রুদ্ররোষে পতিত হন। রাজদ্রোহের অভিযোগে কারারুদ্ধ হন। কারাগারে বসেই তিনি রচনা করেন তার বিখ্যাত কোরাস গান। —“শিকল পরার গান’ ।

হুগলী জেলে কারারুদ্ধ থাকাকালে কয়েদিদের ওপর জেল কর্তৃপক্ষের অত্যাচারের প্রতিবাদে কবি অনশন ধর্মঘট পালন করেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, চিত্তরঞ্জন দাস প্রমুখ নজরুলকে অনশন ভঙ্গ করার অনুরোধ জানিয়ে টেলিগ্রাম ও পত্র প্রেরণ করেন। প্রেসিডেন্সি জেলের ঠিকানায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যে টেলিগ্রাম প্রেরণ করেছিলেন সেটা ছিল এরকম: Give up hunger strike our literature claims you কিন্তু জেল কর্তৃপক্ষ সেই টেলিগ্রাম নজরুলকে দেননি। তারা Address not found সিল মেরেসেঠি রবীন্দ্রনাথের কাছে ফেরত পাঠিয়ে দেন। এই সময় রবীন্দ্রনাথ তাঁর "বসন্ত” নাটকটি নজরুলকে উৎসর্গ করেন। অবশেষে কুমিল্লার বিরজাসুন্দরী দেবীর অনুরোধে ৩৯ দিন পর কবি অনশন ভঙ্গ করেন ।

১৯২২ সালে প্রকাশিত হয় ‘অগ্নিবীণা’। কবি জেলে থাকতেই প্রকাশিত হয়েছিল বইটি। তিনি জেল থেকে ছাড়া পান ১৯২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে। এই বছরই তার জীবনে ঘটে আরেকটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। ১৯২৪ সালের ২৫ এপ্রিল তিনি প্ৰমীলা সেনগুপ্তের সঙ্গে পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হন। বিয়ের পর কবি সস্ত্রীক হুগলিতে গিয়ে বসবাস করতে শুরু করেন ।

১৯২৫ সালে তিনি ফরিদপুরে কংগ্রেসের প্রাদেশিক সম্মেলনে যোগদান করেন। এই সম্মেলনে গান্ধীজী মুগ্ধ হন। এরপর কংগ্রেসের রাজনীতিতে তিনি সরাসরি অংশগ্রহণ করতে শুরু করেন। কংগ্রেসের অঙ্গসংগঠন মজুর স্বরাজ পার্টির (১৯২৫) অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন নজরুল। একই বছর তাঁর সম্পাদনায় সাপ্তাহিক “লাঙল’ (১৯২৫) পত্রিকা প্ৰকাশিত হয়। ১৯২৬-এর ২ এপ্রিল রাজরাজেশ্বরী মিছিলকে কেন্দ্র করে কোলকাতায় হিন্দু ও মুসলমানের মধ্যে দাঙ্গা বেধে যায়। এই বর্বরতার বিরুদ্ধে তিনি ঘৃণা আর ক্ষোভ প্রকাশ করেন। হিন্দু-মুসলমানের সম্প্রীতি কামনা করে “লাঙল’ পত্রিকায় অগ্নিবর্ষী প্ৰবন্ধ, গান ও কবিতা প্রকাশ করেন। একই বছরের নভেম্বর মাসে ফরিদপুর থেকে বঙ্গীয় বিধান সভার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি তমিজুদ্দীন খানের কাছে হেরে যান।

১৯২৬ সাল থেকে কবি গান-রচনায় মেতে ওঠেন। চলতে থাকে অজস্র ধারায় গান রচনার পালা ।

কবি প্রথমবার ঢাকায় আসেন ১৯২৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি । দ্বিতীয় বার আসেন ১৯২৮ সালের মার্চ মাসে। সাহিত্যসমাজের দ্বিতীয় বার্ষিক অনুষ্ঠানে গেয়ে শোনান তার অতিবিখ্যাত চল, চল চল ঊর্ধ্ব গগনে বাজে মাদল’ গানটি, যেটি বর্তমানে আমাদের দেশের রণসঙ্গীতের মর্যাদার অধিকারী।

কবির শ্রেষ্ঠ কবিতা ও গানের সংকলন “সঞ্চিতা’ প্ৰকাশিত হয় ১৯২৮ সালের অক্টোবর মাসে। এই সময় নজরুলের জনপ্রিয়তা ছিল আকাশচুম্বী।

ইতিমধ্যেই কবির জীবনে নেমে আসে পরপর কয়েকটি দুর্যোগ। আর্থিক অনটন তো ছিলই, প্রথম পুত্র আজাদ কামালের অকালমৃত্যু হয়। ১৯৩০ সালে বসন্ত রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায় কবির দ্বিতীয় পুত্র বুলবুল। এই মৃত্যুর উপর্যুপরি ঘটনা তাঁর মনে দারুণ আঘাত হানে।

১৯২৯ সালেই গ্রামোফোন কম্পানির সাথে কবির যোগাযোগ হয়েছিল। পরে ১৯৩৫ সালে তিনি কম্পানির এক্সকুসিভ কমপোজার নিযুক্ত হন।

১৯২৯ সালের ১৫ ডিসেম্বর কোলকাতার অ্যালবার্ট হলে নজরুলকে দেয়া হয় ব্যাপক সংবর্ধনা। সংবর্ধনা সভায় আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায় তাঁর সভাপতির ভাষণে নজরুলকে প্রতিভাবান বাঙালি কবি বলে আখ্যায়িত করেন। একই সভায় সুভাষচন্দ্ৰ বসু কবিকে সম্ভাষণ জানিয়ে বলেন, আমরা যখন যুদ্ধে যাব, তখন সেখানে নজরুলের গান গাওয়া হবে। আমরা যখন কারাগারে যাব, তখনও তাঁর গান গাইব । ‘প্রলয়শিখা’ কাব্যগ্রন্থে রাজদ্রোহমূলক কবিতা থাকার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে রাজদ্রোহের মামলা দায়ের করা হলে আদালত তাকে ছয়মাসের কারাদণ্ড প্ৰদান করে। ১৯৩১ সালের ৪ মার্চ গান্ধী-আরউইন চুক্তির ফলে জেল খাটার দায় থেকে তিনি মুক্তি পান ।

১৯৩১ সাল থেকে কবি চলচ্চিত্র ও রঙ্গমঞ্চের সাথেও জড়িয়ে পড়েন। তার “আলেয়া’ নাটক মঞ্চস্থ হয় ১৩৩৮ সালের ৩ পৌষ এবং ধ্রুব’ ছবিটি মুক্তি পায় ১৯৩৫ সালের ১ জানুয়ারি। এই ছবিতে তিনি সঙ্গীত রচনা ও পরিচালনা ছাড়াও নারদের ভূমিকায় অভিনয়ও করেছিলেন।

১৯৪০ সালে স্ত্রী প্রামীলা নজরুল আক্রান্ত হন পক্ষাঘাত রোগে । এর মাত্র দুবছর পর ১৯৪২ সালে ১০ জুলাই থেকে কবি নিজেও পিক'স ডিজিস নামে দুশ্চিকিৎস্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হন, বাকশক্তি হারিয়ে ফেলেন চিরদিনের জন্য। বিদেশে পাঠিয়েও কবিকে রোগমুক্ত করা সম্ভব হয়নি।

বাংলাদের স্বাধীনতা লাভের পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান ১৯৭২ সালের ২৪ মে কবিকে রাষ্ট্ৰীয় অতিথি হিসেবে ঢাকায় নিয়ে আসেন।

১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট সকাল ১০টায় নির্বাক কবি ঢাকার পিজি হাসপাতালে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মসজিদের পাশে কবিকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয়।

বাংলা সাহিত্যে নজরুলের অবদান অনন্য সাধারণ। বাংলা কাব্য-জগতে তিনি “বিদ্রোহী কবি’ নামে খ্যাত। রবীন্দ্ৰযুগে যেসব কবি রবীন্দ্র প্রভাব অতিক্রম করে স্বাধীনভাবে কবিতা রচনা করে স্বকীয়তার পরিচয় দিয়েছেন, তাদের মধ্যে তাঁর স্থান শীর্ষে। জনপ্রিয়তার আলোকে রবীন্দ্রনাথের পরই নজরুলের স্থান ।

‘অগ্নিবীণা’ (১৯২২), ‘বিষের বাঁশি’ (১৯২৪), ‘ভাঙার গান’ (১৯২৪), ‘সাম্যবাদী’ (১৯২৫), ‘সর্বহারা’ (১৯২৬), "ফণিমনসা’ (১৯২৭), ‘জিঞ্জির’ (১৯২৮), ‘সন্ধ্যা’ (১৯২৯) ও ‘প্রলয়-শিখা’ (১৯৩০) কাব্যগ্রন্থে কবির বিদ্রোহীরূপ পরিস্ফুট।” "রুদ্রবীণা’-র ঝঙ্কারময় কবিতার পাশাপাশি তিনি কোমল-মধুর মানবিক প্রেমের কবিতাও রচনা করেন। ‘দোলোনচাঁপা’ (১৯২৩), ‘ছায়ানট’ (১৯২৪), ‘পূবের হাওয়া” (১৯২৫), সিন্ধু-হিন্দোল (১৯২৭) এবং ‘চক্ৰবাক’ (১৯২৯) কাব্যে নজরুলের প্রেমিকরূপ প্রকাশিত "মরু-ভাস্কর” (১৯৫৭) তাঁর আরেকটি বিশেষ কাব্যগ্রন্থ। ঝিঙে ফুল’ (১৯২৬) ও ‘সাতভাই চম্পা’ ছোটদের কবিতা গ্রন্থ।

তিনি গল্প, উপন্যাস, প্ৰবন্ধ ও নাটক রচনাতেও সিদ্ধহস্ত ছিলেন। ‘বাধনহারা’ (১৯২৭), মৃত্যুন্মুগ্ধা’ (১৯৩০) এবং কুহেলিকা (১৯৩১) তাঁর উপন্যাস। ‘ব্যথার দান’ (১৯২২), ‘রিক্তের বেদন’ (১৯২৫) ও "শিউলিমালা’ (১৯৩১) গল্পগ্রন্থ। তিনি ঝিলিমিলি’ (১৯৩০), ‘আলেয়া’ (১৯৩১) ও 'মধুমালা’ (১৯৫৯) নামে তিনটি নাটক রচনা করেন। যুগবাণী’ (১৯২২), ‘রাজবন্দীর জবানবন্দী’ (১৯২৩), ‘দুর্দিনের যাত্রী’ (১৯২৬) ও “রুদ্রমঙ্গল’ তাঁর প্রবন্ধ গ্রন্থ।

গীতিকার, সুরকার ও গায়ক হিসেবেও তিনি কিংবদন্তিতুল্য সুনাম অর্জন করেছিলেন। দেশাত্মবোধক গান, কোরাস গান, প্রেমসঙ্গীত, শ্যামাসঙ্গীত, ইসলামি সঙ্গীত, পল্লীগীতি ও হাসির গানেরও ছিলেন দক্ষ স্রষ্টা। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে তাঁর দেশাত্মবোধক গান ছিল মুক্তিকামী জনতার প্রেরণার উৎস। বুলবুল” (প্রথম খণ্ড ১৯২৮, ২য় খণ্ড ১৯৫২), ‘চোখের চাতক’ (১৯২৯), ‘চন্দ্ৰবিন্দু’ (২য় সংস্করণ ১৯৪৬), ‘নজরুলগীতিকা’ (১৯৩০), ‘নজরুল স্মরণিকা’ (১৯৩১), ‘সুরকাসী’ (১৯৩১), “জুলফিকার’ (১৯৩২), ‘বনগীতি’ (১৯৩২), ‘গুলবাগিচা’ (১৯৩৩), গীতিশতদল” (১৯৩৪), ‘স্বরলিপি’ (১৯৩৪), ‘সুর-মুকুর’ (১৯৩৪) ও ‘গানের মালা’ (১৯৩৪) তার রচিত সঙ্গীত গ্রন্থাবলি।

তাঁর ‘অগ্নিবীণা’, ‘বিষের বাঁশি’, ‘ভাঙার গান', 'প্ৰলয়শিখা’, ‘যুগবাণী’ ও ‘চন্দ্ৰবিন্দু তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক বাজেয়াপ্ত হয়েছিল।

কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক জগত্তারিণী স্বর্ণপদক (১৯৪৫), ভারত সরকার কর্তৃক পদ্মভূষণ (১৯৬০), রবীন্দ্র-ভারতী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক ডি-লিট (১৯৬৯), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক ডি-লিট (১৯৭৪) ও বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক একুশে পদক (১৯৭৬) প্ৰদান করা হয়। তিনি বাংলাদেশের জাতীয় কবি।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান BANGLADESH ICON আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ আতিউর রহমান বেগম রোকেয়া মোস্তাফা জব্বার ভাষা শহিদ সজীব ওয়াজেদ জয় তাজউদ্দীন আহমদ শেরে বাংলা ফজলুল হক মাওলানা ভাসানী  প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার বেগম সুফিয়া কামাল শেখ হাসিনা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হোসেন শহিদ সোহরাওয়ার্দি কাজী নজরুল ইসলাম মাস্টারদা সূৰ্য সেন ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ মণি সিংহ স্যার ফজলে হাসান আবেদ  সালমান এফ রহমান সুফী মুহাম্মদ মিজানুর রহমান মোরশেদ আলম এমপি সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী আহমেদ আকবর সোবহান জয়নুল হক সিকদার দীন মোহাম্মদ আজম জে. চৌধুরী প্রফেসর মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন সাইফুল আলম মাসুদ আলহাজ্ব এম এম এনামুল হক খলিলুর রহমান এ কে এম রহমত উল্লাহ্ ইফতেখার আহমেদ টিপু শেখ কবির হোসেন এ কে আজাদ ডাঃ মোমেনুল হক আলহাজ্ব মোঃ হারুন-উর-রশীদ কাজী সিরাজুল ইসলাম নাছির ইউ. মাহমুদ ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল আজিজ শেখ ফজলে ফাহিম প্রফেসর ড. কবির হোসেন তালুকদার মোঃ হাবিব উল্লাহ ডন রূপালী চৌধুরী হেলেন আখতার নাসরীন মনোয়ারা হাকিম আলী নাসরিন সরওয়ার মেঘলা প্রীতি চক্রবর্তী মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির ক্যাপ্টেন তাসবীরুল আহমেদ চৌধুরী এহসানুল হাবিব আলহাজ্জ্ব জাহাঙ্গীর আলম সরকার আলহাজ্ব খন্দকার রুহুল আমিন তানভীর আহমেদ ড. বেলাল উদ্দিন আহমদ মোঃ শফিকুর রহমান সেলিম রহমান মাফিজ আহমেদ ভূঁইয়া  মোঃ ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ  শহিদ রেজা আব্দুর রউফ জেপি এডভোকেট ইকবাল আহমদ চৌধুরী এ কে এম সরওয়ারদি চৌধুরী ড. এম. মোশাররফ হোসেন মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন লায়ন মোঃ মোজাম্মেল হক ভূঁইয়া মোঃ মিজানুর রহমান সায়েম সোবহান আনভীর মামুন-উর-রশিদ বি এম ইউসুফ আলী মোঃ জামিরুল ইসলাম ডক্টর হেমায়েত হোসেন মোঃ শাহ আলম সরকার ফারজানা চৌধুরী এম. সামসুজ্জামান মেজর পারভেজ হাসান (অব.) এম এ মতিন সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল মাসুদ পারভেজ খান ইমরান ড. এম এ ইউসুফ খান কাজী সাজেদুর রহমান ড. হাকীম মোঃ ইউছুফ হারুন ভূঁইয়া আলহাজ্ব মীর শাহাবুদ্দীন মোঃ মুনতাকিম আশরাফ (টিটু) মোঃ আবদুর রউফ কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ আব্দুল মাতলুব আহমাদ মোঃ মজিবর রহমান মোহাম্মদ নূর আলী সাখাওয়াত আবু খায়ের মোহাম্মদ আফতাব-উল ইসলাম মোঃ সিরাজুল ইসলাম মোল্লা এমপি প্রফেসর ড. আবু ইউসুফ মোঃ আব্দুল্লাহ মোঃ জসিম উদ্দিন বেনজীর আহমেদ মিসেস তাহেরা আক্তার পারভীন হক সিকদার নাসির এ চৌধুরী হাফিজুর রহমান খান ড. মোহাম্মদ ফারুক কাইউম রেজা চৌধুরী মোঃ সবুর খান মাহবুবুল আলম মোঃ হেলাল মিয়া সেলিমা আহমাদ নজরুল ইসলাম ড. এ এস এম বদরুদ্দোজা ড. হায়দার আলী মিয়া ইঞ্জিনিয়ার গুলজার রহমান এম জামালউদ্দিন মোঃ আব্দুল হামিদ মিয়া মোঃ হাবিবুর রহমান মোঃ মুহিব্বুর রহমান চৌধুরী মোহাম্মদ নুরুল আমিন জিয়াউর রহমান ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী শ্যামল দত্ত জ ই মামুন আনিসুল হক সামিয়া রহমান মুন্নি সাহা আব্বাসউদ্দীন আহমদ নীলুফার ইয়াসমীন ফিরোজা বেগম শাহ আব্দুল করিম ফরিদা পারভীন সরদার ফজলুল করিম আনিসুজ্জামান আখতারুজ্জামান ইলিয়াস হুমায়ূন আহমেদ সেলিম আল দীন জহির রায়হান বুলবুল আহমেদ রওশন জামিল সৈয়দ হাসান ইমাম হেলেনা জাহাঙ্গীর অঞ্জন রায় অধ্যক্ষ আব্দুল আহাদ চৌধুরী অধ্যাপক আবু আহমেদ অধ্যাপক  আবু সাইয়িদ অধ্যাপক আমেনা মহসীন অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ অধ্যাপক জয়নাল আবদিন এমপি অধ্যাপক ড. আরিফুর রহমান অধ্যাপক ড. আব্দুল মতিন পাটোয়ারী অধ্যাপক ড. ইজাজ হোসেন অধ্যাপক ড. এ কে আজাদ চৌধুরী অধ্যাপক ড. এ কে আব্দুল মোমেন অধ্যাপক ড. এম এ মান্নান অধ্যাপক ড. এম এ হাকিম অধ্যাপক ড. এম শমসের আলী অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী অধ্যাপক ড. শাহেদা ওবায়েদ অধ্যাপক ড. সদরুল আমিন অধ্যাপক ড. হাফিজ জি. এ. সিদ্দিকী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন অধ্যাপক তৌহিদুল আলম অধ্যাপক ডা. বরেন চক্রবর্তী অধ্যাপক ডা. মতিউর রহমান অধ্যাপক ডা. মোঃ শারফুদ্দিন আহমেদ অধ্যাপক ডা. মোঃ হাবিবে মিল্লাত এমপি অধ্যাপক মেহতাব খানম অধ্যাপিকা অপু উকিল এমপি অধ্যাপক ড. হোসনে আরা বেগম আইয়ুব বাচ্চু আ খ ম জাহাঙ্গীর হোসাইন আনিস এ. খান আনোয়ার উল আলম চৌধুরী পারভেজ আনোয়ার হোসেন মঞ্জু আবদুল বাসেত মজুমদার আবু সাঈদ খান আবুল কাশেম মোঃ শিরিন আবুল কাসেম হায়দার আবুল মাল আব্দুল মুহিত আব্দুল আউয়াল মিন্টু আব্দুল মতিন খসরু এমপি আবদুল মুকতাদির আব্দুল মুয়ীদ চৌধুরী আব্দুস সালাম মুর্শেদী আমির আমির হোসেন আমু এমপি আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী আয়শা খানম আ স ম আবদুর রব আ স ম ফিরোজ আসাদুজ্জামান খান কামাল আসিফ ইব্রাহীম আলী রেজা ইফতেখার আ হ ম মুস্তফা কামাল এমপি ইউসুফ আব্দুল্লাহ হারুন ইনায়েতুর রহিম ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক এমপি ইঞ্জিনিয়ার নুরুল আকতার ইমদাদুল হক মিলন উপধ্যক্ষ মোঃ আব্দুস শহীদ এমপি এ এইচ এম নোমান এ এইছ আসলাম সানি এ কে ফাইয়াজুল হক রাজু এডভোকেট তানবীর সিদ্দিকী এডভোকেট ফজিলাতুন নেসা বাপ্পি এমপি এডভোকেট মোঃ ফজলে রাব্বী এমপি এনাম আলী এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার এমপি এম এ সবুর এম নাছের রহমান এয়ার কমডোর ইসফাক এলাহী চৌধুরী (অব.) এস এম ফজলুল হক ওয়াহিদা বানু কবরী সারোয়ার কাজী ফিরোজ রশীদ কেকা ফেরদৌসী কে. মাহমুদ সাত্তার খন্দকার রুহুল আমিন খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ খালেদ মুহিউদ্দীন খুশি কবির জুনাইদ আহমেদ পলক জোবেরা লিনু টিপু মুন্সী ড. আবুল বারকাত ড. কাজী কামাল আহমদ ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ ড. তৌফিক এম. সেরাজ ড. বদিউল আলম মজুমদার ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন ড. সাজ্জাদ জহির ড. সা’দত হুসাইন মেজর জেনারেল সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহীম (অব.) বীর প্রতীক মেজর জেনারেল হেলাল মোর্শেদ খান (অব.) বীর বিক্রম মেহের আফরোজ চুমকি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ মিথিলা ফারজানা মীর নাসির হোসেন মীর মাসরুর জামান মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন মীর শওকাত আলী বাদশা মুনিরা খান মুহাম্মদ আজিজ খান মোহাম্মদ নূর আলী মোঃ গোলাম মাওলা রনি এমপি মোঃ জসিম উদ্দিন মসিউর রহমান রাঙ্গা রাশেদ খান মেনন রাশেদা কে চৌধুরী লে. কর্ণেল মোঃ ফারুক খান (অব.) শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি শাইখ সিরাজ শাওন মাহমুদ শাজাহান খান এমপি শামসুজ্জামান খান শাহীন আনাম শারমীন মুরশিদ শুভ্র দেব শিবলী মোহাম্মদ শিরীন আখতার সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন সাঈদ খোকন সাকিব আল হাসান সাগুফতা ইয়াসমিন এমেলী সাব্বির হাসান নাসির সালমা খান সালাউদ্দিন কাশেম খান সিগমা হুদা সিলভীয়া পারভীন লিনি সুকুমার রঞ্জন ঘোষ সুরাইয়া জান্নাত সুলতানা কামাল সৈয়দ আখতার মাহমুদ সৈয়দ আবুল মকসুদ সৈয়দ মার্গুব মোর্শেদ সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান হাসানুল হক ইনু ড. সিনহা এম এ সাঈদ অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন ড. হামিদুল হক ড. হোসেন জিল্লুর রহমান ড. হোসেন মনসুর ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী ডা. অরূপরতন চৌধুরী ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী ডা. জাফরুল্লাহ্ চৌধুরী ডা. জোনাইদ শফিক ডা. মোঃ আব্দুল মতিন ডা. লুৎফর রহমান ডা. সরদার এ নাঈম ডা. সাঈদ আহমেদ সিদ্দিকী ডা. সামন্ত লাল সেন তোফায়েল আহমেদ তালেয়া রেহমান দিলরুবা হায়দার নজরুল ইসলাম খান নজরুল ইসলাম বাবু নবনীতা চৌধুরী নাঈমুর ইসলাম খান নমিতা ঘোষ নাঈমুর রহমান দূর্জয় নাসরীন আওয়াল মিন্টু নুরুল ইসলাম সুজন এমপি নুরুল কবীর নিলোফার চৌধুরী মনি এমপি প্রকোশলী তানভিরুল হক প্রবাল প্রফেসর মেরিনা জাহান ফকির আলমগীর ফরিদ আহমেদ বেগম মতিয়া চৌধুরী বিগ্রেডিয়ার জেনারেল এম সাখাওয়াত হোসেন (অব.) ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ব্যারিস্টার আমীর-উল ইসলাম ব্যারিস্টার তানিয়া আমীর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা ব্যারিস্টার সারা হোসেন ভেলরি এ টেইলর মতিউর রহমান চৌধুরী মনজিল মোরসেদ মমতাজ বেগম এমপি মামুন রশীদ মাহফুজ আনাম মাহফুজ উল্লাহ