Bangladesh Icon
আইকন সংবাদ:

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

বিশ্বের অন্যতম শ্ৰেষ্ঠ কবি, লেখক


তিনি ছিলেন সত্যি এক বিরাট বিস্ময় । সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ কবি তিনি। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। শুধু শ্রেষ্ঠ কবি নন, মানবজীবনের এমন কোনো ক্ষেত্র নেই, এমন কোনো চিন্তা নেই, এমন কোনো ভাব নেই, যেখানে তিনি বিচরণ করেননি। তাঁর অমর কাব্যে ব্যথিত পাবে ব্যথা৷জয়ের প্রেরণা, দার্শনিক পাবেন প্রকৃত সত্যের সন্ধান, মৃত্যুপথযাত্রী পাবেন মৃত্যুজয়ের সান্তনা। আজও সমগ্র বাংলাভাষাভাষী, এমনকি গোটা বিশ্ববাসী প্রতিদিন তার ভাবতরঙ্গে অবগাহন করে, তার কথায় ও সুরে গান গায়, তার ভাষায় কথা বলে ।

তিনি বাংলা সাহিত্যের সর্বশ্রেষ্ঠ প্ৰতিভা। তিনি ছিলেন একাধারে কবি, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, অভিনেতা, সমাজসেবী এবং শিক্ষাবিদ।

এই মহান কবির জন্ম কোলকাতার বিখ্যাত জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারে। উনবিংশ শতকের সাহিত্য ও সংস্কৃতির পীঠস্থান ছিল এই জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবার। এই পরিবারের শিক্ষাদীক্ষা, মার্জিত সাংস্কৃতিক চেতনা এবং পিতার আলোকিত ধর্মবিশ্বাস রবীন্দ্রনাথের মধ্যে বিস্ময়কররূপে মূর্ত হয়ে উঠেছিল।

রবীন্দ্রনাথের পিতামহ ছিলেন প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর, পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর, মাতা শারদা সুন্দরী দেবী। পরিবারটি পিরালি” ব্ৰাহ্মণ বংশের। এর অর্থ, তারা ব্ৰাহ্মণ বা উচ্চবংশীয় হলেও পতিত হয়েছিলেন এবং অন্যান্য ব্ৰাহ্মণেরা তাদের নিচু চোখে দেখতেন, তাদের সঙ্গে সচরাচর কোন সামাজিক সম্পর্ক রক্ষা করতেন না। এতে সংস্কৃতিমনা ও রুচিশীল। এই পরিবারের মোগল ঐতিহ্যের সূত্রে মুসলিম সংস্কৃতি, দেশীয় ঐহিত্যের সূত্রে হিন্দু সংস্কৃতি এবং ইংরেজ শাসকগোষ্ঠীর ঐতিহ্যসূত্রে ইউরোপীয় সংস্কৃতি এসে সম্মিলিত হয়েছিল।

দেবেন্দ্রনাথ মধ্যবয়সে রাজা রামমোহন রায় প্রবর্তিত ব্ৰাহ্মধর্মে দীক্ষাগ্ৰহণ করেন। এর ফলে ঠাকুর পরিবারের অন্যান্য ধারা হিন্দু ধর্মাবলম্বী হলেও দেবেন্দ্রনাথ ও রবীন্দ্রনাথের বংশধারা ব্ৰাহ্ম ধর্মমতে পরিচালিত হতে থাকে। উল্লেখ্য, ব্রাহ্মধর্মমত একেশ্বরবাদে বিশ্বাসী। এতে দেব-দেবীর পূজার স্থান নেই।

কোলকাতা শহরের জোড়াসাঁকোর ঐতিহ্যমণ্ডিত এই বিশাল ঠাকুর পরিবারে রবীন্দ্রনাথের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ সালের ২৫ বৈশাখ)। শৈশবে ওরিয়েন্টাল মিশনারিতে কিছুকাল পড়াশোনা করেছিলেন। কিন্তু মর্মের গভীরে   

বিশ্বপ্রকৃতির উদার আহ্বান তাঁকে স্কুলের গন্ডিবদ্ধ বন্দিজীবন বেশিদিন সহ্য করতে দেয়নি। অগত্যা পিতা দেবন্দ্রনাথ তাকে গৃহশিক্ষকের   তত্ত্বাবধানে শিক্ষার ব্যবস্থা করে দেন। স্কুলের বিদ্যা তাঁর জুটল না সত্যি, কিন্তু বিশ্ববিদ্যার সকল দুয়ার তাঁর সামনে উন্মুক্ত হয়ে গেল।

শুরু হয় কবি-কিশোরের নিরবচ্ছিন্ন কাব্যচর্চা। মাত্ৰ তেরো বছর বয়সেই তার কবিতা প্রথম প্রকাশিত হয় ‘অমৃতবাজার’ নামে একটি দ্বিভাষিক পত্রিকায় ১৮৭৪ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি। সতেরো বছর বয়সে পড়াশোনার জন্য তাকে যেতে হয় বিলেতে। কিন্তু সেখানেও বিদ্যালয়ের বিদ্যাচর্চা খুব একটা হয়নি। শুধু বছর কয়েক পাশ্চাত্য জীবনাচরণ, সাহিত্য-সংস্কৃতির সঙ্গে নিবিড় পরিচয়ের স্মৃতি এবং হৃদয়ে পাশ্চাত্য সঙ্গীতের সুর-মূৰ্ছনা নিয়ে তিনি ফিরে আসেন স্বদেশে।

রবীন্দ্রনাথ প্রথম বিলেত গিয়েছিলেন ১৮৭৮ সালে। সেখানে তিনি ব্ৰাইটনে, পরে লন্ডনের ইউনিভার্সিটি কলেজে অধ্যাপক হেনরি মর্লির কাছে ইংরেজি সাহিত্য নিয়ে কিছুদিন পড়াশোনা করেন। কিন্তু পাঠ সমাপ্ত হওয়ার আগেই তিনি বছর দেড়েক পরে দেশে ফিরে আসেন ১৮৮০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে। তিনি দ্বিতীয়বার আবার বিলেত যাত্রা করেন ১৮৮১ সালের এপ্রিল মাসে। কিন্তু যাওয়া আর হয়নি, মাদ্রাজ থেকেই ফিরে আসেন ।

বিলেত যাওয়ার আগেই জ্ঞানাঙ্কুর’ এবং প্রতিবিম্ব’ পত্রিকায় তাঁর ‘বনফুল' এবং বিলেতে বসবাসকালেই ভারতী পত্রিকায় (দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর সম্পাদিত) তাঁর পত্ৰগুচ্ছ বের হতে থাকে “য়ুরোপ প্রবাসী কোনো বঙ্গীয় যুবকের পত্র’ শিরোনামে। পরের বছর তাঁর তিনটি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়। এগুলো হল : ‘ভগ্নহৃদয়' (গীতিকাব্য) এবং “রুদ্রচণ্ড' (নাটিকা) এবং আগে উল্লেখ করা পত্রাবলি য়ুরোপ প্রবাসীর পত্র’ নামে প্রকাশিত হয়।

রবীন্দ্রনাথ ১৮৮১ সালে লেখেন “বাল্মীকি প্রতিভা’ গীতিনাট্য। পারিবারিক অনুষ্ঠানে তা অভিনীত হয়। কবি নিজেই বাল্মীকির ভূমিকায় অভিনয় করেন। ১৮৮২ সালে প্রকাশিত হয় গীতিনাট্য 'কালমৃগয়া”। এতে রবীন্দ্রনাথ অভিনয় করেন অন্ধমুনির ভূমিকায়।

পঞ্চম ভ্ৰাতা জ্যোতিরিন্দ্রনাথের সঙ্গেই রবীন্দ্রনাথের ঘনিষ্টতা ছিল সবচেয়ে বেশি। তিনি ‘বিবিধ প্রসঙ্গ’ (১৮৮৩), ‘সন্ধ্যা সঙ্গীত’ (১৮৮২)-এর কবিতাসমূহ এবং ‘বৈঠাকুরানীর হাট’ (১৮৮৩) উপন্যাস প্রভৃতি রচনা করেন। তাঁর প্রথম নাটক ‘প্রকৃতির প্রতিশোধ” রচনা করেন। ১৮৮৪ সালে মহিশুরের কারেয়ো অবস্থান করার সময়।

১৮৮৩ সালের ৯ ডিসেম্বর এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বাইশ বছর বয়সে তিনি বিয়ে করেন। যশোরের মেয়ে ভবতারিনী দেবীকে । বিয়ের পর কনের সেকেলে নাম পাল্টে রাখা হয় মূনালিনী দেবী। রবীন্দ্রনাথের বিয়ের অল্পকাল পরই জ্যোতিরিন্দ্রনাথের স্ত্রীর প্রায়-সমবয়সী বৌঠান কাদম্বরী দেবী আত্মহত্যা করেন। ১৮৮৪ সালের ১৯ এপ্রিল। এটা ছিল রবীন্দ্রনাথের জীবনে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। কারণ, রবীন্দ্র মনন ও রবীন্দ্র প্রতিভা বিকাশে কাদম্বরী দেবীর প্রভাব ছিল অসামান্য। রবীন্দ্ৰনাথ সারাজীবন এই শোকের যন্ত্রণা ভুলতে পারেন নি।

 রবীন্দ্রনাথের পাঁচ ছেলেমেয়ে হয়েছিল । তিনি পত্নী প্রেমিক স্বামী ও সন্তানবৎসল৷ পিতা ছিলেন। রবীন্দ্রনাথের সংসারজীবন ছিলমাত্র বিশ বছরের। মৃণালিনী দেবী উনত্রিশ বছর বয়সে মারা যান। তখন রবীন্দ্রনাথের বয়স ছিল পয়তাল্লিশ বছর। তিনি আর দ্বিতীয় বিবাহ করেননি। বর্তমানে রবীন্দ্রনাথের প্রত্যক্ষ বংশধরদের আর কেউ বেঁচে নেই।

১৮৮৫ সালে “বালক’ নামে একটি মাসিক কিশোর প্রত্রিকা বের হয়। সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্ত্রী জ্ঞানদানন্দিনী দেবীর সম্পাদনায়। রবীন্দ্রনাথ এই “বালক’ পত্রিকার নিয়মিত লেখক ছিলেন। তার অনেক শিশুতোষ কবিতা, প্ৰবন্ধ, হাস্যকৌতুক ও ভ্ৰমণকাহিনী প্রকাশিত হতো। এই পত্রিকায় । এই পত্রিকাতেই তিনি ধারাবাহিকভাবে তার ‘রাজর্ষি উপন্যাস প্ৰকাশ করেন ।

কবির প্রথম উল্লেখযোগ্য কাব্য কড়ি ও কোমল” প্রকাশিত হয় ১৮৮৬ সালে । ১৮৮৮ সালে রচনা করেন। তিনি গীতিনাট্য “মায়ার খেলা’ । ১৮৮৯ সালে রচনা করেন ‘রাজা ও রানী’ নাটক। ১৮৯০ সালে মানসী" কাব্যের প্রধান কবিতাসমূহ এবং “বিসর্জন’-এর মতো ভাবাশ্রয়ী ট্রাডেজি নাটক এবছরই লেখা হয়। এ বছরেই মাত্র আড়াই মাসের বিলেত যাত্রার পরিণতিতে পরের বছর ১৮৯১ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর “য়ুরোপ যাত্রীর ডায়ারি’ ।

১৮৯১ সালের এপ্রিল মাস থেকে সাপ্তাহিক হিতবাদী’ পত্রিকায় প্রকাশিত হতে শুরু করে তাঁর ‘দেনা-পাওনা’, ‘পোস্টমাস্টার’, ‘গিন্নি’, ‘রামকানাইয়ের নিবুদ্ধিতা’, ‘ব্যবধান’ ও ‘তারাপ্রসনের কীর্তি’ নামের ছোট গল্পগুলো ।

ওই একই বছরের শেষভাগে ঠাকুর পরিবার থেকে ‘সাধনা’ নামে একটি মাসিক পত্রিকা প্ৰকাশিত হতে শুরু করে। এতে ১২৯৮ বঙ্গাব্দের অগ্রহায়ণ মাস থেকে ১৩০২ সালের ভাদ্র-কার্তিক মাস পর্যন্ত কবির প্রায় ৩৬টি গল্প প্ৰকাশিত হয়। প্রতি সংখ্যাতেই তার একাধিক রচনা থাকত ।

১৩০১ বঙ্গাব্দে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ প্রতিষ্ঠিত হলে নবীনচন্দ্র সেনের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথ এই সংস্থার সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন। এরপর তিনি জমিদারির তদারকি কাজের জন্য কুষ্টিয়া জেলার শিলাইদহে গমন করেন। তিনি এখানে ১৮৮৭ সাল থেকে ১৮৯৫ সাল পর্যন্ত ছিলেন । এই সময় তিনি মেজভাই সত্যেন্দ্রনাথের মেয়ে ইন্দিরা দেবীকে নিয়মিত পত্র লিখতেন। এইসব পত্রে গ্রামীণ বাংলার চিরকালীন রূপ ফুটে উঠেছে। এই পত্রগুলো ১৯১২ সালে ছিন্নপত্র' নামে সংগৃহীত হয়ে ছাপা হয়। এই পর্বেই কবি রচনা করেন 'চিত্রাঙ্গদা’ (১৮৯২), ‘সোনার তরী’ (১৮৯৪) এবং চিত্ৰা’ (১৮৯৬) নামের কাব্যনাট্য ও কাব্যগ্রন্থ। এছাড়াও রচিত হয় ‘গোড়ায় গলদ’ (১৮৯২) ও বৈকুণ্ঠের খাতা’ (১৮৯৭) নামে দুটো প্ৰহসন, “পঞ্চভূতের ডায়ারি’ নামে একটি প্রবন্ধের বই।

এসময় তিনি এক বছরের জন্য ‘ভারতী’ পত্রিকার সম্পাদনা করেন। এই পত্রিকায় তার অনেক ছোটগল্প প্ৰকাশিত হয়। ১৮৯৮ সালে তিনি কোলকাতার পৈত্রিক ভবনছেড়ে সপরিবারে কুষ্টিয়ার শিলাইদহে চলে আসেন এবং ১৯০১ সাল থেকে বীরভূমের বোলপুরে শান্তিনিকেতনে পাকাপাকিভাবে বসবাস করতে শুরু করেন।

রবীন্দ্রনাথ ১৯০১ সালে শান্তিনিকেতনে ব্রহ্মচর্যাশ্রম’ নামে একটি আবাসিক বিদ্যালয় স্থাপন করেন। এই বিদ্যালয়ই বর্ধিত হয়ে অবশেষে ১৯২১ সালে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হয়। বিদ্যালয় স্থাপনের এগার মাস পরে ১৯০২ সালে কবিপত্নী মৃণালিনী দেবী এবং তার মাত্র কয়েকমাস পর তার সদ্য বিবাহিত কন্যা রেণুকা দেবীর মৃত্যু হয়। ১৯০৫ সালে কবির পিতৃদেব মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং কবির কনিষ্ঠ পুত্র শমীন্দ্রনাথ মাত্ৰ তেরো বছর বয়সে মারা যান।

এই সময় উপযুপরি পারিবারিক মৃত্যুশোক কবির ভেতরে ঘটাতে থাকে ভাবের রূপান্তর। এর থেকেই কবির ‘গীতাঞ্জলি’ পর্বের শুরু । ‘গীতাঞ্জলি” কাব্য প্রকাশিত হয় ১৯১০ সালে |

উনিশ শতকের শেষ ও বিশ শতকের শুরুতে কয়েকটি বছর রবীন্দ্রনাথকে নানা সমাজসেবামূলক ও রাজনৈতিক কার্যকলাপে সক্রিয় অংশগ্রহণ করতে দেখা যায়। তিনি ১৯০৫ সালে সূচিত বঙ্গভঙ্গ-বিরোধী আন্দােলন সম্পৃক্ত সভা-সমিতিতে ভাষণ দিয়ে বেড়ান এবং দেশপ্রেমমূলক বহু গান ও কবিতা রচনা করেন।

১৯১২ সালে কবির পঞ্চাশ বছর পূর্তি উপলক্ষে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ তাঁকে সংবর্ধনা দেয় ।

তিনি ১৯১২ সালের ২৮ জানুয়ারি পুত্র ও পুত্রবধূসহ ইংল্যান্ড গমনকালে পথিমধ্যে জাহাজেই “গীতাঞ্জলি’ ও ‘খেয়া”, নৈবদ্য’, ‘শিশু’ প্রভৃতি কাব্য থেকে কিছু কবিতা ইংরেজিতে অনুবাদ করেন। এই কবিতাগুলোই 'The Song Offerings' নামে ১৯১২ সালের নবেম্বরে বিলেতে প্রকাশিত হয়। এই বইয়ের ভূমিকা লিখে দেন শ্রেষ্ঠ ইংরেজ কবি ডব্লিউ. বি. ইয়েটস। এই গ্ৰন্থই ১৯১৩ সালে কবিকে এনে দেয় তাঁর কবি প্রতিভার স্বীকৃতিস্বরূপ নোবেল পুরস্কার।

কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ১৯১৩ সালের ২৬ ডিসেম্বর কবিকে ডি-লিট” উপাধি প্ৰদান করে। ব্রিটিশ সরকার তাকে ‘নাইটহুড’ বা ‘স্যার” উপাধি দান করেন ১৯১৫ সালের ২ জুন |

 নোবেল পুরস্কার প্রাপ্তির পাঁচমাস পর প্রমথ চৌধুরী সম্পাদিত মাসিক "সবুজপত্র’ (১৯১৪ সালের মে মাসে) প্রকাশের পর রবীন্দ্রনাথের গদ্য রচনা নতুন মোড় নেয়। এই পত্রিকাতে তাঁর প্রায় একই সঙ্গে ছোটগল্পসহ ‘চতুরঙ্গ’ এবং ‘ঘরে-বাইরে’ উপন্যাস দুটো ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হতে থাকে (১৯১৪-১৯১৬)। এতে 'বলাকা’ নামের তার ভিন্ন স্বাদের কাব্যগ্রন্থের বহু কবিতাও এই সময় (১৯১৬) “সবুজপত্রে’ প্রকাশিত হয়।

১৯১৬ সালে রবীন্দ্রনাথ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফরের আমন্ত্রণ পান এবং সেটা রক্ষা করতে যাওয়ার পথে জাপান সফর করেন এবং সেখানে প্রদত্ত ভাষণে তিনি উগ্র জাতীয়তাবাদের বিরুদ্ধে তার মনোভাব প্রকাশ করেন।

 ১৯১৮ সালে কবির প্রথম কন্যা মাধুরীলতার অকাল মৃত্যুতে রচিত হয় কবির 'পলাতকা” কাব্যের কবিতাসমূহ। তিনি পাঞ্জাবের অমৃতসরে জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে তার পাওয়া ‘স্যার” উপাধি বর্জনের কথা ঘোষণা করে বড়লাটকে পত্র দেন। পত্রটি পরে (১৯১৯ সালের ২ জুন) প্রকাশিত হয়েছিল।

তিনি ১৯২০ সালের মে মাস থেকে ১৯২১ সাল পর্যন্ত দেশের বাইরে ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, বেলজিয়াম, জার্মানি, হল্যান্ড, সুইডেন, ডেনমার্ক, নরওয়ে, অস্ট্রিয়া, চেকোগ্রাভাকিয়া ভ্ৰমণ করেন এবং ওইসব দেশের জ্ঞানীগুণী ব্যক্তিবর্গের সমাবেশে ভাষণ দেন। তিনি স্বদেশে ফিরে ১৯২১ সালের ২৩ ডিসেম্বর বিশ্বভারতী পরিষদ গঠন করে বিশ্বভারতীকে সর্বসাধারণের হাতে তুলে দেন।

কবি ইউরোপের সংকীর্ণ জাতীয়তাবাদ ও মাত্রাতিরিক্ত বাস্তবতাবাদের সংকট দেখানোর জন্য ১৯২২ সালে মুক্তধারা’ এবং ‘রক্তকরবী’ (১৯২৬) নাটক দুটো রচনা করেন। ১৯২৪ সালে তিনি চীন সফর করেন। তারপর দক্ষিণ আমেরিকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। শারীরিক অসুস্থতার জন্য তিনি আর্জেন্টিনায় গিয়ে হিস্পানি কবি-সম্পাদিক ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোর বাগান বাড়িতে বেশ কিছুদিন অবস্থান করেন এবং সেখানেই লেখা হতে থাকে ‘পূরবী”-র (১৯২৫) কবিতাগুচ্ছ। ওকাম্পোর নাম দিয়েছিলেন তিনি “বিজয়া”। “পূরবী’ কাব্যগ্রন্থ তাকেই উৎসর্গ করা হয়।

১৯২৬ সালে তিনি মুসোলিনির আমন্ত্রণে ইতালি সফর করেন। সেখান থেকে ফ্রান্স, ইংল্যান্ড, অস্ট্রিয়া, জার্মান, নরওয়ে, সুইডেন, ডেনমার্ক, বুলগেরিয়া, রুমানিয়া, গ্রিস ও মিশর সফর করেন। ১৯২৭ সালে তিনি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশসমূহ সফর করেন। ১৯২৯ সালে কানাডা, জাপান এবং ইন্দোনেশিয়া সফর করেন। এ-বছরই (১৯২৯) কবির উপন্যাস “শেষের কবিতা’ ও ‘যোগাযোগ’ প্ৰকাশিত হয়।

১৯৩০ সালে তিনি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে 'হিবাৰ্ট বক্তৃতা’ প্রদানের জন্য বিলেত গমন করেন । এটাই ছিল তার সর্বশেষ ইউরোপ ভ্ৰমণ। ১৯৩২ সালে ইরানের রাজা রেজা শাহ পাহলভীর আমন্ত্রণে তিনি ইরান এবং ইরাক সফর করেন।

১৯৩৫ সালে কাশী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কবিকে ডি-লিট দেয়া হয়। ১৯৩৬ সালের জুলাই মাসে কবিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও দেয়া হয় ডি-লিট উপাধি।

১৯৩৭ সালে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং তাঁর শরীরের ভাঙন শুরু হয়ে যায়। এবছরই বের হয় তার “খাপছাড়া’ ও ‘ছড়ার ছবি', প্ৰবন্ধ গ্রন্থ “কালান্তর’ ও বিজ্ঞান বিষয়ক গ্রন্থ ‘বিশ্ব-পরিচয়”।

১৯৪০ সালে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় কবিকে ডি-লিট উপাধি দেয়। এই অসুখের মধ্যেও তার লেখা থেমে থাকেনি। একের পর এক প্ৰকাশিত হয় তার ‘রোগশয্যায়” (১৯৪০), ‘আরোগ্য’ (১৯৪১), "জন্মদিনে’ (১৯৪১) এবং মুত্যুর পর প্রকাশিত হয় তার 'ছড়া’ ও ‘শেষ লেখা”।

১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (১৩৪৮ বঙ্গাব্দের ২২ শ্রাবণ) তারিখে জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়িতে বিশ্বকবির মহাপ্রয়াণ ঘটে। ২৫ বৈশাখের সূর্য অস্তমিত হয় ২২ শ্রাবণের নিস্তব্ধ সন্ধ্যায়।

রবীন্দ্রনাথের গ্রন্থসমূহের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি হলো : কাব্যগ্রন্থ ৫৬, গীতিপুস্তক ৪, ছোটগল্প ১১৯, উপন্যাস ১২, ভ্রমণকাহিনী ৯, নাটক ২৯, কাব্যনাট্য ১৯, চিঠিপত্রের বই ১৩, গানের সংখ্যা ২২৩২টি এবং অঙ্কিত চিত্রাবলির সংখ্যা প্রায় দু-হাজার।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ হলো : 'সোনার তরী’ (১৮৯৪), ‘চিত্রা’ (১৮৯৬), চৈতালি’ (১৩০৩ বঙ্গাব্দ), ‘কল্পনা’ (১৯০০), ‘ক্ষণিকা’ (১৯০০), ‘গীতাঞ্জলি’ (১৯১০), "বলাকা’ (১৯১৫), ‘পূরবী’ (১৯২৫), ‘পুনশ্চ’ (১৯৩২) “পত্রপুট’ (১৯৩৬) ও ‘সেজুতি’ (১৯৩৮)।

উপন্যাস : “গোরা’ (১৯১০), 'চতুরঙ্গ’ (১৯১৬), ‘ঘরে বাইরে’ (১৯১৬), ‘শেষের কবিতা’ (১৯২৯) ও 'চার অধ্যায়’ (১৯৩৪)।

ছোটগল্প : “গল্পগুচ্ছ’।

নাটক : 'চিত্রাঙ্গদা’ (১২৯৯), ‘প্ৰায়শ্চিত্ত’ (১৯০৯), ‘রাজা’ (১৯১০), ‘অচলায়তন’ (১৯১১), ‘ডাকঘর’ (১৯১২), ‘রক্তকবরী’ (১৯২৪), ‘তাসের দেশ’ (১৯৩৩) ও চন্ডালিকা (১৯৩৩)।   

প্ৰবন্ধ : “বিচিত্র প্রবন্ধ’ (১৯০৭), ‘শিক্ষা” (১৯০৮), ‘শব্দতত্ত্ব’ (১৯০৯), ‘কালান্তর’ (১৯৩৭), "সভ্যতার সংকট' (১৯৪১) ও মানুষের ধর্ম’ ।

ভ্রমণকাহিনী : “য়ুরোপ প্রবাসীর পত্র’ (১৮৮১), রাশিয়ার চিঠি’ (১৯১৯), ‘পারস্যে’ (১৯১৯) ও ‘জাপান যাত্রী’ (১৯৩১)।

আত্মজীবনী : 'জীবনস্মৃতি’ (১৯১২)।

জীবনী : 'চরিত্রপূজা’ (১৯০৭)।

পত্র-সাহিত্য : 'ছিন্নপত্র’ (১৩১৯ বঙ্গাব্দ)।

গানের সঙ্কলন : ‘গীতবিতান’ ।

রবীন্দ্রনাথ ছিলেন বাঙালি সত্তার এক মূর্ত প্রতীক। বৈদিক ঋষির মতো ছিল তাঁর  প্রাজ্ঞ দৃষ্টি, বাল্ল্মীকি-কালিদাসের মতো ছিলো তার কবিহৃদয়, আর ছিল গ্যেটে-তলস্তয়ের মতো গভীর সমাজচেতনা। সুন্দরের আরাধনায়, মানবতার পূজায় তিনি তার সমগ্র সাহিত্যকর্মকে করেছেন সঞ্জীবিত। তাই রবীন্দ্রনাথ শুধু ব্যক্তিবিশেষ মাত্র নন, তিনি সকল দেশের, সকল কালের এবং সকল মানুষের তীর্থভূমি।

 

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান BANGLADESH ICON আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ আতিউর রহমান বেগম রোকেয়া মোস্তাফা জব্বার ভাষা শহিদ সজীব ওয়াজেদ জয় তাজউদ্দীন আহমদ শেরে বাংলা ফজলুল হক মাওলানা ভাসানী  প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার বেগম সুফিয়া কামাল শেখ হাসিনা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হোসেন শহিদ সোহরাওয়ার্দি কাজী নজরুল ইসলাম মাস্টারদা সূৰ্য সেন ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ মণি সিংহ স্যার ফজলে হাসান আবেদ  সালমান এফ রহমান সুফী মুহাম্মদ মিজানুর রহমান মোরশেদ আলম এমপি সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী আহমেদ আকবর সোবহান জয়নুল হক সিকদার দীন মোহাম্মদ আজম জে. চৌধুরী প্রফেসর মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন সাইফুল আলম মাসুদ আলহাজ্ব এম এম এনামুল হক খলিলুর রহমান এ কে এম রহমত উল্লাহ্ ইফতেখার আহমেদ টিপু শেখ কবির হোসেন এ কে আজাদ ডাঃ মোমেনুল হক আলহাজ্ব মোঃ হারুন-উর-রশীদ কাজী সিরাজুল ইসলাম নাছির ইউ. মাহমুদ ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল আজিজ শেখ ফজলে ফাহিম প্রফেসর ড. কবির হোসেন তালুকদার মোঃ হাবিব উল্লাহ ডন রূপালী চৌধুরী হেলেন আখতার নাসরীন মনোয়ারা হাকিম আলী নাসরিন সরওয়ার মেঘলা প্রীতি চক্রবর্তী মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির ক্যাপ্টেন তাসবীরুল আহমেদ চৌধুরী এহসানুল হাবিব আলহাজ্জ্ব জাহাঙ্গীর আলম সরকার আলহাজ্ব খন্দকার রুহুল আমিন তানভীর আহমেদ ড. বেলাল উদ্দিন আহমদ মোঃ শফিকুর রহমান সেলিম রহমান মাফিজ আহমেদ ভূঁইয়া  মোঃ ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ  শহিদ রেজা আব্দুর রউফ জেপি এডভোকেট ইকবাল আহমদ চৌধুরী এ কে এম সরওয়ারদি চৌধুরী ড. এম. মোশাররফ হোসেন মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন লায়ন মোঃ মোজাম্মেল হক ভূঁইয়া মোঃ মিজানুর রহমান সায়েম সোবহান আনভীর মামুন-উর-রশিদ বি এম ইউসুফ আলী মোঃ জামিরুল ইসলাম ডক্টর হেমায়েত হোসেন মোঃ শাহ আলম সরকার ফারজানা চৌধুরী এম. সামসুজ্জামান মেজর পারভেজ হাসান (অব.) এম এ মতিন সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল মাসুদ পারভেজ খান ইমরান ড. এম এ ইউসুফ খান কাজী সাজেদুর রহমান ড. হাকীম মোঃ ইউছুফ হারুন ভূঁইয়া আলহাজ্ব মীর শাহাবুদ্দীন মোঃ মুনতাকিম আশরাফ (টিটু) মোঃ আবদুর রউফ কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ আব্দুল মাতলুব আহমাদ মোঃ মজিবর রহমান মোহাম্মদ নূর আলী সাখাওয়াত আবু খায়ের মোহাম্মদ আফতাব-উল ইসলাম মোঃ সিরাজুল ইসলাম মোল্লা এমপি প্রফেসর ড. আবু ইউসুফ মোঃ আব্দুল্লাহ মোঃ জসিম উদ্দিন বেনজীর আহমেদ মিসেস তাহেরা আক্তার পারভীন হক সিকদার নাসির এ চৌধুরী হাফিজুর রহমান খান ড. মোহাম্মদ ফারুক কাইউম রেজা চৌধুরী মোঃ সবুর খান মাহবুবুল আলম মোঃ হেলাল মিয়া সেলিমা আহমাদ নজরুল ইসলাম ড. এ এস এম বদরুদ্দোজা ড. হায়দার আলী মিয়া ইঞ্জিনিয়ার গুলজার রহমান এম জামালউদ্দিন মোঃ আব্দুল হামিদ মিয়া মোঃ হাবিবুর রহমান মোঃ মুহিব্বুর রহমান চৌধুরী মোহাম্মদ নুরুল আমিন জিয়াউর রহমান ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী শ্যামল দত্ত জ ই মামুন আনিসুল হক সামিয়া রহমান মুন্নি সাহা আব্বাসউদ্দীন আহমদ নীলুফার ইয়াসমীন ফিরোজা বেগম শাহ আব্দুল করিম ফরিদা পারভীন সরদার ফজলুল করিম আনিসুজ্জামান আখতারুজ্জামান ইলিয়াস হুমায়ূন আহমেদ সেলিম আল দীন জহির রায়হান বুলবুল আহমেদ রওশন জামিল সৈয়দ হাসান ইমাম হেলেনা জাহাঙ্গীর অঞ্জন রায় অধ্যক্ষ আব্দুল আহাদ চৌধুরী অধ্যাপক আবু আহমেদ অধ্যাপক  আবু সাইয়িদ অধ্যাপক আমেনা মহসীন অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ অধ্যাপক জয়নাল আবদিন এমপি অধ্যাপক ড. আরিফুর রহমান অধ্যাপক ড. আব্দুল মতিন পাটোয়ারী অধ্যাপক ড. ইজাজ হোসেন অধ্যাপক ড. এ কে আজাদ চৌধুরী অধ্যাপক ড. এ কে আব্দুল মোমেন অধ্যাপক ড. এম এ মান্নান অধ্যাপক ড. এম এ হাকিম অধ্যাপক ড. এম শমসের আলী অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী অধ্যাপক ড. শাহেদা ওবায়েদ অধ্যাপক ড. সদরুল আমিন অধ্যাপক ড. হাফিজ জি. এ. সিদ্দিকী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন অধ্যাপক তৌহিদুল আলম অধ্যাপক ডা. বরেন চক্রবর্তী অধ্যাপক ডা. মতিউর রহমান অধ্যাপক ডা. মোঃ শারফুদ্দিন আহমেদ অধ্যাপক ডা. মোঃ হাবিবে মিল্লাত এমপি অধ্যাপক মেহতাব খানম অধ্যাপিকা অপু উকিল এমপি অধ্যাপক ড. হোসনে আরা বেগম আইয়ুব বাচ্চু আ খ ম জাহাঙ্গীর হোসাইন আনিস এ. খান আনোয়ার উল আলম চৌধুরী পারভেজ আনোয়ার হোসেন মঞ্জু আবদুল বাসেত মজুমদার আবু সাঈদ খান আবুল কাশেম মোঃ শিরিন আবুল কাসেম হায়দার আবুল মাল আব্দুল মুহিত আব্দুল আউয়াল মিন্টু আব্দুল মতিন খসরু এমপি আবদুল মুকতাদির আব্দুল মুয়ীদ চৌধুরী আব্দুস সালাম মুর্শেদী আমির আমির হোসেন আমু এমপি আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী আয়শা খানম আ স ম আবদুর রব আ স ম ফিরোজ আসাদুজ্জামান খান কামাল আসিফ ইব্রাহীম আলী রেজা ইফতেখার আ হ ম মুস্তফা কামাল এমপি ইউসুফ আব্দুল্লাহ হারুন ইনায়েতুর রহিম ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক এমপি ইঞ্জিনিয়ার নুরুল আকতার ইমদাদুল হক মিলন উপধ্যক্ষ মোঃ আব্দুস শহীদ এমপি এ এইচ এম নোমান এ এইছ আসলাম সানি এ কে ফাইয়াজুল হক রাজু এডভোকেট তানবীর সিদ্দিকী এডভোকেট ফজিলাতুন নেসা বাপ্পি এমপি এডভোকেট মোঃ ফজলে রাব্বী এমপি এনাম আলী এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার এমপি এম এ সবুর এম নাছের রহমান এয়ার কমডোর ইসফাক এলাহী চৌধুরী (অব.) এস এম ফজলুল হক ওয়াহিদা বানু কবরী সারোয়ার কাজী ফিরোজ রশীদ কেকা ফেরদৌসী কে. মাহমুদ সাত্তার খন্দকার রুহুল আমিন খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ খালেদ মুহিউদ্দীন খুশি কবির জুনাইদ আহমেদ পলক জোবেরা লিনু টিপু মুন্সী ড. আবুল বারকাত ড. কাজী কামাল আহমদ ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ ড. তৌফিক এম. সেরাজ ড. বদিউল আলম মজুমদার ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন ড. সাজ্জাদ জহির ড. সা’দত হুসাইন মেজর জেনারেল সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহীম (অব.) বীর প্রতীক মেজর জেনারেল হেলাল মোর্শেদ খান (অব.) বীর বিক্রম মেহের আফরোজ চুমকি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ মিথিলা ফারজানা মীর নাসির হোসেন মীর মাসরুর জামান মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন মীর শওকাত আলী বাদশা মুনিরা খান মুহাম্মদ আজিজ খান মোহাম্মদ নূর আলী মোঃ গোলাম মাওলা রনি এমপি মোঃ জসিম উদ্দিন মসিউর রহমান রাঙ্গা রাশেদ খান মেনন রাশেদা কে চৌধুরী লে. কর্ণেল মোঃ ফারুক খান (অব.) শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি শাইখ সিরাজ শাওন মাহমুদ শাজাহান খান এমপি শামসুজ্জামান খান শাহীন আনাম শারমীন মুরশিদ শুভ্র দেব শিবলী মোহাম্মদ শিরীন আখতার সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন সাঈদ খোকন সাকিব আল হাসান সাগুফতা ইয়াসমিন এমেলী সাব্বির হাসান নাসির সালমা খান সালাউদ্দিন কাশেম খান সিগমা হুদা সিলভীয়া পারভীন লিনি সুকুমার রঞ্জন ঘোষ সুরাইয়া জান্নাত সুলতানা কামাল সৈয়দ আখতার মাহমুদ সৈয়দ আবুল মকসুদ সৈয়দ মার্গুব মোর্শেদ সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান হাসানুল হক ইনু ড. সিনহা এম এ সাঈদ অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন ড. হামিদুল হক ড. হোসেন জিল্লুর রহমান ড. হোসেন মনসুর ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী ডা. অরূপরতন চৌধুরী ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী ডা. জাফরুল্লাহ্ চৌধুরী ডা. জোনাইদ শফিক ডা. মোঃ আব্দুল মতিন ডা. লুৎফর রহমান ডা. সরদার এ নাঈম ডা. সাঈদ আহমেদ সিদ্দিকী ডা. সামন্ত লাল সেন তোফায়েল আহমেদ তালেয়া রেহমান দিলরুবা হায়দার নজরুল ইসলাম খান নজরুল ইসলাম বাবু নবনীতা চৌধুরী নাঈমুর ইসলাম খান নমিতা ঘোষ নাঈমুর রহমান দূর্জয় নাসরীন আওয়াল মিন্টু নুরুল ইসলাম সুজন এমপি নুরুল কবীর নিলোফার চৌধুরী মনি এমপি প্রকোশলী তানভিরুল হক প্রবাল প্রফেসর মেরিনা জাহান ফকির আলমগীর ফরিদ আহমেদ বেগম মতিয়া চৌধুরী বিগ্রেডিয়ার জেনারেল এম সাখাওয়াত হোসেন (অব.) ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ব্যারিস্টার আমীর-উল ইসলাম ব্যারিস্টার তানিয়া আমীর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা ব্যারিস্টার সারা হোসেন ভেলরি এ টেইলর মতিউর রহমান চৌধুরী মনজিল মোরসেদ মমতাজ বেগম এমপি মামুন রশীদ মাহফুজ আনাম মাহফুজ উল্লাহ