Bangladesh Icon
আইকন সংবাদ:

সৈয়দ হাসান ইমাম

অভিনেতা ও চলচ্চিত্র নির্মাতা


সালটা ১৯৪২। বর্ধমানের টাউন স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠান। বিভিন্ন খেলাধুলা চলছে। ছোটদের গ্রুপের একটি খেলায় প্রথম হলো তৃতীয় শ্রেণীর ছয়-সাত বছরের একটা ছেলে। বড়দের গ্রুপে প্রথম হয় দশম শ্রেণীর ছাত্র ধীরেন। এখন পুরস্কার নেবার পালা। প্রধান অতিথি, ইংরেজ ম্যাজিষ্ট্রেট বেল সাহেব এলেন তার স্ত্রীকে সাথে নিয়ে। তিনি, স্কুলের প্রধান শিক্ষকসহ অন্যান্য শিক্ষকরা সবাই উপস্থিত। অধীর আগ্রহে ছাত্ররা মাঠে বসে অপেক্ষা করছে। হঠাৎ ধীরেন সবার কানে কানে বলল, “ যখন আমাকে পুরস্কার নিতে ডাকবে তখন আমি দাঁড়িয়ে বলব, কোন ইংরেজের কাছ থেকে আমরা পুরস্কার নেব না। এই বলে আমি হাঁটা দেব, তোরাও আমার সঙ্গে সঙ্গে চলে আসবি।” ধীরেনের কথা অনুযায়ী সবাই তার পিছু পিছু চলে গেল। শুরু হলো হুলস্থুল। তাদের স্কুল থেকে বের করে দেওয়া হবে ঘটনা এমন একটা পর্যায়ে গিয়ে দাঁড়ালো। পরে অবশ্য তাদের আর বের করে দেয়া হয়নি। সেভাবেই সেই সময়ে ইংরেজবিরোধী আন্দোলনে যুক্ত হওয়া ছয়-সাত বছরের ছেলেটি - সৈয়দ হাসান ইমাম । তিনি বাংলাদেশের একজন অন্যতম অভিনেতা ও পরিচালক। স্বৈরাচার ও সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী আন্দোলনসহ যেকোন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন তিনি।
সৈয়দ হাসান ইমাম এর জন্ম ১৯৩৫ সালের ২৭ জুলাই ভারতের বর্ধমানে, তাঁর নানাবাড়ীতে। বাগেরহাটে হযরত খান জাহান আলী মাজারের কাছেই রণ বিজয়পুকুর তাঁর দাদাবাড়ী । বাগেরহাট শহরে তাঁদের একশো বছরের পুরনো বাড়ি। পাঁচ পুরুষ ধরে তাঁরা থাকতেন সেখানে। দাদা খান বাহাদুর সুলতান আলী পেশায় একজন আইনজীবি ছিলেন এবং রাজনীতিও করতেন। তিনি শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের বন্ধু ছিলেন এবং তাঁর সাথে “কৃষক প্রজা পার্টি” করতেন। পরে তিনি ফজলুল হক সাহেবের সাথে মুসলীম লীগে যোগ দেন। তিনি যুক্ত বাংলার মেম্বার অফ দ্যা লেজিসলেটিভ আ্যসেম্বলীর সদস্য ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি রাজনীতি ছেড়ে বাগেরহাট বারে প্রাকটিস করেন এবং কয়েকবার তিনি বারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন। হাসান ইমাম-এর বাবা সৈয়দ সোলায়মান আলী একজন ইনকাম ট্যাক্স অফিসার ছিলেন। মাত্র দু’বছর বয়সে বাবাকে হারান হাসান ইমাম। একুশ বছর বয়সে তাঁর মা সৈয়দা সঈদা খাতুন বিধবা হন। হাসান ইমামরা ছিলেন দুই ভাই। বড় ভাই সৈয়দ আলী ইমাম। তাঁদের বাবার শেষ ইচ্ছানুযায়ী তাঁর মা দুই ছেলেকে নিয়ে তাঁর বাবার বাড়ি বর্ধমান চলে যান। কারণ সেখানে লেখাপড়ার পরিবেশ ভাল ছিল। বর্ধমানের পার্কার রোডের দুই নম্বর বাড়িটি ছিল তাঁর নানারবাড়ী। তাঁর নানা আবুল হাশিম মুসলিম লীগের সম্পাদক ছিলেন। তাঁর নানাবাড়ীর সবাই প্রায় পাঁচ পুরুষ ধরে রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। তাঁরা সংস্কৃতিমনা ও প্রগতিশীল ছিলেন। মামারা কমিউনিস্ট পার্টি করতেন। বড়মামা সৈয়দ শহীদুল্লাহ্ বর্ধমান জেলার কমিউনিষ্ট পার্টির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। পরে তিনি সিপিআইএমের এমপি হয়েছিলেন। মেজমামা মনসুর হাবিবুল্লাহ তেভাগা আন্দোলনের সময় কৃষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি পশ্চিম বঙ্গ আ্যসেম্বলীর স্পীকার হন। বাড়িটি পরে তাঁরা সিপিআইএম-কে দিয়ে দেন।

হাসান ইমাম ছয় বছর বয়সে বর্ধমান টাউন স্কুলে ক্লাস থ্রিতে ভর্তি হন। এই টাউন স্কুল থেকে তিনি ১৯৫২ সালে এস.এস.সি. পাস করেন। এরপর বর্ধমানের রাজ কলেজ থেকে ১৯৫৪ সালে এইচ. এস. সি. পড়ার শেষে তিনি বর্ধমানে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ভর্তি হন। সেখানে তিনি মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং-এ পড়াশুনা করেন। সেসময় তিনি পশ্চিম বঙ্গের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং আ্যসোসিয়েশনের জেনারেল সেক্রেটারী নির্বাচিত হন। তিনি আন্দোলন করে প্রথম কনডেন্স কোর্স চালু করেন। সেসময় ডিপ্লোমা পড়া শেষ করে ডিগ্রী পড়ার জন্য আবার পুরোটাই পড়তে হত। হাসান ইমামই প্রথম আন্দোলন করে দুই বছর কম পড়ার অনুমোদন পান। এটাই কনডেন্স কোর্স। পড়াশুনা শেষ করে ১৯৫৭ সালের ফেব্রুয়ারির ২ তারিখে বর্ধমান থেকে দেশে ফিরেন।

পূর্ব পাকিস্তানে এসে ১৯৫৭ সালে তিনি প্রথমে দর্শনা সুগারমিলে নয় মাস চাকুরী করেন। দর্শনা সুগার মিলে চাকুরীরত অবস্থায় তিনি একবার ঢাকায় আসেন। বঙ্গবন্ধু তখন আওয়ামী লীগের মন্ত্রী ছিলেন। বঙ্গবন্ধুর এক বন্ধু নুরুদ্দীন সাহেব তখন পিরোজপুরের আওয়ামী লীগের এমপি, বড় ব্যবসায়ী এবং ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তানের বোর্ড অব ডিরেক্টরস্ এর মেম্বার ছিলেন। নুরুদ্দীন সাহেবের মেয়ের জন্মদিন। বঙ্গবন্ধুসহ অনেকেই সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে গান গাওয়ার জন্য হাসান ইমামকে নিয়ে যাওয়া হয়। নুরুদ্দীন সাহেব হাসান ইমামের গান শুনে মুগ্ধ হন এবং তাঁকে ঢাকায় একটা চাকরি দেয়ার জন্য রশিদ সাহেবকে বলেন। রশিদ সাহেব তখন ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তনের জোনাল ম্যানেজার ছিলেন। তিনি হাসান ইমামকে ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তানে চাকুরী দেন। এই ব্যাংকে চাকুরী পাওয়ার পর দর্শনা সুগার মিলে আর যাননি তিনি। ১৯৬৫ সালের দিকে হাসান ইমাম যখন ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে শ্রেষ্ঠ নায়ক হিসেবে পুরস্কার পান তখনও তিনি ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তানে চাকুরী করতেন কিন্ত অভিনয়ের জন্য ব্যাংকে নিয়মিত যেতে পারতেন না। কিছুদিন পর তিনি ব্যাংকের চাকুরী ছেড়ে দেন এবং চলচ্চিত্রে নিয়মিত হন।

হাসান ইমাম যখন বর্ধমান রাজ কলেজের ছাত্র তখন ছাত্র সংগঠন নির্বাচনে কংগ্রেসকে হারিয়ে বামপন্থীরা ক্যাবিনেট গঠন করেন। তুষার কাঞ্জিলাল দলের জেনারেল সেক্রেটারী এবং হাসান ইমাম কমনরুম সম্পাদক নিযুক্ত হন। দেখতে সুদর্শন হওয়ায় রাজ কলেজের বার্ষিক কালচারাল অনুষ্ঠানে সবাই হাসান ইমামকে নাটক করার জন্য অনুরোধ করেন। কিন্তু হাসান ইমাম বলেন, “আমি তো কখনো অভিনয় করিনি। গান, আবৃত্তি করেছি। আমি অভিনয় পারবনা।” সবাই বলেন, অসুবিধা নেই, তুই পারবি। হাসান ইমাম রাজী হন। তাঁকে মিসর কুমারী নামক নাটকে অভিনয় করতে বলা হয় । মজার ব্যাপার মিসর কুমারী নাটকে কেন্দ্রীয় চরিত্র মিসর কুমারী অর্থাৎ মেয়ের ভূমিকায় অভিনয় করতে হয় তাঁকে। কারণ তখন ছেলেমেয়েদের একসাথে নাটক করা নিষিদ্ধ ছিল, তাই তাঁকে মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করতে হয়। অন্য একটি দল “তাইতো” নামক একটি নাটক মঞ্চায়নের অনুমতি পেয়েছিল। সেই নাটকে হাসান ইমাম নায়কের চরিত্রে অভিনয় করেন। এভাবেই তার অভিনয় জীবনের শুরু বলা যায়। সেখানে তিনি একই রাতে প্রথমে “তাইতো” নাটকে নায়কের চরিত্রে এবং পরে “মিসর কুমারী” নাটকে নায়িকার চরিত্রে অভিনয় করেন। তখন থেকে তিনি অভিনয়ের মাধ্যমে বেশ পরিচিতি লাভ করেন।

১৯৫৮ সালের দিকে ঢাকায় ব্যাংকে চাকুরীর সুবাদে যখন স্থায়ী হন, তখন গেন্ডারিয়ায় ইসট্যান্ড ক্লাবে “বন্ধু” নামক একটি নাটকে নায়ক হিসেবে ঢাকায় প্রথম মঞ্চে অভিনয় করেন। বন্ধু নাটকের সংগীত পরিচালক শেখ লুৎফর রহমানের ছোট ভাই শেখ মহিতুল হক তাঁর অভিনয়ে আকৃষ্ট হয়ে তাঁর ভগ্নিপতি চলচ্চিত্র পরিচালক মহিউদ্দিন সাহেবের কাছে হাসান ইমামকে নিয়ে যান। তিনি তাঁকে দেখে ‘রাজা এল শহরে’ চলচ্চিত্রে তিন নায়কের এক নায়ক নির্বাচিত করেন। এরপর ‘জানাজানি’ ও ‘ধারাপাত’ নামক চলচ্চিত্রে চুক্তিবদ্ধ হন। এভাবে ১৯৬০ সালে তিনি একসাথে তিনটি চলচ্চিত্রে চুক্তিবদ্ধ হন। পরবর্তীতে তাঁর তৃতীয় চুক্তিবদ্ধ চলচ্চিত্রটি প্রথম রিলিজ হয় আর প্রথম চলচ্চিত্রটি রিলিজ হয় তৃতীয় চলচ্চিত্র হিসেবে। এছাড়া তাঁর উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রগুলি হলো- ‘সারেং বৌ’, ‘কাগজের নৌকা’, ‘আনারকলি’, ‘শীত বিকেল’, ‘মেঘলা আকাশ’, ‘মনের মানুষ’, ‘উজালা’ ইত্যাদি।

১৯৬১ সালে পৃথিবীব্যাপী রবীন্দ্রনাথের জন্ম শতবার্ষিকী উদযাপনের প্রস্তুতি চলছিল। তখন পাকিস্তান সরকার রবীন্দ্রচর্চা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল। হাসান ইমামরা সরকারের বিপরীতে রবীন্দ্রনাথের জন্ম শতবার্ষিকী পালন করেন। তিনি ড্রামা সার্কেল প্রযোজিত ‘তাসের দেশ’, ‘রাজা ও রানী’ এবং ‘রক্তকরবী’ নাটকে প্রধান চরিত্রে মঞ্চে অভিনয় করেন এবং গানের অনুষ্ঠানে গানও করেন। ১৯৬৫ সালে ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে খান আতাউর রহমানের ‘অনেক দিনের চেনা’ নামক চলচ্চিত্রের জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হিসেবে পুরস্কার পান তিনি। ১৯৬৯ সালে মস্কোতে আর্ন্তজাতিক চলচ্চিত্র ফেস্টিভ্যালে হাসান ইমাম অভিনীত চলচ্চিত্র ‘সোঁয়ে নদীয়া জাগে পানি’ পাকিস্তান থেকে প্রতিনিধিত্ব করে এবং এক ভোটের জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হতে পারেননি।

১৯৬৬ থেকে ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ পূর্ব সময়ে তিনি প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠন ও রাজনৈতিক দলের মঞ্চে নাটক-নাটিকা ও গণসঙ্গীত পরিচালনা করেন। হাসান ইমাম পরিচালিত নাটকগুলোর মধ্যে রবীন্দ্রনাথের ‘রক্তকরবী’, ম্যাক্সিম গোর্কীর ‘মা’, সোমেন চন্দের ‘না’ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। ১৯৬৯-এর গণ আন্দোলনের সময় প্রায় ১০ হাজার মানুষের উপস্থিতিতে বাংলা একাডেমীর বটমূলে মঞ্চায়িত সংস্কৃতি সংসদ আয়োাজিত রক্তকরবী নাটকটি বিপুল সাড়া জাগিয়েছিল।

১৯৬৪ সালে বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনের জন্মলগ্ন থেকেই তিনি নিয়মিত নাটক করেন। টেলিভিশনে তাঁর অভিনীত দেড়শতাধিক নাটকের মধ্যে উল্লেখযোগ্য নাটকগুলো হলো- মুস্তফা মনোয়াার নির্দেশিত শেক্সপিয়ারের ‘মুখরা রমণী বশীকরণ’, রবীন্দ্রনাথের ‘রক্তকরবী’, মোস্তফা কামাল প্রযোজিত ‘স্বপ্ন বিলাস’, ‘দম্পতি’, ‘এত আলো এত ছায়া’ ইত্যাদি।

হাসান ইমাম খুব ভাল গান গাইতেন। মাত্র এক বছর তিনি শুধাংশু বাবুর কাছে উচ্চাঙ্গ সংগীতের তালিম নেন। বর্ধমানে তিনি বিভিন্ন মঞ্চে সংগীত পরিবেশন করতেন এবং আবৃত্তি করতেন। ১৯৫২ সালে অনুষ্ঠিত ‘অল ইন্ডিয়া ইয়ুথ ফেস্টিভ্যাল’-এ রবীন্দ্র সংগীতে প্রথম স্থান অধিকার করেছিলেন। ১৯৫৫ সালে কলেজের অনুষ্ঠানে তাঁর গান শুনে দ্বিজেন মুখোপাধ্যায় তাঁকে বিনা পারিশ্রমিকে গান শেখানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। গলায় ফেনিনজাইটিস হওয়ার কারণে গানটা আর পেশা হিসেবে নেননি তিনি।

ছেলেবেলা থেকেই হাসান ইমাম খেলাধুলায় বেশ ভাল ছিলেন। তার প্রিয় খেলা ছিল ক্রিকেট ও ফুটবল। তিনি স্কুলে, জেলায়, এবং প্রদেশের হয়ে ক্রিকেট খেলতেন। তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় টিমের ওপেনিং ব্যাটসম্যান ও উইকেটকিপার হিসেবে খেলেছেন। তিনি চুনী গোস্বামী ও পিকে ব্যানার্জির মতো নামকরা খেলোয়াড়দের সাথে ফুটবল খেলতেন। একবার ফুটবল খেলতে গিয়ে তার পায়ের লিগামেন্ট ছিঁড়ে যায়। তারপর থেকে আর ফুটবল খেলতে পারেননি। তিনি চাইলে একজন ভাল ক্রিকেটারও হতে পারতেন।

বর্ধমানে হাসান ইমামের নানাবাড়িতে রাজনৈতিক নেতাদের আসা-যাওয়া ছিল নিয়মিত। কারণ বাড়িটি ছিল তৎকালীন রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু। তাঁর মেজোমামা কৃষকদের অধিকার রক্ষার আন্দোলন করতে গিয়ে ধরা পড়েন ও রাজশাহী জেলের খাপড়া ওয়ার্ডে গুলি খান। ছেলেবেলায় এবিষয়গুলো তাঁকে বেশ প্রভাবিত করেছে। ১৯৪৮ সালে যখন কংগ্রেস গভর্নমেন্ট কমিউনিস্ট পার্টি নিষিদ্ধ করে তখন তাঁর মামা-মামী ও বড় ভাই আন্ডারগ্রাউন্ডে চলে যান। হাসান ইমামের বয়স তখন মাত্র তের-চৌদ্দ বছর। এই কিশোরটিই তখন বাড়িতে একমাত্র পুরুষ মানুষ। কারো অসুখ হলে গভীর রাতে ডাক্তার ডেকে আনত, ঔষধ কিনে আন্ডারগ্রাউন্ডে পৌঁছে দিত। মাত্র তের বছর বয়সে বর্ধমান থেকে ট্রেনে চড়ে রাজশাহী জেলখানায় যেয়ে দরখাস্ত করে ঔষধ দিয়ে আবার ফিরে আসতেন। তাঁর মা খুব সাহসী ছিলেন। এসব কাজে কখনো বারণ করেননি। এভাবে বিশাল এক রাজনৈতিক পরিমন্ডলে তিনি বেড়ে ওঠেন। এই পরিবেশের গভীর প্রভাব তার মধ্যে পড়ে।

হাসান ইমাম ছাত্রজীবনে ছাত্র রাজনীতি করতেন। তিনি মানুষের পক্ষে সব আন্দোলনেই যুক্ত ছিলেন। এরপর ১৯৪৫-৪৬ সালে রেড ফোর্টে সুভাষ বসুর আইএনএ ফোর্স-এর বিচার বিরোধ আন্দোলনে অংশ নেন এবং মাত্র ১০-১১ বছর বয়সে ইংরেজদের লাঠিপেটা খান। স্কুলজীবনেই তিনি প্রত্যক্ষ করেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, ব্রিটিশ ভারত ছাড় আন্দোলন, দেশজুড়ে ইংরেজ শাসনের দমননীতি। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে তিনি যুক্ত হন স্কুলজীবনেই। কলেজে ভর্তি হয়েও রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন। তিনি ১৯৬৪ সালের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গাবিরোধী আন্দোলন ও ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থানে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। তাঁর চারজন শিষ্য পরবর্তীতে পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী হয়েছিলেন। তিনি দলীয় রাজনীতি করতেন না, জাতীয় রাজনীতি করতেন। কারণ তাঁর কোন আকাঙ্খা ছিল না। বঙ্গবন্ধু তাঁকে খুব ছোট বয়স থেকে চিনতেন। বঙ্গবন্ধু যখন ছাত্র রাজনীতি করতেন তখন বঙ্গবন্ধুদের নেতা ছিলেন হাসান ইমাম-এর নানা আবুল হাশিম। একারণে বঙ্গবন্ধু হাসান ইমামের নানা আবুল হাশিমের কাছে যেতেন এবং তখন থেকেই তিনি হাসান ইমামকে চিনতেন।

১৯৭১ সালে অসহযোগ আন্দোলনের সময় হাসান ইমাম বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে ‘বিক্ষুব্ধ শিল্পী সমাজ’ নামে শিল্পীদের একটি সংগঠন তৈরী করেন। সেখানে তিনি আহ্বায়ক ছিলেন। ‘বিক্ষুব্ধ শিল্পী সমাজ’ বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে পাকিস্তান বেতার ও টেলিভিশনের অনুষ্ঠান বর্জন করে। গণ আন্দোলনের চাপে পাকিস্তান সরকার ৮ মার্চ থেকে বেতার- টেলিভিশনের দায়িত্ব ‘বিক্ষুব্ধ শিল্পী সমাজ’-এর হাতে ছেড়ে দেয়। ফলে ‘বিক্ষুব্ধ শিল্পী সমাজ’ ৮ মার্চ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত সফলভাবে টেলিভিশনে দুর্দান্ত সব অনুষ্ঠান প্রচার করে। মুক্তিযুদ্ধের সময় হাসান ইমাম স্বাধীন বাংলা বেতারে সংবাদ পাঠ করেন এবং নাট্য বিভাগের দায়িত্ব পালন করেন। এসময় জহির রায়হানকে সভাপতি ও হাসান ইমামকে সাধারণ সম্পাদক করে মুজিবনগরে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী ও কলাকুশলী সমিতি গঠন করা হয়, যাদের উদ্যোগে মুক্তিযুদ্ধের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য চলচ্চিত্র দলিল ‘স্টপ জেনোসাইড’ ও মুক্তিযুদ্ধের অমূল্য চলচ্চিত্র দলিল প্রামাণ্য চিত্র নির্মিত হয়।

হাসান ইমাম শহীদজননী জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি গঠনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন। দীর্ঘ সময় বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীকে নেতৃত্ব দিয়েছেন সভাপতি হিসেবে। জাহানারা ইমামের মৃত্যুর পর বাংলাদেশের প্রধান মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও ঘাতক দালাল নির্মূল জাতীয় সমন্বয় কমিটির আহ্বায়কের দায়িত্ব পান হাসান ইমাম। মুক্তিযুদ্ধের পর সাংস্কৃতিক বিপ্লব ঘটানোর উদ্দেশ্যে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী প্রতিষ্ঠায় হাসান ইমাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সাংস্কৃতিক বিপ্লবের মাধ্যমে মানুষের মনোজগতের স্থায়ী পরিবর্তনের জন্য শিল্পকলা একাডেমী প্রতিষ্ঠা করা হয়। শিল্পীদের প্রথাগত উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে স্কলারশিপের ব্যাপারেও তাঁর অগ্রণী ভূমিকা ছিল।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে এবং জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধের দাবিতে হাসান ইমামের ভূমিকা ছিল দৃঢ়। স্বাধীনতা বিরোধী চক্র হাসান ইমামকে কয়েকবার হত্যার চেষ্টা করে। যশোরে উদীচীর অনুষ্ঠানে, পল্টনে কমিউনিস্ট পার্টির সভায় এবং ছায়ানটের পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানে বোমা হামলার সময় অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান তিনি। তখন মৌলবাদী প্রচার মাধ্যমগুলো নৃশংস এ বোমা হামলার জন্য তাঁকেই অভিযুক্ত করে মিথ্যা প্রচারণা চালাতে থাকে। ২০০১ সালে বিএনপি-জামাত জোট ক্ষমতায় আসার পর হাসান ইমামকে দেশত্যাগে বাধ্য করা হয়। তিনি ৭ বছর দেশের বাইরে ছিলেন। ২০০৮ সালের ডিসেম্বর মাসে তিনি আবার দেশে ফিরে আসেন। হাসান ইমাম টেলিভিশন নাট্যকার, নাট্যশিল্পী সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন সুদীর্ঘ ৩৮ বছর। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যা চক্রান্তের উপর নির্মিত আবদুল গাফফার চৌধুরী রচিত ‘পলাশী থেকে ধানমন্ডি’ পরিচালনার কাজেও তিনি নিয়োজিত ছিলেন। নাটকটি তাঁর নির্দেশনায় সফলভাবে মঞ্চায়িত হয় ২০০৪ সালের ২৮ মার্চ লন্ডনের লোগান হলে। পরে তাঁর পরিচালনায় নিউইয়র্কেও দুবার অভিনীত হয়।

হাসান ইমাম জনদরদী ও মানুষের জন্য নিবেদিত প্রাণ। ১৯৭০ সালে ১২ নভেম্বর যে জলোচ্ছ্বাস হয়, তাতে প্রায় ১০ লাখ মানুষ মারা যায়। হাসান ইমাম,ওয়াহিদুল হক এবং চিত্রশিল্পী কামরুল হাসানসহ অনেকে মিলে “দূর্যোগ নিরোধ আন্দোলন কমিটি” নামে একটি সংগঠন তৈরী করে জলোচ্ছ্বাস আক্রান্তদের রিলিফ দিয়ে সাহায্য করেন। পরে সরকারী অনুদানে পটুয়াখালীতে দুমাস থেকে তাঁরা আক্রান্তদের প্রায় চার হাজার বাড়ী বানিয়ে দেন। আশির দশকে দিনাজপুরে একবার বড় বন্যা হয়েছিল, সেখানেও ত্রাণকাজে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। তিনি সামাজিক সংকট নিবারণের কাজে কখনও পিছিয়ে থাকেননি।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কাল রাত্রির পর হাসান ইমাম ২৭ মার্চ সাভারের কাছে রাজফুলবাড়ীয়ায় তাঁর এক নানীর বাড়ীতে সপরিবারে আশ্রয় নেন। স্ত্রী, মা, ভাই এবং একমাত্র মেয়েকে রেখে মাগুরায় যেয়ে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন হাসান ইমাম। তিনি অস্ত্র যোগাড় করতে কলকাতায়ও গিয়েছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের পর ১৯৭১ সালে তাজউদ্দিন আহমদ যখন সরকার গঠন করেন তখন স্বাধীনবাংলা বেতার কেন্দ্রের নাট্য বিভাগের প্রধানের দায়িত্বে নিযুক্ত হন। মুক্তিযুদ্ধের সময় হাসান ইমাম মুজিবনগর স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে সালেহ আহমেদ নামে সংবাদ পাঠ করতেন।

সৈয়দ হাসান ইমাম ১৯৬৫ সালের ৩০ জুন নৃত্যশিল্পী লায়লা হাসানকে পারিবারিকভাবে বিয়ে করেন। লায়লা হাসান বাংলাদেশ জাতীয় নৃত্যশিল্পী সংস্থার সভাপতি, বাংলাদেশ টেলিভিশন আপীল বোর্ড এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য। বাংলাদেশের নৃত্যাঙ্গনে অবদানের জন্য ২০১০ সালে তাঁকে একুশে পদক প্রদান করা হয়। এই দম্পতির তিন সন্তান। বড় মেয়ে সৈয়দা তানজীনা ইমাম সঙ্গীতা ভিকারুননিসা নূন স্কুলে শিক্ষকতা করেন এবং সেই সঙ্গে ছোটদের নৃত্যের প্রশিক্ষণ দেন। মেজমেয়ে সৈয়দা রুমনাজ ইমাম রুমঝুম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন। বর্তমানে কানাডায় স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। ছেলে সবার ছোট। তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লেখাপড়া শেষ করে ওয়াশিংটনের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে খন্ডকালীন অধ্যাপনা করছেন এবং একটি কোম্পানীর আঞ্চলিক প্রধানের পদে চাকুরীরত আছেন।

সৈয়দ হাসান ইমাম শ্রেষ্ঠ অভিনেতা ও শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসাবে জাতীয় চলচ্চিত্র ও সাংবাদিক সমিতি পুরস্কার পান। মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদানের জন্য সিকোয়েন্স পুরস্কার লাভ করেন। ১৯৯৯ সালে তিনি একুশে পদক লাভ করেন। এছাড়া বহু জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কার লাভ করেন। ২০১৬ সালে তিনি বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সম্মান স্বাধীনতা পুরস্কার, ২০১৬ লাভ করেন।

হাসান ইমাম রবীন্দ্রনাথের চেতনায় বিশ্বাসী, রবীন্দ্রনাথ তাঁর জীবনাদর্শ। নতুনদের উদ্দেশ্যে রবীন্দ্রনাথের ভাষায় বলতে চান---“পুরানো জানিয়া চেয়োনা আমারে আধেক আঁখির কোণে অলস অন্যমনে।”

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান BANGLADESH ICON আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ আতিউর রহমান বেগম রোকেয়া মোস্তাফা জব্বার ভাষা শহিদ সজীব ওয়াজেদ জয় তাজউদ্দীন আহমদ শেরে বাংলা ফজলুল হক মাওলানা ভাসানী  প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার বেগম সুফিয়া কামাল শেখ হাসিনা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হোসেন শহিদ সোহরাওয়ার্দি কাজী নজরুল ইসলাম মাস্টারদা সূৰ্য সেন ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ মণি সিংহ স্যার ফজলে হাসান আবেদ  সালমান এফ রহমান সুফী মুহাম্মদ মিজানুর রহমান মোরশেদ আলম এমপি সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী আহমেদ আকবর সোবহান জয়নুল হক সিকদার দীন মোহাম্মদ আজম জে. চৌধুরী প্রফেসর মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন সাইফুল আলম মাসুদ আলহাজ্ব এম এম এনামুল হক খলিলুর রহমান এ কে এম রহমত উল্লাহ্ ইফতেখার আহমেদ টিপু শেখ কবির হোসেন এ কে আজাদ ডাঃ মোমেনুল হক আলহাজ্ব মোঃ হারুন-উর-রশীদ কাজী সিরাজুল ইসলাম নাছির ইউ. মাহমুদ ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল আজিজ শেখ ফজলে ফাহিম প্রফেসর ড. কবির হোসেন তালুকদার মোঃ হাবিব উল্লাহ ডন রূপালী চৌধুরী হেলেন আখতার নাসরীন মনোয়ারা হাকিম আলী নাসরিন সরওয়ার মেঘলা প্রীতি চক্রবর্তী মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির ক্যাপ্টেন তাসবীরুল আহমেদ চৌধুরী এহসানুল হাবিব আলহাজ্জ্ব জাহাঙ্গীর আলম সরকার আলহাজ্ব খন্দকার রুহুল আমিন তানভীর আহমেদ ড. বেলাল উদ্দিন আহমদ মোঃ শফিকুর রহমান সেলিম রহমান মাফিজ আহমেদ ভূঁইয়া  মোঃ ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ  শহিদ রেজা আব্দুর রউফ জেপি এডভোকেট ইকবাল আহমদ চৌধুরী এ কে এম সরওয়ারদি চৌধুরী ড. এম. মোশাররফ হোসেন মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন লায়ন মোঃ মোজাম্মেল হক ভূঁইয়া মোঃ মিজানুর রহমান সায়েম সোবহান আনভীর মামুন-উর-রশিদ বি এম ইউসুফ আলী মোঃ জামিরুল ইসলাম ডক্টর হেমায়েত হোসেন মোঃ শাহ আলম সরকার ফারজানা চৌধুরী এম. সামসুজ্জামান মেজর পারভেজ হাসান (অব.) এম এ মতিন সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল মাসুদ পারভেজ খান ইমরান ড. এম এ ইউসুফ খান কাজী সাজেদুর রহমান ড. হাকীম মোঃ ইউছুফ হারুন ভূঁইয়া আলহাজ্ব মীর শাহাবুদ্দীন মোঃ মুনতাকিম আশরাফ (টিটু) মোঃ আবদুর রউফ কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ আব্দুল মাতলুব আহমাদ মোঃ মজিবর রহমান মোহাম্মদ নূর আলী সাখাওয়াত আবু খায়ের মোহাম্মদ আফতাব-উল ইসলাম মোঃ সিরাজুল ইসলাম মোল্লা এমপি প্রফেসর ড. আবু ইউসুফ মোঃ আব্দুল্লাহ মোঃ জসিম উদ্দিন বেনজীর আহমেদ মিসেস তাহেরা আক্তার পারভীন হক সিকদার নাসির এ চৌধুরী হাফিজুর রহমান খান ড. মোহাম্মদ ফারুক কাইউম রেজা চৌধুরী মোঃ সবুর খান মাহবুবুল আলম মোঃ হেলাল মিয়া সেলিমা আহমাদ নজরুল ইসলাম ড. এ এস এম বদরুদ্দোজা ড. হায়দার আলী মিয়া ইঞ্জিনিয়ার গুলজার রহমান এম জামালউদ্দিন মোঃ আব্দুল হামিদ মিয়া মোঃ হাবিবুর রহমান মোঃ মুহিব্বুর রহমান চৌধুরী মোহাম্মদ নুরুল আমিন জিয়াউর রহমান ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী শ্যামল দত্ত জ ই মামুন আনিসুল হক সামিয়া রহমান মুন্নি সাহা আব্বাসউদ্দীন আহমদ নীলুফার ইয়াসমীন ফিরোজা বেগম শাহ আব্দুল করিম ফরিদা পারভীন সরদার ফজলুল করিম আনিসুজ্জামান আখতারুজ্জামান ইলিয়াস হুমায়ূন আহমেদ সেলিম আল দীন জহির রায়হান বুলবুল আহমেদ রওশন জামিল সৈয়দ হাসান ইমাম হেলেনা জাহাঙ্গীর অঞ্জন রায় অধ্যক্ষ আব্দুল আহাদ চৌধুরী অধ্যাপক আবু আহমেদ অধ্যাপক  আবু সাইয়িদ অধ্যাপক আমেনা মহসীন অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ অধ্যাপক জয়নাল আবদিন এমপি অধ্যাপক ড. আরিফুর রহমান অধ্যাপক ড. আব্দুল মতিন পাটোয়ারী অধ্যাপক ড. ইজাজ হোসেন অধ্যাপক ড. এ কে আজাদ চৌধুরী অধ্যাপক ড. এ কে আব্দুল মোমেন অধ্যাপক ড. এম এ মান্নান অধ্যাপক ড. এম এ হাকিম অধ্যাপক ড. এম শমসের আলী অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী অধ্যাপক ড. শাহেদা ওবায়েদ অধ্যাপক ড. সদরুল আমিন অধ্যাপক ড. হাফিজ জি. এ. সিদ্দিকী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন অধ্যাপক তৌহিদুল আলম অধ্যাপক ডা. বরেন চক্রবর্তী অধ্যাপক ডা. মতিউর রহমান অধ্যাপক ডা. মোঃ শারফুদ্দিন আহমেদ অধ্যাপক ডা. মোঃ হাবিবে মিল্লাত এমপি অধ্যাপক মেহতাব খানম অধ্যাপিকা অপু উকিল এমপি অধ্যাপক ড. হোসনে আরা বেগম আইয়ুব বাচ্চু আ খ ম জাহাঙ্গীর হোসাইন আনিস এ. খান আনোয়ার উল আলম চৌধুরী পারভেজ আনোয়ার হোসেন মঞ্জু আবদুল বাসেত মজুমদার আবু সাঈদ খান আবুল কাশেম মোঃ শিরিন আবুল কাসেম হায়দার আবুল মাল আব্দুল মুহিত আব্দুল আউয়াল মিন্টু আব্দুল মতিন খসরু এমপি আবদুল মুকতাদির আব্দুল মুয়ীদ চৌধুরী আব্দুস সালাম মুর্শেদী আমির আমির হোসেন আমু এমপি আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী আয়শা খানম আ স ম আবদুর রব আ স ম ফিরোজ আসাদুজ্জামান খান কামাল আসিফ ইব্রাহীম আলী রেজা ইফতেখার আ হ ম মুস্তফা কামাল এমপি ইউসুফ আব্দুল্লাহ হারুন ইনায়েতুর রহিম ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক এমপি ইঞ্জিনিয়ার নুরুল আকতার ইমদাদুল হক মিলন উপধ্যক্ষ মোঃ আব্দুস শহীদ এমপি এ এইচ এম নোমান এ এইছ আসলাম সানি এ কে ফাইয়াজুল হক রাজু এডভোকেট তানবীর সিদ্দিকী এডভোকেট ফজিলাতুন নেসা বাপ্পি এমপি এডভোকেট মোঃ ফজলে রাব্বী এমপি এনাম আলী এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার এমপি এম এ সবুর এম নাছের রহমান এয়ার কমডোর ইসফাক এলাহী চৌধুরী (অব.) এস এম ফজলুল হক ওয়াহিদা বানু কবরী সারোয়ার কাজী ফিরোজ রশীদ কেকা ফেরদৌসী কে. মাহমুদ সাত্তার খন্দকার রুহুল আমিন খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ খালেদ মুহিউদ্দীন খুশি কবির জুনাইদ আহমেদ পলক জোবেরা লিনু টিপু মুন্সী ড. আবুল বারকাত ড. কাজী কামাল আহমদ ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ ড. তৌফিক এম. সেরাজ ড. বদিউল আলম মজুমদার ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন ড. সাজ্জাদ জহির ড. সা’দত হুসাইন মেজর জেনারেল সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহীম (অব.) বীর প্রতীক মেজর জেনারেল হেলাল মোর্শেদ খান (অব.) বীর বিক্রম মেহের আফরোজ চুমকি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ মিথিলা ফারজানা মীর নাসির হোসেন মীর মাসরুর জামান মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন মীর শওকাত আলী বাদশা মুনিরা খান মুহাম্মদ আজিজ খান মোহাম্মদ নূর আলী মোঃ গোলাম মাওলা রনি এমপি মোঃ জসিম উদ্দিন মসিউর রহমান রাঙ্গা রাশেদ খান মেনন রাশেদা কে চৌধুরী লে. কর্ণেল মোঃ ফারুক খান (অব.) শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি শাইখ সিরাজ শাওন মাহমুদ শাজাহান খান এমপি শামসুজ্জামান খান শাহীন আনাম শারমীন মুরশিদ শুভ্র দেব শিবলী মোহাম্মদ শিরীন আখতার সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন সাঈদ খোকন সাকিব আল হাসান সাগুফতা ইয়াসমিন এমেলী সাব্বির হাসান নাসির সালমা খান সালাউদ্দিন কাশেম খান সিগমা হুদা সিলভীয়া পারভীন লিনি সুকুমার রঞ্জন ঘোষ সুরাইয়া জান্নাত সুলতানা কামাল সৈয়দ আখতার মাহমুদ সৈয়দ আবুল মকসুদ সৈয়দ মার্গুব মোর্শেদ সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান হাসানুল হক ইনু ড. সিনহা এম এ সাঈদ অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন ড. হামিদুল হক ড. হোসেন জিল্লুর রহমান ড. হোসেন মনসুর ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী ডা. অরূপরতন চৌধুরী ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী ডা. জাফরুল্লাহ্ চৌধুরী ডা. জোনাইদ শফিক ডা. মোঃ আব্দুল মতিন ডা. লুৎফর রহমান ডা. সরদার এ নাঈম ডা. সাঈদ আহমেদ সিদ্দিকী ডা. সামন্ত লাল সেন তোফায়েল আহমেদ তালেয়া রেহমান দিলরুবা হায়দার নজরুল ইসলাম খান নজরুল ইসলাম বাবু নবনীতা চৌধুরী নাঈমুর ইসলাম খান নমিতা ঘোষ নাঈমুর রহমান দূর্জয় নাসরীন আওয়াল মিন্টু নুরুল ইসলাম সুজন এমপি নুরুল কবীর নিলোফার চৌধুরী মনি এমপি প্রকোশলী তানভিরুল হক প্রবাল প্রফেসর মেরিনা জাহান ফকির আলমগীর ফরিদ আহমেদ বেগম মতিয়া চৌধুরী বিগ্রেডিয়ার জেনারেল এম সাখাওয়াত হোসেন (অব.) ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ব্যারিস্টার আমীর-উল ইসলাম ব্যারিস্টার তানিয়া আমীর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা ব্যারিস্টার সারা হোসেন ভেলরি এ টেইলর মতিউর রহমান চৌধুরী মনজিল মোরসেদ মমতাজ বেগম এমপি মামুন রশীদ মাহফুজ আনাম মাহফুজ উল্লাহ