Bangladesh Icon
আইকন সংবাদ:

বেগম সুফিয়া কামাল

বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ মহিলা কবি


 

তার নিজের কবিতা দিয়েই তার কথা বলি —

দুৰ্গম পথ পাড়ি দিয়ে যারা দুৰ্জয়ে করে জয়

তাদের পরিচয়

লিখে রাখে মহাকাল

সব যুগে যুগে, সবকালে টিকা ভাস্কর শোভে ভালে |

বন্ধুর পথ একদা তাদের পদতলে ধরে মেলে

আনন্দ শতদল

সেই তো জীবন, জয়গৌরবে হেসে ওঠে ঝলমল

এটা কবি বেগম সুফিয়া কামালের নিছক একটি কবিতা নয়, এর মাধ্যমে বিধৃত হয়েছে যেন তাঁর নিজের পরিচয়টিও। এ-যেন তাঁর প্রকৃত জীবন সংগ্রামেরও মূলকথা। এ-কথা তিনি শুধু কবিতায় বলেননি, তাঁর ১৯৭১ সালের স্মৃতিচারণেও উল্লেখ করেছেন এই বলে,

“বেঁচে আছি। ঘরে-বাইরে, অন্তরে-বাইরে, দেহমানে, সংসারে-সমাজে নানা সংগ্রামে বিক্ষত হয়ে ।”

আসলে এটাই ছিল তাঁর জীবন। যে জীবনের একাধারে ছিল কাব্যসাধনা, নন্দনচর্চা এবং অপর প্রান্তে ছিল সমাজ সংস্কার ও প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে অবিরাম সংগ্রাম। এই সংগ্রাম সতত প্রবহমান ছিল তাঁর জন্ম থেকে মৃত্যুর শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত।

এদেশের মুসলিম নারীমুক্তি আন্দোলনের যে-ধারাটির সূত্রপাত ঘটিয়েছিলেন তাঁরই অগ্রজ মহীয়সী রমণী বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন, তাঁরই সুযোগ্য উত্তরসূরি ছিলেন একালের কবি বেগম সুফিয়া কামাল।

বেগম রোকেয়াকে সংগ্রাম করতে হয়েছিল তৎকালীন সামাজিক প্রেক্ষিতে ধর্মান্ধতা, পশ্চাৎপদতা, প্রতিক্রিয়াশীলতা, হীনতা এবং সংকীর্ণতা পীড়িত সমাজের বিরুদ্ধে। আর তারই পথ ধরে বেগম সুফিয়া কামালকেও পরবর্তীকালে সাহিত্য রচনার পাশাপাশি নিজেকে যুক্ত করতে হয়েছিল মানবমুক্তির বৃহত্তর আন্দোলনের সঙ্গে। বাংলাদেশে নারীমুক্তি আন্দোলনের পুরোধা এবং কুসংস্কার-বিরোধী প্রগতিশীল নারী হিসেবে তিনি জীবিতকালেই কিংবদন্তি হয়ে উঠেছিলেন ।

মহীয়সী রমণী কবি বেগম সুফিয়া কামালের জন্ম ১৯১১ সালের ২০ জুন (বাংলা ১৩১৮ সালের ১০ আষাঢ়) ।

সেকালের সামন্ত জমিদার পরিবারে ‘পুণ্যাহ' বলে একটা উৎসব অনুষ্ঠিত হতো। বেগম সুফিয়া কামালের জন্মও হয়েছিল তেমন একটি উৎসবের দিনে বরিশাল জেলার শায়েস্তাবাদে নানার বাড়িতে। কবির পৈতৃক নিবাস ছিল ত্রিপুরা জেলার শিলাউর গ্রামে।

তাঁর নানার নাম ছিল সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন। মায়ের নাম সৈয়দা সাবেরা খাতুন। পিতা ছিলেন আবদুল বারী বি.এল.। তিনি পেশায় ছিলেন আইনজীবী। কিন্তু কবির জন্মের আগেই তিনি সংসার ত্যাগ করে দরবেশ হয়ে আল্লাহর পথে নিরুদ্দেশ হয়ে যান।

কবির ছিল এক ভাই বোন এবং এক বোন। তাঁর বড়ভাই সৈয়দ আবদুল ওয়ালী ছিলেন কবির চেয়ে তিন বছরের বড়।

সুফিয়া কামালের ডাকনাম ছিল হাসনা বানু। এ-সম্পর্কে তিনি তাঁর স্মৃতিচারণে লিখেছেন, “আমি জন্ম নেবার আগেই মায়ের মুখে হাতেম তাইয়ের কেচ্ছা’ শুনে আমার নানি আম্মা আমার নাম রেখেছিলেন হাসনা বানু। আমার নানা প্রথম বয়সে সদর থানা থেকে জর্জগিরি পর্যন্ত পড়া করে শেষ বয়সে সঠিক দরবেশ নাম অর্জন করেছিলেন। শুনেছি যেদিন আমি হলাম, নিজের হাতে আমার মুখে মধু দিয়ে তিনি আমার নাম রেখেছিলেন সুফিয়া খাতুন। কিন্তু আমার ডাকনাম হাসনা বানুটাই আমাদের পরিবারে প্ৰচলিত ।”

কবির শৈশব ও কৈশোর পারিবারিক পরিবেশেই কেটেছে। পরদানশিন পরিবারের মেয়েসন্তান হওয়ার কারণে বাল্যকালে তিনি মুক্তাঙ্গনের কোনো বিদ্যাপীঠে গমন করার সুযোগ পাননি। ঘরের মধ্যেই আরবির পাশাপাশি শিখতে শুরু করেন বাংলাভাষা। আর তখন থেকেই শুরু হয়েছিল কবিতা লেখা ও পড়ার ঝোঁক ।

এসম্পর্কেও তিনি তাঁর স্মৃতিচারণে লিখেছেন : “এমনি দিনেই কোনো বর্ষণমুখর দিনে মুসলমান সাহিত্য পত্রিকায় প্রকাশিত কাজী নজরুল ইসলামের লেখা 'হেনা' পড়ছিলাম বানান করে। প্রেম, বিরহ, মিলন এসবের মানে কি তখন বুঝি? তবু যে কী ভালো, কী ব্যথা লেগেছিল তা প্রকাশের ভাষা কি আজ আর আছে? গদ্য লেখার সেই নেশা। এরপরে প্রবাসী পত্রিকায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা (কোন কবিতাটা তা মনে নেই) চুরি করে করে প্রতি মাসের ওই পত্রিকা পড়তে পড়তে অদ্ভুত মোহগ্ৰন্ত ভাব এসে মনকে যে কোন অজানা রাজ্যে নিয়ে যেত।

“এরপরই দেখতাম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন লিখছেন, বেগম সারা তাইফুর লিখছেন। কবিতা লিখছেন বেগম মোতাহেরা বানু। মনে হলো—ওরা লিখছেন আমিও কি লিখতে পারি না? শুরু হলো লেখা লেখা খেলা। কী গোপনে কত কুষ্ঠায় ভীষণ লজ্জার সেই হিজিবিজি লেখা ছড়া গল্প। কিন্তু কোনোটাই কি মনের মতো হয়! কেউ জানবে, কেউ দেখে ফেলবে বলে ভয়ে ভাবনায় সে লেখা কত লুকিয়ে রেখে আবার দেখে দেখে নিজেই শরমে সংকুচিত হয়ে উঠি।”

মাত্ৰ সাত বছর বয়সে ১৯১৮ সালে কবির বিয়ে হয়ে যায়। তারই জ্ঞাতিভাই সৈয়দ নেহাল হোসেনের সঙ্গে । নেহাল হোসেন নিজেও ছিলেন শিক্ষা-দীক্ষা ও সাহিত্যসংস্কৃতির প্রতি উৎসাহী। স্বামীর উৎসাহে গৃহেই চলতে থাকে তাঁর পড়াশোনা এবং পাশাপাশি কাব্যচর্চা ।

বিয়ের পর তিনি স্বামীর সঙ্গে চলে যান বরিশালে । এই সময় বরিশালের বিশিষ্ট সমাজসেবক অশ্বিনীবাবুর ভাইয়ের ছেলে “তরুণ’ নামে একটি পত্রিকা বের করতেন। কবি সুফিয়া কামালের স্বামী সৈয়দ নেহাল হোসেন এই পত্রিকার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

একদিন তার স্বামী নিজেই কয়েকটি লেখা নিয়ে জমা দিলেন তরুণ’ অফিসে। তার মধ্য থেকে একটি ছাপা হয়ে বের হলো। এর থেকেই শুরু হলো বেগম সুফিয়া কামালের কবিজীবনের সূত্রপাত। এরপর থেকেই চলতে লাগল একের পর এক লেখা। গদ্য কিংবা পদ্য। বেগম সুফিয়া কামালের প্রথম গল্প সৈনিকবধূ ও ছাপা হয় তরুণ’ পত্রিকায়।

স্বামীর উৎসাহ এবং সহযোগিতা পেলেও তার সংস্কার ও রক্ষণবাদী পরিবার এটাকে ভালো চোখে দেখেনি। একজন মুসলমান পরিবারের মেয়ের কবিতা লেখাকে ভালো চোখে দেখেননি তাঁর মামা। তিনি রেগে গিয়ে সুফিয়া কামালকে বরিশাল থেকে নিয়ে যান আবার শায়েস্তাবাদে ।

কিন্তু এই বিধি-নিষেধও তাকে সাহিত্যাঙ্গন থেকে দূরে সরাতে পারেনি। মামা কোলকাতা চলে গেলে তিনি আবার বরিশাল চলে আসেন এবং শুরু করেন লেখালেখি ।

কাব্যচর্চার পাশাপাশি শুরু হলো তার সমাজসেবার কাজও । এই সময় একদিন সুকুমার দত্তের স্ত্রী বরিশাল এসে ‘মাতৃমঙ্গল শিশুসদন সমিতি’ নামে একটি সংগঠনের জন্ম দিলেন। এ-ব্যাপারে বরিশাল জেলা স্কুলে প্রায়ই সভা অনুষ্ঠিত হতো। কবি সুফিয়া কামালও এই সময় থেকে সাবিত্রী দেবীর সঙ্গে পরিচিত হবার সুযোগ পান এবং সমাজসেবার কাজে আত্মনিয়োগ করেন ।

প্রকাশ্যে তিনি সভা-সমিতিতে যোগ দিতে পারতেন না। তাই বোরখা পরে বদ্ধ ঘোড়ার গাড়িতে করে গোপনে সাবিত্রী দেবীর সঙ্গে সভাস্থলে যেতেন।

এরপর তিনি গান্ধীর আহবানে সাড়া দিয়ে চরকা-কাটা আন্দোলনেও যোগদান করেন। সেবার মহাত্মা গান্ধী বরিশাল সফরে এলে তিনি হিন্দুমেয়ের ছদ্মবেশে সিঁদুর পরে গান্ধীকে দেখতে যান।

কবি সুফিয়া কামালের জীবনের আরেকটি বড় এবং স্মরণীয় ঘটনা নারীমুক্তি আন্দোলনের অগ্রদূতী বেগম রোকেয়া সাখাওয়াতের সাক্ষাৎ লাভ। বেগম রোকেয়ার সঙ্গে যখন তার সাক্ষাৎ হয়, তখন তাঁর বয়স মাত্ৰ ৬/৭ বছর। ব্যক্তিগত জীবনে বেগম রোকেয়া ছিলেন কবির আত্মীয়। তবে রক্তের সম্পর্ক না থাকলেও দুটো পরিবারের মধ্যে কুটুম্বিতা ছিল।

মায়ের সঙ্গেই বেগম সুফিয়া কামাল গিয়েছিলেন কোলকাতায় বেগম রোকেয়ার বাসায়। মহীয়সী রোকেয়া তখন কোলকাতায় একটি বালিকা বিদ্যালয় স্থাপন করে সেখানে মুসলমান মেয়েদের পড়াশোনার ব্যবস্থা করার কাজে ব্যাপৃত। তখনও বেগম সুফিয়া কামাল আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো স্কুলে ভর্তি হননি। তাই বেগম রোকেয়া অনুরোধ করেছিলেন সুফিয়াকে তাঁর স্কুলে ভর্তি করিয়ে দিতে। কিন্তু অবস্থার প্রেক্ষিতে বেগম সুফিয়া কামাল সেদিন আনুষ্ঠানিকভাবে বেগম রোকেয়ার ছাত্রী হওয়ার সুযোগ পান নি। কিন্তু সেদিন থেকেই তিনি বেগম রোকেয়ার আদর্শকে মাথায় তুলে নিয়ে তাঁর আজীবনের শিষ্যা হয়ে গিয়েছিলেন। মূলত বেগম সুফিয়া কামাল পরবতী জীবনে যে আন্দোলন করেছিলেন, তা ছিল মূলত বেগম রোকেয়ারই আদর্শ অনুসরণের ফলাফল।

বেগম সুফিয়া কামালের আরেকটি বড় ধরনের স্মরণীয় ঘটনা 'সওগাত' পত্রিকার সঙ্গে তার যোগাযোগ ।

অবশ্য এর আগে তিনি ঢাকায় ‘অভিযান’ পত্রিকার সঙ্গে পরিচিত হয়েছিলেন। কবির ছোটমামা সৈয়দ ফজলে রাব্বী সাহেব তখন ঢাকায় পড়তে আসেন। এখানে মোহাম্মদ কাশেম সাহেব ঢাকা থেকে ‘অভিযান’ নামে একটি পত্রিকা বের করতেন। মামা সুফিয়া কামালের খাতা থেকে কবিতা কপি করে এই ‘অভিযান’ পত্রিকায় পাঠাতেন এবং তা প্রকাশিত হতো।

এর মধ্যে একদিন বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম ঢাকায় এলেন। তিনি ‘অভিযান’ পত্রিকায় এই অচেনা মুসলমান মেয়ের কবিতা পড়ে তো রীতিমতো মুগ্ধ ৷ তিনি অভিনন্দন জানিয়ে বেগম সুফিয়া কামালকে পত্র দিলেন। এই পত্রে কবি নজরুল তাঁকে এই বলে আরো অনুরোধ জানালেন যে, কোলকাতা থেকে মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন সাহেব ‘সওগাত' নামে একটি পত্রিকা বের করছেন, বেগম সুফিয়া যেন সেখানেও লেখা পাঠায় ।

তখন তিনি লিখতেন সুফিয়া এন. হোসেন নামে।

কবি নজরুলের উৎসাহেই তিনি সত্যি সত্যি কোলকাতার সওগাত পত্রিকায় কবিতা পাঠাতে শুরু করলেন এবং তা নিয়মিত প্ৰকাশিতও হতে লাগল।

এরপর কবির জীবনে ঘটে যায় এক নিদারুণ শোকাবহ ঘটনা। মৃত্যুবরণ করেন তার প্রথম স্বামী ।

এরপর তার দ্বিতীয়বার বিয়ে হয় ১৯২৯ সালে চট্টগ্রাম জেলার চুনতি গ্রামের কামালউদ্দিনের (এম.এসসি.) সঙ্গে। বিয়ের পর তিনি স্বামীর সঙ্গে কোলকাতায় চলে যান ।

কবি কাজী নজরুল ইসলাম সে-সময় কৃষ্ণনগরে থাকতেন। তিনি যখন শুনলেন। সুফিয়া কামাল কোলকাতায় গিয়ে বসবাস করতে শুরু করেছেন, তখন তিনি নিজেই এসে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এভাবেই কবি সুফিয়া কামাল কবি নজরুলের সঙ্গে পরিচিত হবার সুযোগ লাভ করেন। তিনি কবি নজরুলকে দাদু বলে ডাকতেন।

এই কবি দাদুর মাধ্যমেই 'সওগাত' পত্রিকার সঙ্গে তিনি ঘনিষ্ঠ হবার সুযোগ পান। পাশাপাশি সওগাত-সম্পাদক মোহাম্মদ নাসিরউদ্দিন সাহেবের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠ হবার সুযোগ উপস্থিত হয়। নাসিরউদ্দিন সাহেব তাকে আপনি ছোটবোনের মতোই স্নেহ করতেন এবং সকল দুঃখে তাঁর পাশে দাঁড়াতেন।

এ সময় থেকেই তিনি কবি খান মোহাম্মদ মইনুদ্দিন ও কবি বেনজীর আহমদ-এর সঙ্গেও পরিচিত হন। কবি বেনজীর আহমদের সহযোগিতা এবং উৎসাহেই বেগম সুফিয়া কামালের প্রথম কবিতার বই ‘সাঝের মায়া” এবং পরে আরো একটি কাব্যগ্রন্থ ‘কেয়ার কাটা’ প্ৰকাশিত হয় ।

তাঁর জীবনের আরেকটি স্মরণীয় ঘটনা বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সান্নিধ্য লাভ। তিনি বিশ্বকবির জন্মদিনে একটি কবিতা লিখে পাঠিয়েছিলেন জোড়ার্সাকোর ঠাকুরবাড়িতে। এর কিছুদিন পরই পত্রের উত্তর এলো তেমনি আরেকটি কবিতার মাধ্যমে ।

বিশ্বকবির কবিতা পাওয়ার এবং তাঁর সঙ্গে দেখা করার আমন্ত্রণ পেয়ে তিনি খুবই খুশি হলেন। তারপর একদিন সত্যি সত্যি দেখা করতে গেলেন কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গে ।

সেই কবিস্মৃতির কথা তিনি লিখেছেন এভাবে : “গেলাম একদিন বোরখা পরে। সে মূর্তি দেখে তিনিও বলেছিলেন, “তুমি এত ছোট, এত কচি, ভেবেছিলাম বেশ ভারিব্ধি কোনো মহিলা হবে তুমি।” আর যখন শুনলেন বরিশালে আমার বাড়ি, তখন বলেছিলেন, ‘তুমি আমার বেয়াইয়ের দেশের মানুষ। তোমার সঙ্গে আমার মধুর সম্পর্ক আর মধুর মিষ্টি তুমি’।”

তারপর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁকে “গোরা’ উপন্যাসটি উপহার দেন। এরপরও তিনি রবীন্দ্রনাথের সাক্ষাৎ সান্নিধ্য পেয়েছিলাম আরও একাধিকবার।

বেগম সুফিয়া কামাল সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি কোলকাতা করপোরেশন স্কুলে শিক্ষকতাও করতেন। তারপর যখন ১৯৪৭ সালে দেশবিভাগ হয়, তখন তিনি স্বামীর সঙ্গে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের রাজধানী ঢাকায় চলে আসেন।

পাকিস্তানে এসেও চলতে থাকে তার কাব্যচর্চা এবং সমাজসেবা । এখানেও তিনি নারীমুক্তি আন্দোলনের সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত করেন।

১৯৪৭ সালে ঢাকায় ফিরে এসেই তিনি লক্ষ্য করেন সদ্য-প্রতিষ্ঠিত মুসলিম রাষ্ট্রে বেগম রোকেয়ার নাম অনেকেই জানেন না । তিনি তখন নিজের উদ্যোগ ও উৎসাহে কোলকাতা থেকে প্রকাশিত বেগম রোকেয়ার বইপত্র ঢাকায় প্রকাশ করতে থাকেন। তাঁরই একান্ত প্রচিষ্টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেয়েদের হোস্টেলের নাম ‘রোকেয়া হল’ রাখার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

ব্রিটিশ-বিরোধী আন্দোলনের সময় তিনি ছিলেন বুদ্ধিবৃত্তিক আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত। কিন্তু পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর থেকে তিনি হন বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের সহযাত্রী।

১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলনের তিনিও ছিলেন একজন মুক্তির সৈনিক । পাকিস্তান আমলেই বেগম সুফিয়া কামাল সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের ধ্যানধারণা গ্রহণ করতে শুরু করেন এবং সোভিয়েতপন্থি বামরাজনীতির ধারার সঙ্গে তাঁর গভীর সম্পর্ক স্থাপিত হয়।

১৯৬৮ সালের অক্টোবর বিপ্লবের ৫০তম বার্ষিকী উদযাপন কমিটি গঠিত হলে বেগম সুফিয়া কামাল হন তার চেয়ারপারসন। সোভিয়েত মৈত্রী সমিতির সভানেত্রী হিসেবেও তিনি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করেছেন। দেশের নির্যাতিত, অত্যাচারিত, ধর্ষিত মাবোনেরা যাতে একটু আশ্রয় পায়, সে জন্য ছিল তাঁর একাগ্র চেষ্টা।

১৯৭১ সালে এদেশে নেমে আসে আরেক দুর্যোগের ঘনঘটা। শুরু হয় স্বাধীনতা সংগ্রাম। পাক হানাদার বাহিনী হত্যা করে এদেশের লক্ষ লক্ষ মানুষকে । তখনো সুফিয়া কামাল ঢাকাতেই ছিলেন। অনেকে তাকে পালিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতে বলেছিলেন। কিন্তু তিনি নিজের দেশ ছেড়ে বেহেশতে যেতেও রাজি ছিলেন না।

তারপর নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের পর দেশ স্বাধীন হয় । এদেশের নাম হয় “বাংলাদেশ”। কিন্তু পরাজিত শত্রুরা এই অপমান সহজে মেনে নিতে পারেনি। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট এদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করে তারা । তাদের হারানো ক্ষমতা ফিরে পায় শত্রুরা ।

পাকিস্তানের দোসররা এই সুযোগে আবার তাদের থাবা বিস্তার করতে শুরু করে। কুখ্যাত গোলাম আযমরা আবার মাঠে নামে।

বেগম খালেদা জিয়ার শাসন আমলে ১৯৯৩ সালে গঠিত হয় 'একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি’। বেগম সুফিয়া কামালের পরামর্শেই এই কমিটির সভানেত্রী নির্বাচিত হন শহীদ জননী জাহানারা ইমাম। কিন্তু তা হলেও এই কমিটি পরিচালিত সব ধরনের আন্দোলনের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে তিনি যুক্ত থেকেছেন। এমনি করে সারাটা জীবনই কেটেছে তার সংগ্রামের মধ্য দিয়ে। জীবনের শেষদিন পর্যন্ত তিনি ছিলেন সংগ্রামী । লেখার পাশাপাশি চলেছে তার সমাজের কল্যাণের জন্য অবিরাম কর্মকাণ্ড ।

তিনি ছিলেন সকলের সাহসিকা জননী” । সারাজীবন ১৬টি সংগঠনের সভানেত্রী হিসেবে কাজ করেছেন। পদক পেয়েছেন ৩২টি ।

তাঁর প্রধান প্রধান কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে : সাঁঝের মায়া, মায়া কাজল, মন ও জীবন, দিওয়ান, প্রশস্তি ও প্রার্থনা, উদাত্ত পৃথিবী, স্বনির্বাচিত কবিতা সঙ্কলন। গল্পগ্রন্থ : কেয়ার কাটা, মোর দাদুদের সমাধি পরে। ভ্ৰমণকাহিনী : সোভিয়েটের দিনগুলো । স্মৃতিচারণ : একাত্তরের ডায়েরী। শিশু-কিশোর রচনা : ইতলাবিতল, নওল কিশোর এবং একমাত্র উপন্যাস-অন্তরা ।

তাঁর প্রাপ্ত ৩২টি পুরস্কারের মধ্যে উল্লেখযোগ্যগুলো হলো : বাংলা একাডেমী পুরস্কার, একুশে পদক, সোভিয়েত ইউনিয়নের লেনিন পদক ও চেকোস্লোভাকিয়ার সংগ্রামী নারী পুরস্কার।

এই মহীয়সী নারী ও মহৎ প্ৰাণা কবির মহাপ্ৰয়াণ ঘটে ১৯৯৯ সালের ২০ নভেম্বর।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান BANGLADESH ICON আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ আতিউর রহমান বেগম রোকেয়া মোস্তাফা জব্বার ভাষা শহিদ সজীব ওয়াজেদ জয় তাজউদ্দীন আহমদ শেরে বাংলা ফজলুল হক মাওলানা ভাসানী  প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার বেগম সুফিয়া কামাল শেখ হাসিনা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হোসেন শহিদ সোহরাওয়ার্দি কাজী নজরুল ইসলাম মাস্টারদা সূৰ্য সেন ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ মণি সিংহ স্যার ফজলে হাসান আবেদ  সালমান এফ রহমান সুফী মুহাম্মদ মিজানুর রহমান মোরশেদ আলম এমপি সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী আহমেদ আকবর সোবহান জয়নুল হক সিকদার দীন মোহাম্মদ আজম জে. চৌধুরী প্রফেসর মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন সাইফুল আলম মাসুদ আলহাজ্ব এম এম এনামুল হক খলিলুর রহমান এ কে এম রহমত উল্লাহ্ ইফতেখার আহমেদ টিপু শেখ কবির হোসেন এ কে আজাদ ডাঃ মোমেনুল হক আলহাজ্ব মোঃ হারুন-উর-রশীদ কাজী সিরাজুল ইসলাম নাছির ইউ. মাহমুদ ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল আজিজ শেখ ফজলে ফাহিম প্রফেসর ড. কবির হোসেন তালুকদার মোঃ হাবিব উল্লাহ ডন রূপালী চৌধুরী হেলেন আখতার নাসরীন মনোয়ারা হাকিম আলী নাসরিন সরওয়ার মেঘলা প্রীতি চক্রবর্তী মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির ক্যাপ্টেন তাসবীরুল আহমেদ চৌধুরী এহসানুল হাবিব আলহাজ্জ্ব জাহাঙ্গীর আলম সরকার আলহাজ্ব খন্দকার রুহুল আমিন তানভীর আহমেদ ড. বেলাল উদ্দিন আহমদ মোঃ শফিকুর রহমান সেলিম রহমান মাফিজ আহমেদ ভূঁইয়া  মোঃ ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ  শহিদ রেজা আব্দুর রউফ জেপি এডভোকেট ইকবাল আহমদ চৌধুরী এ কে এম সরওয়ারদি চৌধুরী ড. এম. মোশাররফ হোসেন মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন লায়ন মোঃ মোজাম্মেল হক ভূঁইয়া মোঃ মিজানুর রহমান সায়েম সোবহান আনভীর মামুন-উর-রশিদ বি এম ইউসুফ আলী মোঃ জামিরুল ইসলাম ডক্টর হেমায়েত হোসেন মোঃ শাহ আলম সরকার ফারজানা চৌধুরী এম. সামসুজ্জামান মেজর পারভেজ হাসান (অব.) এম এ মতিন সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল মাসুদ পারভেজ খান ইমরান ড. এম এ ইউসুফ খান কাজী সাজেদুর রহমান ড. হাকীম মোঃ ইউছুফ হারুন ভূঁইয়া আলহাজ্ব মীর শাহাবুদ্দীন মোঃ মুনতাকিম আশরাফ (টিটু) মোঃ আবদুর রউফ কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ আব্দুল মাতলুব আহমাদ মোঃ মজিবর রহমান মোহাম্মদ নূর আলী সাখাওয়াত আবু খায়ের মোহাম্মদ আফতাব-উল ইসলাম মোঃ সিরাজুল ইসলাম মোল্লা এমপি প্রফেসর ড. আবু ইউসুফ মোঃ আব্দুল্লাহ মোঃ জসিম উদ্দিন বেনজীর আহমেদ মিসেস তাহেরা আক্তার পারভীন হক সিকদার নাসির এ চৌধুরী হাফিজুর রহমান খান ড. মোহাম্মদ ফারুক কাইউম রেজা চৌধুরী মোঃ সবুর খান মাহবুবুল আলম মোঃ হেলাল মিয়া সেলিমা আহমাদ নজরুল ইসলাম ড. এ এস এম বদরুদ্দোজা ড. হায়দার আলী মিয়া ইঞ্জিনিয়ার গুলজার রহমান এম জামালউদ্দিন মোঃ আব্দুল হামিদ মিয়া মোঃ হাবিবুর রহমান মোঃ মুহিব্বুর রহমান চৌধুরী মোহাম্মদ নুরুল আমিন জিয়াউর রহমান ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী শ্যামল দত্ত জ ই মামুন আনিসুল হক সামিয়া রহমান মুন্নি সাহা আব্বাসউদ্দীন আহমদ নীলুফার ইয়াসমীন ফিরোজা বেগম শাহ আব্দুল করিম ফরিদা পারভীন সরদার ফজলুল করিম আনিসুজ্জামান আখতারুজ্জামান ইলিয়াস হুমায়ূন আহমেদ সেলিম আল দীন জহির রায়হান বুলবুল আহমেদ রওশন জামিল সৈয়দ হাসান ইমাম হেলেনা জাহাঙ্গীর অঞ্জন রায় অধ্যক্ষ আব্দুল আহাদ চৌধুরী অধ্যাপক আবু আহমেদ অধ্যাপক  আবু সাইয়িদ অধ্যাপক আমেনা মহসীন অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ অধ্যাপক জয়নাল আবদিন এমপি অধ্যাপক ড. আরিফুর রহমান অধ্যাপক ড. আব্দুল মতিন পাটোয়ারী অধ্যাপক ড. ইজাজ হোসেন অধ্যাপক ড. এ কে আজাদ চৌধুরী অধ্যাপক ড. এ কে আব্দুল মোমেন অধ্যাপক ড. এম এ মান্নান অধ্যাপক ড. এম এ হাকিম অধ্যাপক ড. এম শমসের আলী অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী অধ্যাপক ড. শাহেদা ওবায়েদ অধ্যাপক ড. সদরুল আমিন অধ্যাপক ড. হাফিজ জি. এ. সিদ্দিকী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন অধ্যাপক তৌহিদুল আলম অধ্যাপক ডা. বরেন চক্রবর্তী অধ্যাপক ডা. মতিউর রহমান অধ্যাপক ডা. মোঃ শারফুদ্দিন আহমেদ অধ্যাপক ডা. মোঃ হাবিবে মিল্লাত এমপি অধ্যাপক মেহতাব খানম অধ্যাপিকা অপু উকিল এমপি অধ্যাপক ড. হোসনে আরা বেগম আইয়ুব বাচ্চু আ খ ম জাহাঙ্গীর হোসাইন আনিস এ. খান আনোয়ার উল আলম চৌধুরী পারভেজ আনোয়ার হোসেন মঞ্জু আবদুল বাসেত মজুমদার আবু সাঈদ খান আবুল কাশেম মোঃ শিরিন আবুল কাসেম হায়দার আবুল মাল আব্দুল মুহিত আব্দুল আউয়াল মিন্টু আব্দুল মতিন খসরু এমপি আবদুল মুকতাদির আব্দুল মুয়ীদ চৌধুরী আব্দুস সালাম মুর্শেদী আমির আমির হোসেন আমু এমপি আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী আয়শা খানম আ স ম আবদুর রব আ স ম ফিরোজ আসাদুজ্জামান খান কামাল আসিফ ইব্রাহীম আলী রেজা ইফতেখার আ হ ম মুস্তফা কামাল এমপি ইউসুফ আব্দুল্লাহ হারুন ইনায়েতুর রহিম ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক এমপি ইঞ্জিনিয়ার নুরুল আকতার ইমদাদুল হক মিলন উপধ্যক্ষ মোঃ আব্দুস শহীদ এমপি এ এইচ এম নোমান এ এইছ আসলাম সানি এ কে ফাইয়াজুল হক রাজু এডভোকেট তানবীর সিদ্দিকী এডভোকেট ফজিলাতুন নেসা বাপ্পি এমপি এডভোকেট মোঃ ফজলে রাব্বী এমপি এনাম আলী এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার এমপি এম এ সবুর এম নাছের রহমান এয়ার কমডোর ইসফাক এলাহী চৌধুরী (অব.) এস এম ফজলুল হক ওয়াহিদা বানু কবরী সারোয়ার কাজী ফিরোজ রশীদ কেকা ফেরদৌসী কে. মাহমুদ সাত্তার খন্দকার রুহুল আমিন খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ খালেদ মুহিউদ্দীন খুশি কবির জুনাইদ আহমেদ পলক জোবেরা লিনু টিপু মুন্সী ড. আবুল বারকাত ড. কাজী কামাল আহমদ ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ ড. তৌফিক এম. সেরাজ ড. বদিউল আলম মজুমদার ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন ড. সাজ্জাদ জহির ড. সা’দত হুসাইন মেজর জেনারেল সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহীম (অব.) বীর প্রতীক মেজর জেনারেল হেলাল মোর্শেদ খান (অব.) বীর বিক্রম মেহের আফরোজ চুমকি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ মিথিলা ফারজানা মীর নাসির হোসেন মীর মাসরুর জামান মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন মীর শওকাত আলী বাদশা মুনিরা খান মুহাম্মদ আজিজ খান মোহাম্মদ নূর আলী মোঃ গোলাম মাওলা রনি এমপি মোঃ জসিম উদ্দিন মসিউর রহমান রাঙ্গা রাশেদ খান মেনন রাশেদা কে চৌধুরী লে. কর্ণেল মোঃ ফারুক খান (অব.) শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি শাইখ সিরাজ শাওন মাহমুদ শাজাহান খান এমপি শামসুজ্জামান খান শাহীন আনাম শারমীন মুরশিদ শুভ্র দেব শিবলী মোহাম্মদ শিরীন আখতার সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন সাঈদ খোকন সাকিব আল হাসান সাগুফতা ইয়াসমিন এমেলী সাব্বির হাসান নাসির সালমা খান সালাউদ্দিন কাশেম খান সিগমা হুদা সিলভীয়া পারভীন লিনি সুকুমার রঞ্জন ঘোষ সুরাইয়া জান্নাত সুলতানা কামাল সৈয়দ আখতার মাহমুদ সৈয়দ আবুল মকসুদ সৈয়দ মার্গুব মোর্শেদ সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান হাসানুল হক ইনু ড. সিনহা এম এ সাঈদ অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন ড. হামিদুল হক ড. হোসেন জিল্লুর রহমান ড. হোসেন মনসুর ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী ডা. অরূপরতন চৌধুরী ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী ডা. জাফরুল্লাহ্ চৌধুরী ডা. জোনাইদ শফিক ডা. মোঃ আব্দুল মতিন ডা. লুৎফর রহমান ডা. সরদার এ নাঈম ডা. সাঈদ আহমেদ সিদ্দিকী ডা. সামন্ত লাল সেন তোফায়েল আহমেদ তালেয়া রেহমান দিলরুবা হায়দার নজরুল ইসলাম খান নজরুল ইসলাম বাবু নবনীতা চৌধুরী নাঈমুর ইসলাম খান নমিতা ঘোষ নাঈমুর রহমান দূর্জয় নাসরীন আওয়াল মিন্টু নুরুল ইসলাম সুজন এমপি নুরুল কবীর নিলোফার চৌধুরী মনি এমপি প্রকোশলী তানভিরুল হক প্রবাল প্রফেসর মেরিনা জাহান ফকির আলমগীর ফরিদ আহমেদ বেগম মতিয়া চৌধুরী বিগ্রেডিয়ার জেনারেল এম সাখাওয়াত হোসেন (অব.) ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ব্যারিস্টার আমীর-উল ইসলাম ব্যারিস্টার তানিয়া আমীর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা ব্যারিস্টার সারা হোসেন ভেলরি এ টেইলর মতিউর রহমান চৌধুরী মনজিল মোরসেদ মমতাজ বেগম এমপি মামুন রশীদ মাহফুজ আনাম মাহফুজ উল্লাহ