Bangladesh Icon
আইকন সংবাদ:

প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার

বাংলার প্রথম বিপ্লবী মহিলা শহিদ


১৯৩২ সালে চট্টগ্রাম পাহাড়তলির ইউরোপিয়ান ক্লাবে আক্রমণ ভারতে ইংরেজ-বিরোধী আন্দোলনের ইতিহাসের একটি অবিস্মরণীয় ঘটনা |

এই বছরেরই সেপ্টেম্বর মাসের একটি দিন। রাত তখন দশটা ৷ সন্ধ্যের পর থেকেই ইউরোপীয় ক্লাবে সাহেব-মেমব্দের আগমন শুরু হয়েছে। এখানে একমাত্র তারাই যেতে পারে। কোনো বাঙালির প্রবেশাধিকার নেই। ক্লাবের সামনে ঝোলানো নোটিশ বোর্ডে বড় বড় হরফে শেখা : “কুকুর এবং ভারতীয়দের প্রবেশ নিষেধ।”

এই সময়টায় ছিল ইংরেজদের দোর্দণ্ডপ্ৰতাপ। তারা ভারতীয়দেরকে কুকুরবেড়ালের চেয়ে বেশিকিছু ভাবতে পারত না। প্রতিটি জেলা থেকে ধরে নিয়ে গিয়ে তারা জেলে পুরছে স্বাধীনতা সংগ্রামী ভারতীয় যুবকদের। আর যারা সশস্ত্র বিপ্লবের সঙ্গে জড়িত তাদের ধরতে পারলে তো কথাই নেই। সোজা ঝুলিয়ে দিত ফাঁসিতে আর নয়তো আন্দামান দ্বীপপুঞ্জে দিত নির্বাসন। এসবের মধ্যেই যারা সাহসী বীর, তারা বিদ্রোহের পতাকা তুলে ধরছেন। এখানে-ওখানে। কাঁপিয়ে দিচ্ছেন ইংরেজ শাসনের শক্ত ভিত। চট্টগ্রামের পাহাড়তলির ইউরোপীয় ক্লাব আক্রমণও ছিল এমনি একটি ভিত কাঁপিয়ে দেওয়ার মতোই ঘটনা ।

রাত তখন আনুমানিক দশটা। ক্লাবের ভেতরে চলছে মাতাল সাহেব-মেমদের উদ্দাম নৃত্য। কোনো হঁশ-জ্ঞান নেই তাদের। এমন সময় শুরু হলো প্রচণ্ড আক্রমণ। গুলি আর বোমার আওয়াজে গোটা ক্লাব বাড়িটাই কেঁপে উঠল। পানমত্ত সাহেব। আর মেমগুলো প্রথমে আঁতকে উঠল, তারপর মারা পড়তে লাগল একে একে। তারা বুঝতে পারল, যারা চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠন করেছে, তারাই প্রতিশোধ নিতে এখন আক্রমণ করেছে এই ক্লাবে। এটা নিৰ্ঘাত বিপ্লবীদের কাজ ।

মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যাপার, এর মধ্যেই বিপ্লবীরা পুরো ক্লাব লণ্ডভণ্ড করে দিয়ে হুইসেল বাজিয়ে পলিকে মিশে গেল রাতের আঁধারে।

বিপ্লবীদের আক্রমণের নিয়ম হলো আক্রমণের আগে দলপতি যাবে অগ্রভাগে আর আক্রমণের কাজ শেষ হবার পর দলপতি যাবে সকলের পরে । তিনি থাকবেন। সকলের পেছনে । এই আক্রমণেও দলনেত্রী প্রীতিলতা ওয়াদেদার ছিলেন পেছনে। সহকমীদের আগে নিরাপদে পাঠিয়ে দিয়েছেন। এমন সময় ঘটে গেল সেই অপ্রত্যাশিত ঘটনা।

ক্লাবের ওপর যখন আক্রমণ হচ্ছিল তখন একজন সাহেব প্ৰাণ বাচানোর জন্য ক্লাবের লাগোয়া পশ্চিমদিকের নালায় লাফিয়ে পড়ে যান। তার হাতে ছিল পিস্তল । তিনি নালার মধ্যে থেকেই লক্ষ্য করছিলেন আক্রমণকারীরা ক্লাব লণ্ডভণ্ড করে দিয়ে চলে যাচ্ছে। সবাই পালিয়ে গেছে। একজন তখনো পেছনে পড়ে আছে। সেই সাহেব তখন পেছনের সেই বিপ্লবীকে লক্ষ্য করেই গুলি চালালেন। গুলিটা সোজা গিয়ে লাগল গ্ৰীতিলতার বুকে । তিনি গুলি খেয়ে পড়ে গেলেন মাটিতে। বুঝতে পারলেন, এ অবস্থায় তাঁর পক্ষে পালানো সম্ভব নয়। তাঁকে নিৰ্ঘাত ধরা পড়ে যেতে হবে। এক্ষুনি পুলিশ এসে ঘিরে ধরবে। কিন্তু পুলিশের হতে ধরা পড়লে নাজেহাল হতে হবে। তাঁকে অত্যাচার করে সত্য কথা বের করার চেষ্টা করা হবে।

পুলিশের হাত থেকে বাঁচার জন্য প্রীতিলতা পকেট থেকে বের করলেন মারাত্মক বিষ পটাশিয়াম সায়ানাইড। বিষের পুরিয়া মুখে পুরে দিয়ে তিনি এবার নিশ্চিন্তে ঢালে পড়লেন মৃত্যুর কোলে।

কিছুক্ষণের মধ্যেই পুলিশ আর মিলিটারি এসে ঘিরে ফেলল। তাকে । তারা দেখল সামরিক পোশাক পরিহিত এক বিপ্লবী রাস্তায় লুটিয়ে পড়ে আছে। কিন্তু তাকে শনাক্ত করতে গিয়ে তারা বিস্ময়ে হতবাক হলো : এ যে একজন নারী! মাথার পাগড়ি খুলতেই বের হয়ে পড়ল তাঁর মাথার লম্বা চুল।

সে-যুগের প্রথম বিপ্লবী নারী শহিদ গ্ৰীতিলতা ওয়াদেদার।

পুলিশ তাঁর দেহতল্লাশি করে যেসব জিনিস পেয়েছিল, সেগুলো হলো:

১. একটি হুইসেল।

২. মাথার পাগড়ি।

৩. পাহাড়তলি ইউরোপিয়ান ক্লাবের একটি গ্লাস।

৪. প্রীতিলতার ছবিসহ ভারতীয় রিপাবলিকান আর্মির চট্টগ্রাম শাখার সভাপতি সূর্যসেনের সই করা লাল রঙের একটি ইশতেহার এবং

৫. প্রীতিলতার নিজের হাতের লেখা একটি বিবৃতি।

প্রীতিলতার বিবৃতির অংশবিশেষ ছিল নিম্নরূপ-

“…আমরা দেশের মুক্তির জন্যই এই সশস্ত্র যুদ্ধ করিতেছি। অদ্যকার পাহাড়তলি ইউরোপিয়ান  ক্লাব আক্রমণ স্বাধীনতা যুদ্ধের একটি অংশ।

“ব্রিটিশ জোরপূর্বক আমাদের স্বাধীনতা ছিনাইয়া লইয়াছে। ভারতের কোটি কোটি নরনারীর রক্ত শোষণ করিয়া তাহারা দেশে নিদারুণ দুৰ্দশার সৃষ্টি করিয়াছে। তাহারাই অধঃপতনের একমাত্র কারণ। সুতরাং তাহারাই আমাদের একমাত্র শত্রু  । স্বাধীনতা লাভ করিবার পথে তাহারাই আমাদের একমাত্র অন্তরায়। যদিও মানুষের জীবন সংহার করা অন্যায়, তবু বাধ্য হইয়া বড়ো বড়ো সরকারি কর্মচারীর ও ইংরেজদের জীবন সংহার করিতে আমরা অস্ত্ৰ ধারণ করিয়াছি। মুক্তিপথের যে-কোনো বাধা বা অন্তরায় যে-কোনো উপায়ে দূর করিবার জন্য আমরা সংগ্রাম করিতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

নারীরা আজ কঠোর সংকল্প লইয়াছে যে, আমার দেশের ভগিনীরা আজ নিজেকে দুর্বল মনে করিবেন না। সশস্ত্ৰ ভারতীয় নারী সশস্ত্র বিপদ ও বাধাকে চূৰ্ণ করিয়া এই বিদ্রোহ ও সশস্ত্র মুক্তি আন্দােলনে যোগদান এবং তাহার জন্য নিজেকে তৈয়ারি করিবেন। এই আশা লইয়া আমি আজ আত্মদানে অগ্রসর হইলাম।”

(স্বাক্ষর)

প্রীতিলতা ওয়াদেদার

২৩শে সেপ্টেম্বর, ১৯৩২

বীরত্বপূর্ণ এই ঘটনা দেশ জুড়ে প্রচণ্ড আলোড়নের সৃষ্টি করেছিল। এমনকি ইংরেজদের সাপ্তাহিক ‘ইংলিশম্যান’ কাগজেও এই সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল ফলাও করে। এই দুঃসাহসিক কাহিনীর যিনি নায়িকা, তার নাম বিপ্লবী প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার।

প্রীতিলতার জন্ম চট্টগ্রামের বোয়ালখালী থানার পোয়াদিয়া গ্রামে ১৯১১ সালের ৫ মে। তিনি ছিলেন এক নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তান। বাবা জগদ্বন্ধু ওয়াদেদার ছিলেন চট্টগ্রাম মিউনিসিপ্যালটির হেডক্লার্ক। মা প্ৰতিভা দেবী । তাদের ছিল একটি মাটির তৈরি দোতলা ঘর ।

জগদ্বন্ধুর প্রথম সন্তান ছেলে। দ্বিতীয় সন্তানই গ্ৰীতিলতা (ডাকনাম রাণী)। নাম রাণী হলে কী হবে, গায়ের রং ছিল কালো। তাই দেশের স্বাভাবিক পারিবারিক অবস্থায় বাবা-মায়ের খুশি হবার কথা নয়। তবু তারা মেয়েকে ভয়ানক আদর করতেন।

প্রীতিলতারা ছিলেন তিন বোন এক ভাই । মা-বাবা চাইছিলেন তাদের ছেলেমেয়েদের সবাই শিক্ষিত হয়ে উঠুক এবং যে যার পায়ে দাঁড়াতে শিখুক ।

প্রীতিলতা বাল্যকালে ভর্তি হন। শহরের ডা. খাস্তগীর উচ্চ ইংরেজি বালিকা বিদ্যালয়ে। তিনি পড়াশোনায় ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী। স্কুলের তৃতীয় শ্রেণী থেকেই প্রথম স্থান অধিকার করতে থাকেন। তখন থেকেই দেশের স্বাধীনতার সংগ্রাম জোরদার হতে থাকে। যদিও সবকিছু তখনি বুঝে উঠতে পারেননি প্রীতিলতা; কিন্তু দেশের জন্য মমত্ববােধ তখনই তাঁর মনে ঠাই পেতে শুরু করেছিল। এ-ধরনের একটি পরিবেশেই বড় হতে থাকেন তিনি।

এরই মধ্যে একটি বড় ঘটনা ঘটে। পাহাড়তলি রেলওয়ে কারখানার শ্রমিকদের মাসিক বেতনের সতেরো হাজার টাকা নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল ঘোড়ার গাড়িতে করে। পথে বিপ্লবীরা তা ছিনতাই করে নিয়ে যায়। এ-নিয়ে শহরে শুরু হয় প্রচণ্ড আলোড়নের। কাজটা ছিল স্বদেশীদের । ইংরেজরা স্বদেশীদের তখন ডাকাত নামে আখ্যা দিত।

প্রীতিলতা বাবা আর মায়ের মুখে শোনে সে কথা। এই ডাকাতদের প্রতি তাঁর কোনো রাগ হয় না। প্রীতিলতাও বোঝে। এরা নিছক ডাকাত নয়। এরা দেশের মঙ্গলের জন্যই এসব করছে। অন্তর থেকে মমতা ঝরে পড়ে কিশোরী প্রীতিলতারও ৷

এই সময় আরেকটা ঘটে ঘটল। প্রীতিলতার এক খুড়তুতো ভাই কলেজিয়েট স্কুলের দশম শ্রেণীর ছাত্ৰ। আগে থেকেই বিপ্লবী দলের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল । সে-ই একদিন এসে খবর দিল, চট্টগ্রামে টাকা লুট করেছে যারা, সেই উমাতারা হাইস্কুলের মাস্টারমশাই সূর্যসেন, তাঁর সঙ্গী অম্বিকা চক্রবর্তী, এদের ধরা হয়েছে। তাদের মামলা উঠেছে কোর্টে। তাদের পক্ষে মামলা পরিচালনা করার জন্য কোলকাতা থেকে এসেছেন। যতীন্দ্রমোহন সেন। খুব বড় উকিল। মামলায় তারা খালাস হয়ে গেল জেরার জোরে।

এই সূর্যসেন ও অম্বিকা চক্রবতীর মামলা মনকে খুব নাড়া দিয়ে গেল গ্ৰীতিলতার। তাঁর মনে স্বদেশপ্রেম জাগানাের ক্ষেত্রে আরেকটি বড় ভূমিকা পালন করেছিল স্কুলের শিক্ষিকা উষাদি। তিনিই প্রীতিলতার কাছে নানা গল্প করতেন। এসবের মধ্যে থাকত দেশের কথা, ইংরেজ অত্যাচারের কথা। একদিন তিনি প্রীতিলতাকে এনে পড়তে দিলেন একটি বই : ‘ব্বাসির রাণী লক্ষ্মীবাঈ'। গ্ৰীতিলতা পড়ে দেখল। সেই বীরত্বপূর্ণ আত্মত্যাগের কথা ।

এই উষাদিই বলতেন, স্কুলে যে ইতিহাস পড়ানো হয়, তাতে সত্যকথা লেখা থাকে না। তাই এ জাতীয় বই পড়তে হবে।

চট্টগ্রাম বিপ্লবী দলে কোনো মেয়ে-সদস্য ছিল না। গ্ৰীতির এক আত্মীয়, সম্পর্কে বড়ভাই, একদিন তাকে গোপনে কিছু বইপত্র ও কাগজ দিয়ে গেল রেখে দেওয়ার জন্য। কোনো মেয়েকে এ-কাজে জড়ানো হবে কী না, সেকথা সে পাটির নেতাদের জিগ্যোস করেনি। প্রীতিলতা কাজটা করতে রাজি হয়ে গেল ।

বিপ্লবী কাজে এটাই প্রীতিলতার প্রথম সরাসরি অংশগ্রহণ। এসবের মধ্যে কিছু বই ছিল, যেগুলোর নাম “দেশের কথা”, “বাঘা যতীন”, “ক্ষুদিরাম” আর “কানাইলাল”। বইগুলো যে বেআইনি, দাদা সেকথা বলেননি। গ্ৰীতিলতা তাই কিছু মনে না করেই বইগুলো পড়ে ফেলেছিলেন। রাতে সবাই যখন ঘুমিয়ে পড়ত, তখন নিবুনিবু হারিকেনের আলোয় বইগুলো পড়ে শেষ করলেন তিনি। পড়তে তাঁর সময় লাগল মাসখানেক ।

একদিন দুপুরবেলা গাছের ছায়ায় বসে চুপি চুপি “বাঘা যতীন' বইটি পড়ার সময় ধরা পড়ে যান দাদার কাছে। তখন তাঁর কী কাচুমাচু অবস্থা! তবে যেদিন দাদার কাছে ধরা পড়ে যান, সেদিন তাঁর সঙ্গে অনেক কথা হলো প্রীতিলতার। দাদা তাকে দেশের কথা, সংগ্রামের কথা শোনালেন। শোনালেন তাদের দলের কথাও। কথা সূর্যসেনের।

চট্টগ্রামের স্কুল থেকে প্রথমবিভাগে প্রবেশিকা পরীক্ষায় পাস করলেন গ্ৰীতিলতা। তারপর ঢাকায় এসে ভর্তি হলেন ইডেন কলেজে। খাওয়া-থাকা বাবদ মাসিক খরচ দশ টাকা ।

ঢাকার ইডেন কলেজে শ্রীসংঘ নামে একটি বিপ্লবী দল আগে থেকেই ছিল। এই দলের নেতা ছিলেন অনিল রায়। তাদের উদ্যোগে ব্যায়াম, লাঠিখেলা ও কুস্তি ইত্যাদি শেখানো হতো ।

শ্ৰীসংঘের একটি মহিলা শাখাও ছিল—“দীপালি সংঘ’। এই সংগঠনের নেত্রী ছিলেন লীলা নাগ । এই মহীয়সীর সঙ্গে সম্পর্কের কারণেই প্রীতিলতা দীপালি সংঘের সদস্য হন । এ-ব্যাপারে তাকে আরো সহযোগিতা করেছিলেন একজন কলেজ অধ্যাপিকা । তিনি সদস্য হওয়ার ফরম এনে দিয়ে প্রীতিলতাকে দীপালি সংঘের নিয়মিত সদস্য করে নেন ।

ঢাকায় দুবছর কেটে গেল। তিনি ইন্টারমেডিয়েট পরীক্ষায় মেয়েদের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করে কোলকাতায় এসে ভর্তি হলেন বেথুন কলেজে। এখান থেকেই বি. এ. পরীক্ষায় ডিস্টিংশন নিয়ে পাস করেন। তারপর চট্টগ্রামে ফিরে এসে নন্দনকানন স্কুলের প্রধান শিক্ষিকার পদে চাকরি নিলেন।

আগে মাস্টারদা সূর্যসেনের নাম শুনে থাকলেও গ্ৰীতিলতা যখন চট্টগ্রামে এসে স্থায়ীভাবে চাকরি নিয়ে বসলেন, তখন থেকেই তাঁর সঙ্গে সূর্যসেনের বিপ্লবী দলের যোগাযোগ ঘনিষ্ঠ হয়। অস্ত্রাগার দখলের আগে মাস্টারদার নির্দেশে নানা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে দেওয়া হয় তাঁকে ।

তবে মাস্টারদা কর্তৃক অস্ত্রাগার আক্রমণে অংশগ্রহণের পরপরই গ্ৰীতিলতা প্রত্যক্ষ বৈপ্লবিক কাজের দায়িত্ব লাভ করেন। তিনি জেলে বন্দি ও জেলের বাইরে আত্মগোপনকারী বিপ্লবীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন।

মাস্টারদা ধলঘাটে আত্মগোপন করলে প্রীতিলতা তার সঙ্গে যোগাযোগ করার দায়িত্ব লাভ করেন। ১৯৩২ সালের জুন মাসে ধলঘাটে বিপ্লবী দলের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এই সংঘর্ষে সরকারপক্ষের ক্যাপ্টেন ক্যামেরুন এবং বিপ্লবীদলের নির্মল সেন ও অপূর্ব সেন মৃত্যুবরণ করেন।

মাস্টারদা ও প্রীতিলতা পালিয়ে জঙ্গলে প্রবেশ করে গ্রেপ্তার এড়াতে সক্ষম হন। এরপর থেকেই গ্ৰীতিলতাকে গ্রেপ্তারের জন্য পুরস্কার ঘোষণা করা হয়।

বিপ্লবী দলের এর পরের লক্ষ্য ছিল চট্টগ্রাম পাহাড়তলির ইউরোপীয় ক্লাব আক্রমণ । কিন্তু প্ৰস্তুতি নিয়েও এতদিন কাজটা সম্পন্ন করা যায়নি। মাস্টারদা এই কাজটি সম্পন্ন করতেই দায়িত্ব অর্পণ করেন প্রীতিলতাকে ।

উল্লেখ্য, চট্টগ্রামের সাহেব-মেমদের ক্লাব সম্পর্কে প্রীতিলতাই প্রথম মাস্টারদাকে অভিযোগ শুনিয়েছিলেন। বলেছিলেন, দেশের মানুষজনের সঙ্গে সাহেবরা যে দুর্ব্যবহার করে, তার জবাব দিতে। জবাব দানের এই দায়িত্ব লাভ করলেন প্রীতিলতাই।

মাস্টারদার নির্দেশে গ্ৰীতিলতা একদল বিপ্লবী নিয়ে পাহাড়তলি ইউরোপীয় ক্লাব আক্রমণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। দিন স্থির হয় ১৯৩২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর। সন্ধের পর ক্লাব জমে উঠেছে। নাচে-গানে আর মদের নেশায় সাহেব-মেমরা তখন মাতোয়ারা। ক্লাবের ভেতরে উন্মত্ত উল্লাসে মেতে উঠেছে তারা। জানালার আড়াল থেকে সবই দেখতে পাচ্ছেন প্রীতিলতা। তীব্ৰ আক্ৰোশে দাঁতে দাঁত পোষেন। তিনি। অপেক্ষা করতে থাকেন উপযুক্ত সময়ের। তার পরই চূর্ণ হবে শ্বেতাঙ্গদের দম্ভ ।

এবার নিজেকে সম্পূর্ণ প্রস্তুত করে নিলেন গ্ৰীতিলতা। বিপ্লবের লক্ষ্য একটাই : কর্তব্য সাধন এবং আত্মবলিদান। মাস্টারদার এই শিক্ষা প্রীতিলতার রক্তের সঙ্গে মিশে আছে।

নানাদিকে ছড়িয়ে আছে তাঁর সহযোদ্ধারা। নেত্রীর নির্দেশের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে সবাই। সহসা গর্জন করে ওঠে প্রীতিলতার অস্ত্র। ক্লাবের ভেতরে লুটিয়ে পড়ল একজন। সংকেত পেয়ে অন্য সহযোদ্ধারাও গুলিবর্ষণ শুরু করে ।

মুহুর্তে চারদিক লণ্ডভণ্ড। সাহেবদের আনন্দ-কোলাহল মুহুর্তে পরিণত হয় যন্ত্রণাকাতর আর্তনাদে। নিহত হন। অনেকে। অনেকে হন আহত এবং পালিয়ে যান। কেউ কেউ ।

প্রীতিলতার নির্দেশে এবার স্থানত্যাগ করল তার সহযোদ্ধারা। আগে তিনি সহকমীদের নিরাপদে সরিয়ে দিলেন দূরে। তিনি যে নেত্রী! সহকমীদের নিরাপত্তা আগে ।

এমন সময় একটি গুলি এসে আঘাত করে প্রীতিলতার গায়ে। তিনি লুটিয়ে পড়েন। আহত অবস্থায়ও ছুটে পালাতে পারতেন। তিনি। কিন্তু পুলিশ ঘিরে ফেলে তাকে চারপাশ থেকে |

আর কোনো উপায় নেই দেখে তিনি পটাশিয়াম সায়ানাইড খেয়ে আত্মহত্যা করেন, যাতে তাকে পুলিশের হাতে জীবিত ধরা পড়তে না হয়।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান BANGLADESH ICON আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ আতিউর রহমান বেগম রোকেয়া মোস্তাফা জব্বার ভাষা শহিদ সজীব ওয়াজেদ জয় তাজউদ্দীন আহমদ শেরে বাংলা ফজলুল হক মাওলানা ভাসানী  প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার বেগম সুফিয়া কামাল শেখ হাসিনা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হোসেন শহিদ সোহরাওয়ার্দি কাজী নজরুল ইসলাম মাস্টারদা সূৰ্য সেন ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ মণি সিংহ স্যার ফজলে হাসান আবেদ  সালমান এফ রহমান সুফী মুহাম্মদ মিজানুর রহমান মোরশেদ আলম এমপি সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী আহমেদ আকবর সোবহান জয়নুল হক সিকদার দীন মোহাম্মদ আজম জে. চৌধুরী প্রফেসর মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন সাইফুল আলম মাসুদ আলহাজ্ব এম এম এনামুল হক খলিলুর রহমান এ কে এম রহমত উল্লাহ্ ইফতেখার আহমেদ টিপু শেখ কবির হোসেন এ কে আজাদ ডাঃ মোমেনুল হক আলহাজ্ব মোঃ হারুন-উর-রশীদ কাজী সিরাজুল ইসলাম নাছির ইউ. মাহমুদ ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল আজিজ শেখ ফজলে ফাহিম প্রফেসর ড. কবির হোসেন তালুকদার মোঃ হাবিব উল্লাহ ডন রূপালী চৌধুরী হেলেন আখতার নাসরীন মনোয়ারা হাকিম আলী নাসরিন সরওয়ার মেঘলা প্রীতি চক্রবর্তী মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির ক্যাপ্টেন তাসবীরুল আহমেদ চৌধুরী এহসানুল হাবিব আলহাজ্জ্ব জাহাঙ্গীর আলম সরকার আলহাজ্ব খন্দকার রুহুল আমিন তানভীর আহমেদ ড. বেলাল উদ্দিন আহমদ মোঃ শফিকুর রহমান সেলিম রহমান মাফিজ আহমেদ ভূঁইয়া  মোঃ ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ  শহিদ রেজা আব্দুর রউফ জেপি এডভোকেট ইকবাল আহমদ চৌধুরী এ কে এম সরওয়ারদি চৌধুরী ড. এম. মোশাররফ হোসেন মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন লায়ন মোঃ মোজাম্মেল হক ভূঁইয়া মোঃ মিজানুর রহমান সায়েম সোবহান আনভীর মামুন-উর-রশিদ বি এম ইউসুফ আলী মোঃ জামিরুল ইসলাম ডক্টর হেমায়েত হোসেন মোঃ শাহ আলম সরকার ফারজানা চৌধুরী এম. সামসুজ্জামান মেজর পারভেজ হাসান (অব.) এম এ মতিন সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল মাসুদ পারভেজ খান ইমরান ড. এম এ ইউসুফ খান কাজী সাজেদুর রহমান ড. হাকীম মোঃ ইউছুফ হারুন ভূঁইয়া আলহাজ্ব মীর শাহাবুদ্দীন মোঃ মুনতাকিম আশরাফ (টিটু) মোঃ আবদুর রউফ কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ আব্দুল মাতলুব আহমাদ মোঃ মজিবর রহমান মোহাম্মদ নূর আলী সাখাওয়াত আবু খায়ের মোহাম্মদ আফতাব-উল ইসলাম মোঃ সিরাজুল ইসলাম মোল্লা এমপি প্রফেসর ড. আবু ইউসুফ মোঃ আব্দুল্লাহ মোঃ জসিম উদ্দিন বেনজীর আহমেদ মিসেস তাহেরা আক্তার পারভীন হক সিকদার নাসির এ চৌধুরী হাফিজুর রহমান খান ড. মোহাম্মদ ফারুক কাইউম রেজা চৌধুরী মোঃ সবুর খান মাহবুবুল আলম মোঃ হেলাল মিয়া সেলিমা আহমাদ নজরুল ইসলাম ড. এ এস এম বদরুদ্দোজা ড. হায়দার আলী মিয়া ইঞ্জিনিয়ার গুলজার রহমান এম জামালউদ্দিন মোঃ আব্দুল হামিদ মিয়া মোঃ হাবিবুর রহমান মোঃ মুহিব্বুর রহমান চৌধুরী মোহাম্মদ নুরুল আমিন জিয়াউর রহমান ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী শ্যামল দত্ত জ ই মামুন আনিসুল হক সামিয়া রহমান মুন্নি সাহা আব্বাসউদ্দীন আহমদ নীলুফার ইয়াসমীন ফিরোজা বেগম শাহ আব্দুল করিম ফরিদা পারভীন সরদার ফজলুল করিম আনিসুজ্জামান আখতারুজ্জামান ইলিয়াস হুমায়ূন আহমেদ সেলিম আল দীন জহির রায়হান বুলবুল আহমেদ রওশন জামিল সৈয়দ হাসান ইমাম হেলেনা জাহাঙ্গীর অঞ্জন রায় অধ্যক্ষ আব্দুল আহাদ চৌধুরী অধ্যাপক আবু আহমেদ অধ্যাপক  আবু সাইয়িদ অধ্যাপক আমেনা মহসীন অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ অধ্যাপক জয়নাল আবদিন এমপি অধ্যাপক ড. আরিফুর রহমান অধ্যাপক ড. আব্দুল মতিন পাটোয়ারী অধ্যাপক ড. ইজাজ হোসেন অধ্যাপক ড. এ কে আজাদ চৌধুরী অধ্যাপক ড. এ কে আব্দুল মোমেন অধ্যাপক ড. এম এ মান্নান অধ্যাপক ড. এম এ হাকিম অধ্যাপক ড. এম শমসের আলী অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী অধ্যাপক ড. শাহেদা ওবায়েদ অধ্যাপক ড. সদরুল আমিন অধ্যাপক ড. হাফিজ জি. এ. সিদ্দিকী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন অধ্যাপক তৌহিদুল আলম অধ্যাপক ডা. বরেন চক্রবর্তী অধ্যাপক ডা. মতিউর রহমান অধ্যাপক ডা. মোঃ শারফুদ্দিন আহমেদ অধ্যাপক ডা. মোঃ হাবিবে মিল্লাত এমপি অধ্যাপক মেহতাব খানম অধ্যাপিকা অপু উকিল এমপি অধ্যাপক ড. হোসনে আরা বেগম আইয়ুব বাচ্চু আ খ ম জাহাঙ্গীর হোসাইন আনিস এ. খান আনোয়ার উল আলম চৌধুরী পারভেজ আনোয়ার হোসেন মঞ্জু আবদুল বাসেত মজুমদার আবু সাঈদ খান আবুল কাশেম মোঃ শিরিন আবুল কাসেম হায়দার আবুল মাল আব্দুল মুহিত আব্দুল আউয়াল মিন্টু আব্দুল মতিন খসরু এমপি আবদুল মুকতাদির আব্দুল মুয়ীদ চৌধুরী আব্দুস সালাম মুর্শেদী আমির আমির হোসেন আমু এমপি আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী আয়শা খানম আ স ম আবদুর রব আ স ম ফিরোজ আসাদুজ্জামান খান কামাল আসিফ ইব্রাহীম আলী রেজা ইফতেখার আ হ ম মুস্তফা কামাল এমপি ইউসুফ আব্দুল্লাহ হারুন ইনায়েতুর রহিম ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক এমপি ইঞ্জিনিয়ার নুরুল আকতার ইমদাদুল হক মিলন উপধ্যক্ষ মোঃ আব্দুস শহীদ এমপি এ এইচ এম নোমান এ এইছ আসলাম সানি এ কে ফাইয়াজুল হক রাজু এডভোকেট তানবীর সিদ্দিকী এডভোকেট ফজিলাতুন নেসা বাপ্পি এমপি এডভোকেট মোঃ ফজলে রাব্বী এমপি এনাম আলী এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার এমপি এম এ সবুর এম নাছের রহমান এয়ার কমডোর ইসফাক এলাহী চৌধুরী (অব.) এস এম ফজলুল হক ওয়াহিদা বানু কবরী সারোয়ার কাজী ফিরোজ রশীদ কেকা ফেরদৌসী কে. মাহমুদ সাত্তার খন্দকার রুহুল আমিন খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ খালেদ মুহিউদ্দীন খুশি কবির জুনাইদ আহমেদ পলক জোবেরা লিনু টিপু মুন্সী ড. আবুল বারকাত ড. কাজী কামাল আহমদ ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ ড. তৌফিক এম. সেরাজ ড. বদিউল আলম মজুমদার ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন ড. সাজ্জাদ জহির ড. সা’দত হুসাইন মেজর জেনারেল সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহীম (অব.) বীর প্রতীক মেজর জেনারেল হেলাল মোর্শেদ খান (অব.) বীর বিক্রম মেহের আফরোজ চুমকি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ মিথিলা ফারজানা মীর নাসির হোসেন মীর মাসরুর জামান মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন মীর শওকাত আলী বাদশা মুনিরা খান মুহাম্মদ আজিজ খান মোহাম্মদ নূর আলী মোঃ গোলাম মাওলা রনি এমপি মোঃ জসিম উদ্দিন মসিউর রহমান রাঙ্গা রাশেদ খান মেনন রাশেদা কে চৌধুরী লে. কর্ণেল মোঃ ফারুক খান (অব.) শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি শাইখ সিরাজ শাওন মাহমুদ শাজাহান খান এমপি শামসুজ্জামান খান শাহীন আনাম শারমীন মুরশিদ শুভ্র দেব শিবলী মোহাম্মদ শিরীন আখতার সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন সাঈদ খোকন সাকিব আল হাসান সাগুফতা ইয়াসমিন এমেলী সাব্বির হাসান নাসির সালমা খান সালাউদ্দিন কাশেম খান সিগমা হুদা সিলভীয়া পারভীন লিনি সুকুমার রঞ্জন ঘোষ সুরাইয়া জান্নাত সুলতানা কামাল সৈয়দ আখতার মাহমুদ সৈয়দ আবুল মকসুদ সৈয়দ মার্গুব মোর্শেদ সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান হাসানুল হক ইনু ড. সিনহা এম এ সাঈদ অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন ড. হামিদুল হক ড. হোসেন জিল্লুর রহমান ড. হোসেন মনসুর ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী ডা. অরূপরতন চৌধুরী ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী ডা. জাফরুল্লাহ্ চৌধুরী ডা. জোনাইদ শফিক ডা. মোঃ আব্দুল মতিন ডা. লুৎফর রহমান ডা. সরদার এ নাঈম ডা. সাঈদ আহমেদ সিদ্দিকী ডা. সামন্ত লাল সেন তোফায়েল আহমেদ তালেয়া রেহমান দিলরুবা হায়দার নজরুল ইসলাম খান নজরুল ইসলাম বাবু নবনীতা চৌধুরী নাঈমুর ইসলাম খান নমিতা ঘোষ নাঈমুর রহমান দূর্জয় নাসরীন আওয়াল মিন্টু নুরুল ইসলাম সুজন এমপি নুরুল কবীর নিলোফার চৌধুরী মনি এমপি প্রকোশলী তানভিরুল হক প্রবাল প্রফেসর মেরিনা জাহান ফকির আলমগীর ফরিদ আহমেদ বেগম মতিয়া চৌধুরী বিগ্রেডিয়ার জেনারেল এম সাখাওয়াত হোসেন (অব.) ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ব্যারিস্টার আমীর-উল ইসলাম ব্যারিস্টার তানিয়া আমীর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা ব্যারিস্টার সারা হোসেন ভেলরি এ টেইলর মতিউর রহমান চৌধুরী মনজিল মোরসেদ মমতাজ বেগম এমপি মামুন রশীদ মাহফুজ আনাম মাহফুজ উল্লাহ